পৃথিবী জুড়ে অনেক রহস্যেঘেরা জায়গা ও পুরাকীর্তি আছে। এক এক বিজ্ঞানী এক এক পরিপ্রেক্ষিত থেকে  এই জায়গাগুলোর সম্ভাব্য রহস্য ভেদ করার চেষ্টা করেছেন। আদিম এলিয়েনের ধারণা ও মতবাদের উপর বিশ্বাস করেই কেবলমাত্র এই রহস্যগুলোর একটি বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখা দাঁড় করানো সম্ভব। তাই আদিম এলিয়েন মতবাদে বিশ্বাসী অনেকে এই সব বিস্ময়কর জায়গাকে এলিয়েনের দান বলে মনে করেন।

আজ আপনাদের জানাবো এমনি কিছু রহস্যেঘেরা বিস্ময়কর জায়গার কথা যা আদিম এলিয়েন মতবাদে বিশ্বাসী বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মতে সে সময় একমাত্র এলিয়েনদের পক্ষেই তৈরি করা সম্ভব ছিল।

১। সাকসেহুয়ামান

PHOTOGRAPH BY HEIKO MEYER, LAIF/REDUXPHOTOGRAPH BY HEIKO MEYER, LAIF/REDUX

পেরুভিয়ান আন্দিজে প্রাচীন ইনকা শহরের রাজধানী কুস্কোর বাইরে এই হাজার বছরের পুরনো পাথরের দুর্গ অবস্থিত। এই দুর্গ বিশাল বিশাল পাথর সুনিপুণভাবে আটকে দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল, প্রায় ৩৬০ টন ওজনের এক একটি পাথর প্রায় ২০ মাইল দূর থেকে নিয়ে এসে কেটে একটার সাথে একটা আটকে দেয়া হয়েছে। এই পাথরগুলো এত শক্তভাবে আটকানো যা বর্তমান প্রযুক্তি দিয়েও করা সম্ভব না। তাই গবেষকদের ধারণা অবশ্যই আদিম এলিয়েনদের সহায়তা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই বিস্ময়কর দুর্গ।

২। নাস্কা লাইন

PHOTOGRAPH BY ROBERT CLARK, NATIONAL GEOGRAPHIC CREATIVEPHOTOGRAPH BY ROBERT CLARK, NATIONAL GEOGRAPHIC CREATIVE

লিমা থেকে ২০০ মাইল দক্ষিণে পেরুভিয়ান  মরুভূমিতে দেখা যায় এই নাস্কা লাইন। এগুলো আসলে মরুভূমির শুষ্ক ভূমিজুড়ে আঁকা বিশাল বিশাল সব প্রতিকৃতি। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রতিকৃতিগুলো প্রায় ২০ লক্ষ বছর পুরনো। এখানে বাঁদর, হামিংবার্ড, মাকড়সাসহ প্রায় ৩০০ টির মত প্রতিকৃতি আঁকা আছে। সবচেয়ে বড় প্রতিকৃতিটি প্রায় ১৩০০ ফিট এলাকাজুড়ে আঁকা।

এই প্রতিকৃতিগুলো শুধু আকাশ থেকেই ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করা সম্ভব। কিন্তু আদিম যুগে মানুষ কিভাবে এই বিশাল বিশাল সব প্রতিকৃতি অঙ্কন করল তা এখন রহস্য হয়ে আছে। এই নকশাগুলোর বয়স, আকার ও বানানোর ধরন দেখে অনেক বিশেষজ্ঞ ধারণা করেন আদিম এলিয়েনরা এই সব নকশা আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে অঙ্কন করে গেছে।

৩। মিশরের পিরামিড

history.comhistory.com

মিশরের কায়রোর গিজায় অবস্থিত পিরামিডগুলো প্রায় ৪৫০০ বছর পুরনো। বিশাল বিশাল পাথর চারকোণা করে কেটে একটার উপর একটা রেখে এই পিরামিড তৈরি হয়েছে। পিরামিড তৈরির জন্য এই পাথরগুলো বহুদূর থেকে বয়ে নিয়ে আসতে হয়েছে এবং এই এক একটা পাথরের ওজন প্রায় ২ টন।

এখন স্বাভাবিকভাবেই গবেষকদের মনে প্রশ্ন জাগে সেই সময় মানুষ এতটা আধুনিক ছিল না যে এমন সুনিপুণভাবে পাথরগুলো চতুষ্কোণ করে কেটে ফেলবে। তাছাড়া বর্তমানযুগের ক্রেন ও যন্ত্রপাতি দিয়ে এমন বিশাল একটা পিরামিড বানানোও কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেখানে একাধিক পিরামিড ও ভাস্কর্য সে সময় কিভাবে নির্মাণ করা সম্ভব হল তার সঠিক কোন ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারেনি। তাই অনেক গবেষকদের মতামত আদিম এলিয়েনরা এই পিরামিড নির্মাণ করে গেছেন।

৪। স্টোনহেঞ্জ

PHOTOGRAPH BY PHILIP KRAMER, GETTY IMAGESPHOTOGRAPH BY PHILIP KRAMER, GETTY IMAGES

স্টোনহেঞ্জ ইংল্যান্ডের সালিসবুরিতে অবস্থিত পাথরের একটি পুরাকীর্তি। স্টোনহেঞ্জ নির্মাণে যে পাথরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলোর এক একটার ওজন ৫০ টনের বেশি।

প্রায় ৫০০০ বছরের পুরনো এই পুরাকীর্তি সে সময় কিভাবে নির্মাণ করা হল তা বলা কঠিন। এত বিশাল বিশাল পাথর বয়ে নিয়ে এসে একটার উপর একটা চাপিয়ে এই ভাস্কর্য তৈরি করা সে সময় অসম্ভব ছিল। তাই অনেকেই এটাকে এলিয়েন নির্মিত ভেবে থাকে।

৫। টিয়োটিহুয়াকান

PHOTOGRAPH BY ROBERT FRIED, ALAMY STOCK PHOTOPHOTOGRAPH BY ROBERT FRIED, ALAMY STOCK PHOTO

টিয়োটিহুয়াকান শব্দের অর্থ ঈশ্বরের শহর। টিয়োটিহুয়াকান মেক্সিকো থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত প্রায় ২০০০ বছরের পুরনো একটি শহর। এই আদিম নগর তার পিরামিড আকৃতির মন্দির ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্য বেশি পরিচিত।

এখানে বানানো বিশাল পিরামিডগুলো ও কিছু নিদর্শনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ছাপ রয়েছে। সে থেকে এই শহরকেও এলিয়েনদের দান বলে ভাবা হয়।

৬। ঈস্টার আইল্যান্ড

PHOTOGRAPH BY JOCHEM D. WIJNANDS, GETTY IMAGESPHOTOGRAPH BY JOCHEM D. WIJNANDS, GETTY IMAGES

পৃথিবীর অন্যতম একটি রহস্যেঘেরা জায়গা ঈস্টার আইল্যান্ড। এই আইল্যান্ড জুড়ে আছে ১৪ টন ওজনের প্রায় ৯০০ টি পাথরের খোঁদাইকৃত মূর্তি আছে।

প্রতিটি মূর্তিই নিখুঁতভাবে একই এবং প্রায় ১০০০ বছরের পুরনো। সেই থেকে প্রশ্ন আসে আদিম মানুষদের কাছে কি এমন প্রযুক্তি ছিল যা দিয়ে তারা এতগুলো দানব আকৃতির নিখুঁত মুক্তি খোঁদাই করলো?

তাছাড়া নিশ্চয় এই প্রযুক্তি তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পেয়েছে এবং এই পূর্বপুরুষরা ছিল অত্যাধুনিক এবং চরম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন।

৭। মঙ্গল গ্রহে মানব মুখ

PHOTOGRAPH BY NASA/JPLPHOTOGRAPH BY NASA/JPL

১৯৭৬ সালে ভাইকিং-১ অরবিটারের সাহায্যে মঙ্গল গ্রহের কিছু ছবি তোলা হয়। ছবিতে দেখা যায় মঙ্গল গ্রহের ভূমিতে মানব মুখ সদৃশ প্রতিকৃতি। এটা প্রায় ২ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। এলিয়েনে বিশ্বাসী গবেষকরা এটিকে লুফে নেয় এবং এলিয়েনদের কাজ বলে প্রচার করতে থাকে। তবে ২০০১ সালে নাসার তোলা একটা ছবি থেকে দেখা যায় ওটা ছিল মঙ্গল গ্রহের শুধু একটা ভূমি বৈচিত্র্য।

তথ্যসূত্রঃ ন্যাশনাল জিওগ্রাফি 

মূল লেখাঃ নাদিয়া ড্রেক 

আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আপনার এই সম্পর্কে কোন মতামত বা ব্যাখা থাকলে আমাদের কমেন্টে জানিয়ে দিন।