হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেয়া মেক্সিকো যাবো। আমি আমেরিকাতে থাকি গত ২৫ বছর ধরে। আমরা যারা আমেরিকাতে থাকি তাদের এমন ধারণা দেয়া হয়েছে যে মেক্সিকো একটি বেশ গরীব দেশ। পুরো দেশটিতে আইন শৃংখলা বলে কিছু নেই। দেশটা যেনো মাদক ব্যবসায়ীদের দখলে। তাই যাবার আগে একটু সংশয় আর দ্বিধা কাজ করছিলো। 

চমৎকার শহরচমৎকার শহর

মেক্সিকো সিটি বিমানবন্দরে নেমে আমার ধারণা আমূল বদলে গেলো। চমৎকার সুন্দর এক বিমানবন্দর। বিমানবন্দর থেকে গাড়ি ভাড়া করে যখন হোটেলের দিকে রওনা হলাম তখন ধারণা আরো বদলাতে লাগলো। চমৎকার হাউওয়ে সবাই বেশ সুন্দর নিয়ম কানুন মেনে চলছে। 

সূর্য আর চাঁদ পিরামিডসূর্য আর চাঁদ পিরামিড

আমরা যে কারণে মেক্সিকো গিয়েছিলাম তা হলো এজটেক সভ্যতা আর মেক্সিকোর ইতিহাস সম্পর্কে জানা। সর্বমোট চার দিন এখানে থেকেছি, তার মধ্যে একদিন কাটিয়েছি সূর্য আর চাঁদ পিরামিড দেখে। এজটেক সভ্যতার সবচেয়ে বড় নিদর্শন হলো মেক্সিকো শহর থেকে মাত্র দেড় ঘন্টা দূরে থাকা সূর্য আর চাঁদ পিরামিড। অন্যান্য দিনগুলো যাদুঘর, সিটি সেন্টার এবং শনিবারের বাজার দেখতেই কেটে গেলো। 

শনিবারের বাজার শনিবারের বাজার

শনিবারের বাজার শনিবারের বাজার

শনিবারের বাজার শনিবারের বাজার

দিয়েগো রিভেরার মত শিল্পীর অসাধারণ ম্যুরালদিয়েগো রিভেরার মত শিল্পীর অসাধারণ ম্যুরাল

যদি মেক্সিকো যাবার সিদ্ধান্ত না নিতাম তাহলে মেক্সিকোর ইতিহাস কখনোই জানা হতো না। দেখা হতো না দিয়েগো রিভেরার মত শিল্পীর অসাধারণ ম্যুরাল। দেখা হতো না ফ্রিদা কাহ্লোর বাড়ি ও তার জীবনের সাথে যুদ্ধ করার গল্প।

মেক্সিকোর খাবারমেক্সিকোর খাবার

মেক্সিকো থেকে ফিরে এসে মেক্সিকোর খাবার নিয়ে না বললেই নয়। একথায় অসাধারণ, সেটা রাস্তার ধারের দোকানের হোক আর অভিজাত এলাকার সাজানো রেস্তরাঁতে হোক। প্রতিবেলাতেই যা খেয়েছি বেশ তৃপ্তি নিয়েই খেয়েছি। 

মেক্সিকোর মানুষজন বেশ বন্ধু পরায়ণ, মুহুর্তের মধ্যে আপনাকে আপন করে নিবে। যদিও তাঁরা ইংরেজী তেমন বলতে পারেন না, তবুও যোগাযোগে তেমন অসুবিধা হয় না।

আমরা থেকেছিলাম শহর থেকে ২০ মিনিট দূরের এক হোটেলে। চমৎকার হোটেল, ভাড়াও বেশ কম। আশা করবো একদিন আপনারাও এই অসাধারণ দেশ ঘুরে আসবেন।