I HEAR America singing, the varied carols I hear; 
Those of mechanics—each one singing his, as it should be, blithe and strong; 
The carpenter singing his, as he measures his plank or beam, 
The mason singing his, as he makes ready for work, or leaves off work; 
The boatman singing what belongs to him in his boat—the deckhand singing on the steamboat deck; 
The shoemaker singing as he sits on his bench—the hatter singing as he stands; 
The wood-cutter’s song—the ploughboy’s, on his way in the morning, or at the noon intermission, or at sundown; 
The delicious singing of the mother—or of the young wife at work—or of the girl sewing or washing—Each singing what belongs to her, and to none else;
The day what belongs to the day—At night, the party of young fellows, robust, friendly, 
Singing, with open mouths, their strong melodious songs.

আমেরিকার সঙ্গীতে ঘুম ভাঙ্গে, মেঘ, বাতাস আর গাছের সরসর ঘিরে রাখে আমাদের রোদেলা দিন থেকে। প্রাতরাশের টেবিলে আজ মার্ক টোয়েনের বাড়ি যাবো নাকি ওয়াল্ট হুইটম্যানের
এ নিয়ে আলোচনা জমে ওঠে, সদ্য চাকভাঙা মধুর মত মিষ্টি আনারস আর নানা ধরনের ফরমালিন মুক্ত বেরীর আহবানে অতি স্বাস্থ্যকর গ্রীক টক ইয়োগার্টের আবেদন কিছুটা ফিকে হয়ে যায়, 
চায়ের কাপের উষ্ণতায় সিদ্ধান্ত হয় আমরা আজ নিউ জার্সির ক্যামডেনে যাবো, যেখানে আছে মহাবিদ্রোহী কবি, অতি প্রিয় কবি ওয়াল্ট হুইটম্যানের বাড়ি, যেখানে জীবনের শেষ ৮ বছর কাটিয়েছিলেন তিনি,
যা এখন জাদুঘর।

যেহেতু শহর কেন্দ্র থেকে বেশী কিছুটা দূরে আমরা, তাই হয়তো সবুজের দেখা এবং ছোঁয়া অনেক বেশী পাচ্ছি যাত্রা শুরুর পর থেকেই , কিন্তু তাই বলে বাড়ী থেকে বেরোবার ১০ মিনিটের মধ্যেই যে পথের বাঁকে এক জোড়া উডচাকের দেখা মিলে যাবে
তা ভাবি নাই, মারমোট গোত্রের প্রাণী এই উডচাকেরা, বেশ বড়সড় কাঠবেরালির সাথে মিল আছে, কেবল লেজবিহীন মনে হয় দেখে। দেখেই মারমোট মারমোট বলে চেঁচিয়ে উঠতেই আশরাফ ভাই এক নজর দেখেই বললেন এরা উডচাক, শুনিয়ে ঝাঁ করে মনে পড়ে গেল সেই বিখ্যাত টাং টুইস্টার ( যা দ্রুত বলতে গেলে জিহ্বা জড়িয়ে আসে, যেমন পাখি পাকা পেপে খায়)-

how much wood would a woodchuck chuck 
if a woodchuck could chuck wood 
as much wood as a woodchuck could chuck, 
if a woodchuck could chuck would.

একটু চেষ্টা করে দেখবেন নাকি দ্রুত একটানা কয়বার বলতে পারেন?

মধ্য দিনে যাত্রা শুরু হলেও শরীরের ভিতরে এখন ঢাকার মধ্যরাত পারে হয়ে ভোরের দিকে এগোচ্ছে ঘড়ির কাঁটা, তাই কফির স্বাদ নিতে থামা হলো পথের ধারে। সাধারণত ওয়েস্টার্ন যুগের কাউবয়দের মতোই দুধ-চিনি ছাড়া অল্প কড়া তেতো কফি পানেই অভ্যস্ত আমি, যা বাংলাদেশে আবার আমেরিকানো নামেই পরিচিত, কিন্তু আমেরিকায় এসে আমেরিকানো কফি চাইলে কী দেবে কে জানে! ( এই ফাঁকে জানিয়ে রাখি আমাদের ফিনল্যান্ডের মানুষেরা একটা বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী, প্রত্যেক মানুষ গড়ে প্রতিদিন ৯কাপ কফি পানের রেকর্ডের অধিকারী, সেখান থেকেই হয়তো সতেজতার দূত এই পানীয়ের প্রতি দুর্মর আকর্ষণের জন্ম হয়েছে)। যা হোক ব্লাক কফি মিডিয়াম জানাতেই
আধা লিটার কফি দিল স্টার বাকসে, তা বেশ পাতলা ছিল যদিও। কফিপানের আড্ডা বেশ জমে উঠেছে, সেই সময়ে খেয়াল হলো যে বেলা কিন্তু ৩টা বেজে গেছে, আর আমরা যে জাদুঘরে যাবো তা খোলা থাকবে মাত্র ৪টা পর্যন্ত, সাধারণত গ্রীষ্মকালে এত তাড়াতাড়ি কিছু বন্ধ হয় না, তারপরও ব্যতিক্রম থাকতেই পারে। নীলু আপু সাথে সাথেই জাদুঘর অফিসে ফোন দিয়ে জানালেন যে আমরা আসতেছি সেখানে, আজকেও কী চারটা পর্যন্তই খোলা?' জানা গেল ভবি ভোলবার নয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পৌঁছাতে হবে। একটু আত্মবিশ্বাস নিয়েই ভাবলাম ওয়াল্ট হুইট্ম্যানের কবিতা প্রতিদিনই আওড়ায় আনমনে, তাঁর বাড়ির জাদুঘর-অফিসে পৌঁছাতে পারলেই কয়েক লাইন আবৃত্তি করেই অনুমতি আদায় করে নিব খন।

Onu TareqOnu Tareq

ক্যামডেন শহরে পৌঁছে সেই জাদুঘরের সামনে যখন আমরা পৌছালাম তখন ঠিক পৌনে চারটা, এবং সুদৃশ্য বাড়িটার প্রাচীন ফটক বন্ধ! ঠকঠক করেও সুবিধার হলো না, দরজা বন্ধ সেদিনের মতো। যদিও কবি এই শহরের লোক ছিলেন না, তাঁর জন্ম লং আইল্যান্ডে, বেড়ে ওঠা সেখানে আর ব্রুকলিনে, তারপরও জীবনের শেষ ৮ বছর যেখানে কাটিয়েছিলেন এই বনস্পতিসম মানুষটি, হয়তো তাঁর শেষ দিনগুলোর নিঃশ্বাস ছোঁয়া তুলোট কাগজ আর কালির সম্ভার এখনো স্মরণ করে উদযাপন করে তাঁর স্মৃতি, কবি যেমন করতেন কবিতায়-

I celebrate myself, and sing myself,
And what I assume you shall assume,
For every atom belonging to me as good belongs to you

আফসোসের কিছু নেই অবশ্য, এখানে আসা হল, দেখা হলো বাড়িটা, এও নেহাত কম পাওয়া নয়। এখন থেকে ওনার শেষ বিশ্রামস্থল বেশ কাছেই, সেখানে যাবার আগে পেটপুজার জন্য জায়গা খুঁজতে খুঁজতে শেষে হাতের সবচেয়ে কাছে আমেরিকান সিম্বল ম্যাকডোনাল্ডসই পাওয়া গেল, সেখানেই ঢুঁকে পড়লাম চটজলদি। নিয়ম আছে কিছু না কিনলেও ম্যাকডোনাল্ডস, স্টারবাকসের টয়লেট ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু এইটাতে ঢুঁকেই দেখি টয়লেটের দরজা বন্ধ, কাউন্টারে যেয়ে বলার পর খুলে দিল। ভিতরে ভর্তি মানুষ, প্রায় সকলেই কৃষ্ণাঙ্গ । সাধারণত এই ধরনের ফাস্টফুডের দোকানে যেরকম পরিচ্ছন্ন থাকে, তেমন না, আবার অনেক ম্যাকডোনাল্ডসেই নিজের কোক-পেপসি ঢেলে নেবার, কেচাপ, টিস্যু নেবার ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু এখানে নাই। হয়তো জায়গার অভাব, অথবা কিছুটা গরীব জনগণ অধ্যুষিত এলাকা বলেই সতর্ক থাকে হয়তো দোকানীরা। প্রদীপের নিয়ে অন্ধকারের মতোই বিশ্বের সবচেয়ে চকচকে পয়সাওয়ালা দেশটায় এমন ম্রিয়মাণ অবস্থা খুব বেশী নজর কাড়ে।

Onu TareqOnu Tareq

সেখান থেকে বেরোতেই ইলশেগুড়ি বৃষ্টি , তা মাথায় করেই যাওয়া গেল Harleigh কবরস্থানে, একটু আশংকা ছিলো যে বিকেল ৫টা বেজে যাওয়ায় হয়তো এটিও বন্ধ পেতে পারি, কিন্তু মূলফটক খোলা দেখেই হাফ ছাড়া গেল, সুমসাম সমাধিক্ষেত্র, সারি সারি সমাধি, এর মাঝে বামদিকে রাস্তা নেমে গেছে, যার মাথায় সাইনবোর্ডে আমেরিকার হোমারের নাম লেখা, Leaves of Grass নামের অতি অসাধারণ গনগনে আগুনের ফুলকি মোড়া শব্দ ঘেরা বইখানা ১৮৫৫ সালে প্রকাশিত হবার পর যার পরিচয় জানার সঙ্গে সঙ্গে যার চাকরী চলে গিয়েছিল, কিন্তু দিয়ে গেছে অমরত্ব। অন্য ধরনের পারিবারিক কবরটি, এবং এর নকশা করে গিয়েছিলেন মহাকবি স্বয়ং, সেখানে তাঁর পরিবারের কয়েকজনের দেহাবশেষও সংরক্ষিত আছে। ভক্তরা ফুলের সাথে সাথে কলমও রেখে গেছেন, দরজার পিছনে এক ধূলি ধূসরিত চেয়ার, এ নিশ্চয়ই কবির ব্যবহৃত চেয়ার নয়।

শব্দেরা ঘিরে ধরে তখন, ছিন্নভিন্ন করে, ক্ষতে প্রলেপ বোলায়, ভালো লাগায়, ভালোবাসায়, আওড়াতে থাকি তাঁর সমাধিফলককে সাক্ষী রেখে-

I believe a leaf of grass is no less than the journey-work of the stars,
And the pismire is equally perfect, and a grain of sand, and the egg of the wren,
And the tree-toad is a chef-d’œuvre for the highest,
And the running blackberry would adorn the parlors of heaven,
And the narrowest hinge in my hand puts to scorn all machinery,
And the cow crunching with depress’d head surpasses any statue,
And a mouse is miracle enough to stagger sextillions of infidels.

(কবি কাজী নজরুল ইসলামকে অনেকেই বাংলার হুইটম্যান বলে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করেন, এমনকি সুবিখ্যাত বিদ্রোহী কবিতাটি প্রকাশের পরপরই সেটি 
হুইটম্যানের Song of Myself এর অনুকরণে লেখা কিনা সে নিয়ে বেশ অভিযোগ, বিতর্ক ছিল।)

বিশাল এক প্রাপ্তি ঘটল তাঁর স্মৃতির সংস্পর্শে এসে, আজকের দিনটি ভোলবার নয়। এবং তা এখনো শেষ হয় নি, ক্যামডেন থেকে বের হতেই দূরে এক বিশাল মহানগরীর সারি সারি অট্টালিকাময় স্কাইলাইন দেখা
যেতেই ভাইয়া বললেন, ঐ দেখো ফিলাডেলফিয়া! আমেরিকার স্বাধীনতার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নগরী। যদিও সেটা পেনসেলভানিয়া ষ্টেটে। ঘুরেই আসি কি বলো?