আমরা সবসময় হাওড়ে যাই শীতে। কারণ তখন হাওড়ে পাখি আসে। বর্ষায় হাওড়ে আমরা কমই যাই। তবে চাকরির সুবাদে গত বর্ষায় আমার যাওয়া হলো দুটো হাওড়ে, হাকালুকি আর টাঙ্গুয়া। টাঙ্গুয়া হাওড়ের পথে সুনামগঞ্জ শহরে রাত্রিযাপন করতে হয়েছিল। ভোরে উঠে ক্যামেরা নিয়ে বসেছিলাম বারান্দায়। হঠাৎই একটা ঝুঁটি-শালিক এসে দূরে একটা গাছে বসল। মনে হলো শালিকের রঙটা অস্বাভাবিক রকমের গাঢ়। পাখিটা একেবারে কাছের একটা গাছে এসে বসেছে। তাই অনেক বড় মনে হয়েছে। আমি পাখিটার অনেকগুলো ছবি তুলেছি। তবে ঝুঁটি-শালিক ভেবে কাউকে দেখাবার প্রয়োজন বোধ করিনি।

ঢাকায় ফিরে কিছুদিন পর ছবিটা দেখালাম, অন্যদের দেখালাম। অনেকে বলল, পাখিটা ঝুঁটি-শালিক নাও হতে পারে। ইন্টারনেটের ছবির সাথে মিলিয়ে সন্দেহটা আরো বাড়ল। মনে পাখিটা ঝুঁটি-শালিক নয়; ধলাতলা-শালিক হতে পারে। ধলাতলা-শালিক বাংলাদেশে বিরল একটা পাখি এবং এর দেখা মিলেছে শুধু পতেঙ্গা এলাকায়। এখন আমার ধারণা যাচাই করার জন্য অন্যের মতামত দরকার। তাই পাখির একটা ছবি সায়াম ভাইকে পাঠালাম। তিনি বললেন, দেখতে অন্যরকম হলেও এটা ঝুঁটি-শালিক। পরদিন তাঁকে একটা ক্লোজ-আপ ছবি পাঠালাম। আবার তাঁর মতামত পেলাম, পাখিটি ঝুঁটি-শালিক।

ধলাতলা-শালিকধলাতলা-শালিক

আমার পাঠানো ছবি দুটির মান খুব একটা ভাল ছিল না; তাই শনাক্ত করতে অসুবিধা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই তৃতীয়বারের মতো পাখির ছবি পরীক্ষা করার অনুরোধ জানালাম। সায়াম ভাই বললেন, দুতিন জন পাখি-বিজ্ঞানীকে তিনি আমার তোলা ছবি পাঠাবেন। তার কিছুদিন পর তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে বললেন যে পাখিটি ধলাতলা-শালিক হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। ধলাতলা-শালিক মেঘালয় ও আসামে দেখা যায়। সুনামগঞ্জ শহরে এর আবির্ভাব অবিশ্বাস্য কিছু নয়। তবে এতদিন আমাদের কারো চোখে পড়েনি। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাইরে এদেশে এই প্রথম একে দেখা গেল।