মার্চ ২৭, ২০১৮

সকাল ৫.৩০ মিনিটে কোলকাতার হোটেলে ঘুম ভাঙ্গাবার কল ছিল, ৫.৪৫ এর মধ্যে মধুদা তার ট্যুরিস্ট ট্যাক্সি নিয়ে হাজির। রাস্তায় নাস্তা করার মত কিছু পেলাম না ।এয়ারপোর্ট এ বোর্ডিং পাস নেবার সময় ২০০০ রুপি অতিরিক্ত দিয়ে spicemax service (আগে থেকে নিলে আরও কমে পাওয়া যেত)নিলাম -সবার সামনে সীট ও খাবারের ব্যাবস্থা হয়ে গেল, সাথে আরও বিশেষ কিছু সুবিধা ছিল।

ক্রেডিট কার্ড চেক করল। তারপর সোজা বিমানে, ডিপারচার ছিল ৭.৫০ মি.। প্রায় চার মাস আগে স্পাইসজেট  এর ওয়েবসাইট থেকে অনলাইন  এ আমাদের তিনজনের টিকেট  কেটেছিলাম,  লেগেছিল ২৪,৮৭৩.৩৮ টাকা। ওদের ওয়েবসাইট  থেকে সব হোটেল বুকিং দিয়েছি এবং অনেক কমে পেয়েছি। তিন রাতের জন্য হোটেল নিয়েছি ওরা দুই রাতের ভাড়া নিয়েছে। অন্য হোটেল গুলিতেও ৩০% কমে পেয়েছি।

বিমানবালা শুরুতে জানিয়েছিল সে ইংরেজী, হিন্দি , বাংলা ও নেপালী ভাষা জানে । অতএব যখন জানতে চাইলেন কি খাবো ? সোজা বাংলায় জানালাম সকালে আমরা এই এই জিনিস খাই, এখন তোমার যা খুশি দাও।এক গাদা খেয়ে ঘুম, দিল্লিতে ট্রানজিট এর  সময় নামতেও হলোনা, প্লেনে বসিয়ে রাখল।

শ্রীনগরে লেখকের স্ত্রী ও পুত্র শ্রীনগরে লেখকের স্ত্রী ও পুত্র

দিল্লি থেকে ১ঘন্টা ২০মিনিটে শ্রীনগর পৌছে গেলাম। বরফের পাশ দিয়ে প্লেন যাচ্ছে, আমি রীতিমত অভিভূত, একের পর এক ছবি তুলছি। আড়িল চিৎকার করছে “বাবা এইতো আমরা বরফের দেশে পৌঁছে গেছি”। ওর মায়ের কোন অনুভূতি  বোঝার উপায় নাই। প্লেন নামছে ভয়, শংকায় শক্ত হয়ে বসে আছে ।সহসা এয়ার হোস্টেস  জানালো শ্রীনগর বিমান বন্দরে নিরাপত্তার খাতিরে ছবি তোলা যাবে না। আমি অভিভূত হয়ে দেখছি তুষার আবৃত বড় বড় পাহাড়ের পাশ দিয়ে প্লেনটা আস্তে আস্তে উপত্যকার মধ্যে প্রবেশ করল।

এয়ারপোর্টে অবতরনের সময় বুঝতে পারলাম আমরা একটা সেনা নিয়ন্ত্রিত বিমান বন্দরে প্রবেশ করছি।বিমান বন্দরে ফরেন টুরিস্ট এন্ট্রি শেষ করে ১.০৫ এর দিকে বাইরে এসে দেখি আমাদের ড্রাইভার আজাজ আহমেদ  অপেক্ষা করছে। দেখে মনে হলো আগেও অনেকবার দেখা হয়েছে, অনেক পরিচিত। কাশ্মীরে একমাত্র কালো মানুষ, অনলাইনে একটা লেখা পড়ে খুঁজে বের করেছি। এয়ারপোর্ট  থেকে ডাল লেক এরিয়া  তে বাংলা দাবাবা রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেয়ে হোটেল ইয়র্ক  এ চেক ইন করে আমরা বের হয়ে পড়লাম।

(হোটেল ইয়র্ক এ দুই রাতের জন্য ভাড়া নিয়েছিল ২,৭১৭.৩৫ টাকা এবং এক রাত ফ্রী। গিজার, রুম হিটার ও ইলেকট্রনিক ব্লাংকেট প্রায় সবই ছিল।)

ডাল লেক । HolidayIQডাল লেক । HolidayIQ

আমাদের গাড়ী চলছে চশমাশাহি গার্ডেনের দিকে , পাহাড় আর লেকের মাঝে রাস্তা। একদিকে শত শত হাউজবোট আর তাদের ঘিরে ঘুরে বেড়াচ্ছে শিকারা (ছোট নৌকা) অন্যদিকে পাহাড়, আবার তার মাথায় মুকুট হয়ে আছে তুষার । আমি কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখি অবস্থা । আমরা সিড়ি দিয়ে হেটে  নানা রকম ফুলে ভরপুর  চশমাশাহী বাগানে প্রবেশ করলাম। ছোট একটা পাহাড়কে ও এর উপরের গাছকে বিভিন্ন শেপে এই বাগান তৈরী করা হয়েছে।পাহাড়ের ঢালে কার্পেট এর মত ঘাস আর তাতে সাদা বুনফুল।আড়িল ঘাসফুল নিয়ে ব্যাস্ত। এন্ট্রি ফিঃ মনে নাই সম্ভবত ২০ রুপি+GST5%

চাশমেশাহী গার্ডেন চাশমেশাহী গার্ডেন

সন্ধ্যার চাশমেশাহীসন্ধ্যার চাশমেশাহী

 

 আমি এই সময় এতদূর এসেছি, যা দেখার জন্য তা হচ্ছে “ইন্দিরা গান্ধী টিউলিপ গার্ডেন” । অনেক বড় তবে সিনেমায় যত বড় দেখেছি তার চেয়ে অনেক কম বড়। সুন্দর যে শুধু দেখার জিনিস না, এর সাথে উপভোগের বিষয় রয়েছে প্রথম বুঝলাম। আজকেই খুলে দেওয়া হয়েছে কয়েক সপ্তাহের জন্য এই বাগান। স্নিগ্ধ, সতেজ, সদ্য প্রস্ফুটিত সব ফুল।(কাব্য বলে ফেললাম মনে হয়!) ছবিতে দেখতে পারবেন কিন্তু এর সুবাস পাবেন না। সারা বাগান জুরে মম করছে গন্ধ।প্রতিটি সারিতে এক রঙের সব টিউলিপ। সাদা, হলুদ, লাল ও খয়েরী। যে রঙের দিকে তাকাবেন শুধু ঐ রঙের সব টিউলিপ দেখবেন সঙ্গে হালকা টিউলিপ এর গন্ধ, তবে গন্ধটা মাতাল করা তীব্র না।

ইন্দিরা গান্ধী টিউলিপ গার্ডেন . Wall Street International Magazineইন্দিরা গান্ধী টিউলিপ গার্ডেন . Wall Street International Magazine

এন্ট্রি ফিঃ বড়দের ১১৮ রুপি বাচ্চাদের: ২৩ রুপি।

এবার মোঘল গার্ডেন- যত গুলি বাগান দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন। মোঘল শৈলীতে একটা ঝরনাকে ব্যবহার করে অদ্ভুত সুন্দর করা হয়েছে এই বাগান। এতোদিন ছবি দেখেছি এখন সত্যিকারে দেখে ভাবছি কোন রকম আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া কি করে এই পানির ফোয়ারা তৈরী করা হয়েছিল! এখানে দাড়িয়ে আমরা ডাল লেকে সূর্যাস্ত দেখলাম। বিকেলের ম্লান আলোয় আমরাও প্রবহমান জলধারার উপর দাড়িয়ে দেখছি ডাল লেকের বিশাল জলরাশিতে সূর্যটাকে ডুবে যেতে দেখলাম।সাক্ষী হয়ে রইলাম সোনালী এক স্মৃতির। এখানে এসে সূর্যাস্ত উপভোগ না করলে কাশ্মীর ভ্রমণেই অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। চাইলে ছবি তুলেও ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখতে পারেন, পেশাদার ফটোগ্রাফার রয়েছে, দরদাম করে ছবি তুলতে পারেন।    

এন্ট্রি ফিঃ ৬০+৫%GST

 মোঘল গার্ডেন . Pinterest মোঘল গার্ডেন . Pinterest

 

নীচে নেমে লেকের পাশে বসে পাকোড়া আর চা খেতে খেতে আজাজ  ভাইকে সাথে নিয়ে আমার পুরো কাশ্মীর ভ্রমন সিডিউল ফাইনাল করে ফেলি। ওর মধ্যে সবসময় আমি কি চাচ্ছি তা বোঝার চেষ্টা ছিল। রাতে কৃষ্ণ দাবাবায় রাতের খাবার খেয়ে আমরা হোটেল ফিরি।

 

বি.দ্র:

১.শহরের টুরিষ্ট প্লেস ঘুরে দেখার জন্য  সুন্দর দোতালা টুরিস্ট বাস দেখেছি, ভাড়া ১০০ রুপি।

 

২.ডাল লেকের পানি ঘাটগুলোর দিকে কালো ও নোংরা মনে হয়েছে। ড্রেজিং টাইপের মেশিনে পরিস্কার করতে দেখেছি। কোন প্রকারে ময়লা

(আগের ঘটনাবলী পড়ুন এখানে