আমরা মনে করতে পারি পৃথিবী সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান বিস্তৃত এবং সুনির্দিষ্ট। কিন্তু তা সত্যের চেয়ে খুব দূরে নয়। আমরা এমন কিছু বিরল এবং অসাধারণ ঘটনা সংগ্রহ করেছি যা প্রমাণ করবে আমরা আমাদের গ্রহ সম্পর্কে খুবই কম জানি।

 সেইন্ট এলমোসের আগুন

© liveinternet   © petapixel   © photographyheat  © liveinternet © petapixel © photographyheat

সাধারণত ঝড়ের সময় টাওয়ারের চূড়া এবং মাথার উপরে মাঝেমধ্যে ক্ষীণ আগুন জ্বলে উঠে । মধ্যযুগীয় ইউরোপীয়ানরা বিশ্বাস করেন যে এই আলোর খেলা নাবিকদের রক্ষাকর্তা সেইন্ট এলমোর প্রতিশ্রুতির উপহার। কিংবদন্তীতে আছে যে, তিনি তাদের জন্য প্রার্থনা করার এবং মাস্তুলের উপর আলো দিয়ে সতর্ক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।  

 Sources: wikipedia, science, scientificamerican

 একটি অ্যান্টার্টিক আগ্নেয়গিরি এবং তার বরফ নল

© rd   © geology   © cubadebate   © computerra  © rd © geology © cubadebate © computerra

অ্যান্টার্টিকে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হল মাউন্ট ইরেবুস। এটি তুষার নল দ্বারা আচ্ছাদিত যার ফাটল দিয়ে হিমায়িত বাষ্প বেরিয়ে আসে।   

Sources: volcanodiscovery, nationalgeographic, atlasobscura

 আলোর স্তম্ভ

© xkb   © astronet   © supercoolpics  © xkb © astronet © supercoolpics

এই সুন্দর আলোকিত ঘটনাটি আবির্ভূত হয় যখন সূর্য, চাঁদের আলো বা শহরের আলো বাতাসে থাকা ক্ষুদ্র বরফ কণায় প্রতিফলিত হয়।  

Sources: earthsky, amusingplanet, scribal

ফিনল্যান্ডের হ্রদের মধ্যে একটি তুষার ‘স্প্যাগেটি’

© Vesa Kaloinen   © Vesa Kaloinen  © Vesa Kaloinen © Vesa Kaloinen

ফিনল্যান্ডের হামিনলিনার এক ভদ্রলোক তার বাড়ীর কাছের হ্রদে নুডুলসের মতো দেখতে বরফের এই যোগসূত্রটি আবিষ্কার করেন। পরে তিনি এখান থেকে বরফের সূতা  নিয়ে স্নোবল তৈরি করা শিখেছিলেন। হয়তো বরফ গলে যাওয়ার সময় বায়ু এবং পানির গতি দ্বারা এটির আকার গঠিত।    

Sources: lakescientist, yle, newscom

 একটি নৃত্যরত বন

© livedoor   © liveinternet  © livedoor © liveinternet

রাশিয়ায় একটি বন আছে যেখানে গাছগুলো আশ্চর্যজনকভাবে বাঁকানো এবং বিজ্ঞানীরা এই অদ্ভূত ঘটনা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন নি। অনেকে মনে করেন এটি পরজীবীর কারণে হতে পারে,  আবার অনেকে সমূদ্রের শক্তিশালী বাতাসকে দোষারোপ করেন। পুরাতন বাসিন্দারা এই জায়গাটিকে ভূতুড়ে মনে করেন ।  

Sources: park-kosa, odditycentral, scribal     

 নীল বা লাল রশ্মি

© hjkc   © avaxnews   © imgur.   © astronautika © hjkc © avaxnews © imgur. © astronautika

অনেক উঁচুতে আবির্ভূত হওয়া এই লাল এবং নীল আভাকে ভিনগ্রহের মহাকাশযান ছিলো বলে অনেকে মনে করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে এই ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দী হওয়ার পর এটা প্রমাণিত হয় যে এই রশ্মিগুলো বজ্রপাতের ‘দূরবর্তী আত্মীয়’।  

 Sources: nationalgeographic, popsci,elf.gi.alaska  

লাল জোয়ার

© wn   © oceancolor   © formulalubvi   © wondertrip  © wn © oceancolor © formulalubvi © wondertrip

জলপৃষ্ঠের কাছে অসংখ্য ক্ষুদ্র লাল জলজউদ্ভিদের কারণে লাল জোয়ার হয়। লাল স্রোত সমূদ্র অধিবাসীদের জন্য বিপজ্জনক কারণ যখন পানির মধ্যে হাইড্রোজেন সালফাইড এবং অ্যামোনিয়া বৃদ্ধি পায় তখন অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস পায়। কয়েকজন বিজ্ঞানী মিশরের প্ল্যাগ রোগের প্রথম আঘাতের সাথে লাল স্রোতের সংযোগ স্থাপন করেন, যখন নীলনদের পানি রক্তবর্ণে পরিণত হয় এবং অনেক মাছ মারা যায়।  

 Sources: oceanservice, sciencedaily, ncbi

 ভাঙ্গা ছায়ামূর্তি

© userapi   © meteoweb   © meteoweb   © nemozhetbit  © userapi © meteoweb © meteoweb © nemozhetbit

আপনি যদি পর্বতে এবং সূর্য থেকে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখেন, আপনি মাঝেমধ্যে একটি রংধনুর চক্র দ্বারা বেষ্টিত একটি দৈতাকার ছায়া দেখতে পাবেন। এটি আসলে ধোঁয়ার উপর পর্যবেক্ষক নিজেকে নিক্ষেপ করার ছায়া। ক্ষুদ্র কণারা আলোকে ভেঙ্গে দেয় যা থেকে ছায়ার চারপাশে বর্ণবলয় তৈরী হয়। জার্মানির একটি পর্বত ব্রোকেনে এই বিস্ময়কর ঘটনাটি সবচেয়ে ঘন ঘন ঘটে ।   

 Sources: nkj, earthsky, bbc

 নাগা অগ্নিগোলক

© hostelbookers   © hostelbookers

থাইল্যান্ডের মেকং নদীতে মাঝেমধ্যে গাঢ় লাল  অগ্নিগোলক বিস্ফোরিত হয় যা পানি থেকে  ৩০-৫০ ফুট উপরে এবং অদৃশ্য হয়ে যায়। এটা সাধারণত অক্টোবর মাসে আবির্ভূত হয় এবং এই ঘটনার জন্য তারা একটি উৎসব পালন করে। বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন যে নদী থেকে গ্যাসের প্রদাহ বৃদ্ধি পেলে এর সৃষ্টি হয়, স্থানীয়রা বিশ্বাস করে যে নাগা এই বলটি প্রেরণ করেছেন। নাগা হলো নদীতে বাস করা একটি অর্ধ-সাপ এবং অর্ধ-মানুষ।

Sources: skeptoid, mnn, mysteriousuniverse

 উপত্যকায় পাখির অবতরণ

© blogspot   © indialivetoday   © odditycentral  © blogspot © indialivetoday © odditycentral

ভারতের জাতিঙ্গা উপত্যকায় শতশত বছর ধরে পাখিগুলো খুবই অস্বাভাবিকভাবে আচরণ করেছিলো। তারা খুব নীচ দিয়ে ঘুরপাক খায় এবং কিছু অর্ধ সচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে যায়।    

পাখিরা সাধারণত পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এবং সূর্য দ্বারা তাদের পথ খুঁজে। তাদের এই অদ্ভূত আচরণ সেখানকার ভূতাত্ত্বিক ব্যতিক্রমের কারণে হতে পারে।  


 Sources: vokrugsveta, thehindu, indiatoday

         

 বাল্টিক সাগরের বিস্ময়

© vaghauk.deviantart   © faustuscrow   © hangthebankers  © vaghauk.deviantart © faustuscrow © hangthebankers

বাল্টিক সাগরের অভ্যন্তরে একটি ইউএফও সদৃশ অদ্ভূত বিষয় খুঁজে পাওয়া গেছে। এটির উৎপত্তি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনো একমত হতে পারেন নি। এটি আগ্নেয়গিরির শিলা দ্বারা তৈরি, তাই এটি মহাকাশযান নয়।হিমবাহের গলন থেকে অথবা নাৎসিবাহিনী দ্বারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি বানানো হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।   

Sources: news, zmescience, bbc

ব্রিনিকল- মৃত্যুর বরফ আঙুল

bbc, mnn, livesciencebbc, mnn, livescience

এই বিস্ময়কর ঘটনাটি সুমেরু পানির লবণাক্ততার বিভিন্নতার কারণে হিমাংকের বিভিন্ন তাপমাত্রায় ঘটে থাকে। এটি দেখতে যেন একটি লম্বা তুষারকণা হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে একটি বরফের স্রোতে পরিবর্তিত হচ্ছে। এটির স্পর্শে পানির যে কোন প্রাণীর মৃত্যু ঘটে।

১৯৭৪ সালে এটি প্রথম ধারণা করা হয়, কিন্তু এটির অস্তিত্ব প্রমাণ হয় ২০১১ সালে। এটির একটামাত্র ভিডিও আছে, অপ্রত্যাশিত ভাবে বিবিসির দ্বারা ধারণকৃত।

Sources: bbc, mnn, livescience  

নদীর ওপর বরফ বৃত্ত

© farm4.static.flickr   © tripblog   © paranormalnews  © farm4.static.flickr © tripblog © paranormalnews

নদীতে ঘূর্ণি প্রবাহ দ্বারা গঠিত বরফের বৃত্ত সুন্দরভাবে ঘুরছে এবং আস্তে আস্তে মোড় নিচ্ছে। বরফের একটি অংশ ঘুরতে শুরু করে, পার্শ্ববর্তী  বরফের উপর তার কোণগুলো চূর্ণ করে একটি নিখুঁত বৃত্ত হয়ে উঠে। এই ঘটনাটি স্ক্যান্ডিনাভিয়া, উত্তর আমেরিকা, জার্মানি, ইংল্যান্ড এবং রাশিয়ায় হয় বলে জানা যায়।

বক্র বন

© creative commons  © creative commons

এই বক্র বনটি পোল্যান্ডের পশ্চিম পমেরানিয়ায় নোওয়ে সিজার্নোও এর বাইরে দিকে অবস্থিত। এই বনে বক্র কান্ডের প্রায় ৪০০ পাইন গাছ আছে। ১৯৩৯ সালের পূর্বে এগুলো রোপণ করে হয়েছিলো, কিন্তু কেন বা কারা এদের বাঁকিয়েছে তা কেউ জানে না।  

 

ছবি ও তথ্য সংগ্রহঃ ব্রাইট সাইড