দূরপাল্লার সাঁতারু , লুইস পাফ , সাবেক ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক – অ্যাডভেঞ্চারার অফ দ্যা ইয়ার’ , স্পিডো ধারণ করে ডাইভিং করে চলেছেন উত্তর মেরু থেকে হিমালয়ের হিমবাহ হ্রদ হয়ে প্রাচীন লোহিত সাগর পর্যন্ত পুরু প্রবাল আর গ্রীষ্মমন্ডলীয় মাছে সমৃদ্ধ এই আইকনিক জলধারা। ৪৭ বছর বয়সী এই অভিযাত্রী এখন এন্টার্কটিকার তীরে সাঁতরে চলছেন, নতুন একটি ক্যাম্পেইন নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। তাঁর এই ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য এই দক্ষিণতম মহাদেশ আবিষ্কারের ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ২০২০ সালের মাঝে সংরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চল marine protected areas (MPAs) প্রতিষ্টা করা ।

গতসপ্তাহে পাফ বেলিংসশেন সাগরে এক কিলোমিটারের একটি রুট সাঁতার কেটেছেন । এই বেলিংসশেন সাগর রাশিয়ার এক পরিব্রাজকের নামে , যিনি ১৮২০ সালে এই বরফাচ্ছন্ন এলাকা আবিষ্কার করেছেন। পাফের ১৭মিনিট ৩০ সেকেন্ড লেগেছিলো , ‘’কিন্তু মনে হয়েছিলো ১৭ দিন’’- তিনি বলেন। ‘’যারা বলে ঠাণ্ডা পানিতে সাঁতার উপভোগ করে, তারা আসলে এটা কখনোই করেনি’’- তিনি আরো যোগ করেন। কিন্তু পাফ বলেছেন , তাঁর এই প্রতিকূল পরিবেশে সাঁতারকাটা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ অ্যান্টার্কটিকার জল রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে একটি মূল্যবান হাতিয়ার , পাফ তাঁর সাঁতার কাটার সময় তিমি, অ্যালবাট্রস, জেন্টু , চিন্সট্রাপ , পেঙ্গুইন দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে করতে বলেন , ‘’এগুলাই সত্যিকারের স্বর্গউদ্যান’’।

‘’দুর্গম হওয়া স্বত্বেও এই সমুদ্র জলবায়ু পরিবর্তন , অতিরিক্ত মাছ আহরণ এবং দূষনজনিত কারনে প্রচন্ড চাপের মুখোমুখি’’, তিনি বলেন। অ্যান্টার্কটিকার প্রথম MPA এই বছরই মনোনীত হয়েছিলো। এটি রস সাগরের ৪,৯৮.০০০ বর্গমাইল এলাকা (টেক্সাস শহরের প্রায় দ্বিগুন) সংরক্ষন করে চলছে। পাফ এখন কাজ করছেন প্রিষ্টীন সাগর নিয়ে । ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির পৃষ্ঠপোষকতায় , বুনোসমুদ্র সনাক্ত এবং রক্ষায় এবং আগামী তিন বছরের মাঝে আরো তিনটি MPA মনোনয়ন করতে ( রস সাগর MPA মনোনয়নে ১৭ বছর লেগেছিলো) নতুন এই MPA গুলো অ্যান্টার্কটিকার প্রায় ৪৩,৪৫,০০০ বর্গ মাইল এলাকা সংরক্ষণ করবে। এটা অর্জন করা অতটা সহজ হবে না।

মেরিটাইম লয়্যার পাফকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং Conservation of Antarctic Marine Living Resources (CCAMLR) এর ২৪টি সদস্য দেশে যারা MPA প্রতিষ্টার জন্য সিদ্ধান্ত নেবে। নানান আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে মহাব্যস্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে পাফকে লবিং করতে হবে এই ২০২০ ক্যাম্পেইনটিকে সমর্থন নিশ্চিত করতে, যেটি ইতিমধ্যে অনেক বিজ্ঞানী পরিবেশবাদী নেতা এবং নোবেল বিজয়ীদের সমর্থনপুষ্ট , চূরান্তভাবে পাফকে দক্ষিন মহাসাগর রক্ষায় সদস্যদেশগুলোর পারস্পরিক সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন ১৯৬৯ সালে ১২ টি দেশ এক হয়েছিলো অ্যান্টার্কটিকায় শান্তি এবং বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এবং তিনি আশা করেন ২০২০ ক্যাম্পেইনটিও এরকমই শান্তির সেতুবন্ধন হয়ে উঠবে।

‘’ এটা পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী সংরক্ষণ ক্যাম্পেইন’’ তিনি বলেন, ‘’ কিন্তু আত্মবিশ্বাসী আমরা তিন বছরের মাঝেই MPA গুলো মনোনীত করতে পারবো’’। ‘’এটি আসলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের ন্যায়বিচারের ইস্যু- আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অ্যান্টারটিকাকে রক্ষা করতে হবে ,’’ পাফ আরো বলেন ,’’ এটা জীবপ্রজাতিদের মাঝে ন্যায়বিচারে ব্যাপার। এইসব পেঙ্গুইন, অ্যালব্রাটস, তিমি হাজার হাজার বছর ধরে বাস করছে, তাদের বিলুপ্তির মুখে ঠেলে দেয়ার অধিকার আমাদের নেই। আমরা যদি পৃথিবীর এই অঞ্চল সংরক্ষণ না করি তাহলে এটী আজীবনের জন্য হারিয়ে যাবে।

উৎসঃ National Geographic