কম্বোডিয়ান দের জন্য ইহা একটি সোনার হরিণ। তাঁরা এই হরিণ দিয়েই বড়লোক হইতে চায়। ইহার এন্ট্রি ফি...

*১দিনের জন্য ৩৭ ডলার

*৩দিনের জন্য ৬২ ডলার

*৭দিনের জন্য ৭২ ডলার।

৩৭ ডলারে একদিনের টিকেট৩৭ ডলারে একদিনের টিকেট

এবং ইহা ঘুরতে কমপক্ষে ১৫ ডলার অতিরিক্ত টুকটুক ভাড়া রহিয়াছে। সাথে ৫-১০ ডলার খাবার ও পানি। ট্রাভেলিং লাইফে এত টাকা এন্ট্রি ফি দিয়ে কোনদিন কোন পুরানো স্থাপত্য দেখা হয়নি।

টিকেট নিয়ে আছে আরো কাহিনী, টিকেট বুথ আরেকটি জায়গাতে, সেখানে আবার বিশাল লাইন। তবে টিকেট ক্যাটাগরি হিসেবে বুথ আলাদা আলাদা। টিকেট হলো ডিজিটাল, কাউন্টারে গেলে সাথে সাথে ছবি তুলে প্রিন্টেড টিকেট দিবে। সময় নিবে মাত্র ২ মিনিট, এতই চালু। টিকেট নিয়মাবলী আবার চরম কড়া। টিকেট হারালে ১০০ডলার জরিমানা। কিছুক্ষন পরপর চেকিং, এত টিকেট চেকিং লাইফে দেখিনি। টিকেটে নিজের ছবি থাকায় একজনের টিকেট আরেকজন ব্যবহার করতে পারবেন না। করলে ধরা খেলেও ১০০ ডলার জরিমানা।

দেবমূর্তি দেবমূর্তি

আরেকটি চরম স্বজনপ্রীতি দেখিয়েছে কম্বোডিয়া সরকার তা হলো কম্বোডিয়ানদের জন্য কোন এন্ট্রি ফি নাই। ফ্রী ফ্রী ফ্রী!

ইতিহাস:- এবার আসি এই ঐতিহাসিক 'এংকর ভাট' এর কিছু ইতিহাস নিয়ে। এংকর এর অর্থ ক্যাপিটাল টেম্পল। এংকর ভাট কমপ্লেক্স হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় স্মৃতিস্তম্ভ।। ১৬২.৬ হেক্টর জায়গার উপর এই কমপ্লেক্সটি তৈরী করা হয়। কিন্তু স্থাপনাগুলো একজায়গায় নয়, ছড়িয়ে ছিটিয়ে। ১২শতকের শুরুতে খেমার রাজার জন্য হিন্দু মন্দির(বিষ্ণু দেবতা) স্থাপন করা হয়। এটি খেমার রাজা সুরিয়াবর্মা(২) তৈরী শুরু করেন। এবং এই এংকর সিটি খেমার সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল। এবং ১২শতকের শেষে এটি হিন্দু মন্দির থেকে বৌদ্ধমন্দিরে রুপান্তরিত করা হয়েছিল।

সুবিশাল এংকর ভাট চত্ত্বরসুবিশাল এংকর ভাট চত্ত্বর

এই মন্দিরটি কম্বোডিয়ার প্রধান প্রতীক, এবং এই মন্দিরটি তাদের জাতীয় পতাকাতে আবির্ভূত হয়েছে। মানে কম্বোডিয়ার জাতীয় পতাকার মধ্যে এই মন্দিরের ছবি আছে। এই কমপ্লেক্স টি কম্বোডিয়ার প্রধান ট্যুরিস্ট আকর্ষন। এবং ট্যুরিজম থেকে আয়ের সিংহ ভাগ এই এংকর থেকেই আসে। বর্তমানে কম্বোডিয়ায় ট্যুরিস্ট আগমনের হারও অনেক অনেক বেশী।

অপূর্ব কারুকাজ পুরো মন্দির জুড়েঅপূর্ব কারুকাজ পুরো মন্দির জুড়ে

কিভাবে ঘুরবেন:- আগেই বলেছি এটা অনেক বড় এরিয়া নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এবং এটি সারাদিনের মামলা। অনেকটা আমাদের মহাস্থানগড় এর মতো। এক স্থাপনা থেকে আরেক স্থাপনায় হেটে হেটে যাওয়া সম্ভব নয়। আবার চিনবেনও না। টিকেট বিল্ডিং আরেকটি এরিয়াতে। সেই টিকেট এরিয়াটা আবার বিশাল এরিয়া নিয়ে তৈরী, দেখে মনে হলো সেখানে রিসোর্ট কর্টেজ শপিং মল ইত্যাদী বানানো আছে। পার্কিং তো বিশাল। তাই টুকটুক সারাদিনের জন্য ভাড়া করা ভাল। টুকটুক ড্রাইভারই আপনার গাইড। আপনি বাইক বা সাইকেল ভাড়া নিতে পারেন, কিন্তু এটি চুরি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি খুবই বেশি, কারন পুরাটাই ওপেন এরিয়া। তাছাড়া এক স্থাপনা থেকে আরেক স্থাপনা চিনতে ও যেতেও অসুবিধা। তাই সবকিছু বিবেচনা করে টুকটুকই ভাড়া নিলাম। ১৫ ডলার ভাড়া। এক টুকটুকে চারজন বসা যায়, চারজনে খরচটা অনেক কমে আসে। কিন্তু আমি একা হওয়ায় পুরাটা আমার উপরই গেছে, তাই টুকটুকে শুয়ে শুয়েই ঘুরছিলাম!  ড্রাইভার কয়েক বোতল ঠান্ডা পানি কিছুক্ষন পরপর দেয় ফ্রীতে। যেহেতু সারাদিনের মামলা তাই ভোরে যাওয়া ভাল, সানরাইজটা সবাই দেখতে যায়। আস্তে আস্তে সব দেখে বিকাল ৫ টার মধ্যে হোটেলে ফেরত আসতে পারবেন।

হিন্দুমন্দিরটি বর্তমানে বৌদ্ধমন্দির হিন্দুমন্দিরটি বর্তমানে বৌদ্ধমন্দির

অনেক ট্যুরিস্ট আছে তারা তিনদিন বা সাতদিনের প্যাকেজটি নেয়। এবং তারা দেখলাম স্থাপনার প্রতিটা ইট খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে। আমার এত সময় আর টাকা নাই তাই একদিনের টিকেট নিলাম এবং দৌড়ের উপর ছবি তুলতে তুলতে মোটামুটি সবদেখে বিকাল তিনটাই হোটেলে চলে এলাম। এম্নিতেই গরম আর সারারাত বাস জার্নি করায় ক্লান্ত ছিলাম। হোটেল নিবেন 'পাব স্ট্রিট' এ। এখান থেকে এংকর ভাট এর দূরত্ব (৬-৭) কিলোমিটার হবে। চাইলে আপনি টিকেট বিকাল ৫ টার পর কিনতে পারেন পরের দিনের। এক্ষেত্রে আপনি কমপ্লেক্স এর কিছু অংশ তখন দেখে আসতে পারবেন, অনুমতি আছে, যারা কিনে তারা সূর্যাস্ত দেখে আসে। তবে খেয়াল রাখবেন বিকাল ৫টার আগে টিকেট কাটলে তা ওইদিনের টিকেট বলে বিবেচ্য, পরের দিনের জন্য হবে না।

দর্শনার্থীরর দলদর্শনার্থীরর দল

সতর্কতা: টিকেট টি খুবই যত্ন সহকারে রাখবেন, লেমিনেটিং করা নিষেধ। শরীরের ঘামে নস্ট হয়ে যাওয়ার চান্স বেশী, তাই ট্রান্সফারেন পলিথিন বা ওয়াটারপ্রুভ জিপ ব্যাগ নিবেন। ত্বক সচেতন ব্যাক্তিরা কমপক্ষে ৩টি সানস্ক্রিন সাথে রাখবেন। এরপরও ছাতা বা অন্যান্য রোদ প্রতিরোধক ব্যবস্থা সাথে রাখবেন। এরপরও দেখবেন ত্বক ১০% হলেও তামাটে হবেই! পানি তো অবশ্যই রাখবেন। যারা ছবি তুলতে ভালোবাসেন তারা একা যাবেন না, এতবেশী ছবি তোলার স্পট, কতক্ষণ আর আপনি অন্যকে রিকুয়েস্ট করবেন ছবি তুলে দিতে!

সূর্যাস্তকালে বিশেষ রূপ ধারণ করে মন্দিরটিসূর্যাস্তকালে বিশেষ রূপ ধারণ করে মন্দিরটি

কিভাবে যাবেন:- বিভিন্ন ভাবে কম্বোডিয়া এর সিয়েমরিপ শহরে যাওয়া যায়। আপনি কম্বোডিয়া এর সাথে আর কোন কোন দেশ ভ্রমণ করবেন তার উপর রূট নির্ভর করবে। আমি কম্বোডিয়া এর সাথে ভিয়েতনাম ট্যুর করেছিলাম, তাই আমার রুট ছিল.... চট্টগ্রাম টু ঢাকা টু কেএল টু হ্যানয় টু সাইগন টু নমপেন বাই এয়ার। নমপেন টু সিয়েমরিপ বাই বাস। তারপর টুকটুক নিয়ে এংকর টেম্পল ঘুরেছি।