লেখা ও ছবি- রায়হান আতাহার

 

 

ছবিঃ ইন্টারনেটছবিঃ ইন্টারনেট

নির্বাক চলচ্চিত্রের কথা আসলে যে মানুষটির নাম সবার আগে মাথায় আসে তিনি চার্লি চ্যাপলিন। মূকাভিনয় দিয়ে যিনি সারা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছেন। চার্লি চ্যাপলিনের জীবনের একটি অজানা অধ্যায় নিয়ে আজ লিখতে বসেছি। কারণটা পরে বলছি।

মাস খানেক আগে ‘রিং অব কেরি’ ঘুরতে গিয়েছিলাম। জায়গাটি আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি কেরিতে অবস্থিত। দুপুরের খাবারের জন্য ওয়াটারভিল ভিলেজে গাড়ি থামানো হয়। কিংবদন্তি চার্লি চ্যাপলিনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান এটি, যেখানে চ্যাপলিন ছুটে এসেছেন বারবার।

ওয়াটারভিলের পাশে বয়ে গেছে আটলান্টিকের নীল জলরাশি, ছবিঃ লেখকওয়াটারভিলের পাশে বয়ে গেছে আটলান্টিকের নীল জলরাশি, ছবিঃ লেখক

আমেরিকা ছেড়ে চ্যাপলিন আয়ারল্যান্ড কেন? উত্তরটা এখনই দিচ্ছি। আয়ারল্যান্ড হল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। আর পুরো আয়ারল্যান্ডের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আটলান্টিক মহাসাগরের নীল জলরাশি। পর্যটকদের জন্য দারুণ উপভোগ্য এক গন্তব্যের নাম আয়ারল্যান্ড। চ্যাপলিনও ব্যস্ত জীবন থেকে একটু ছুটি নিয়ে এসেছিলেন আয়ারল্যান্ডের ছোট্ট গ্রাম ওয়াটারভিলে। এখানে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন তাঁর বন্ধু ওয়াল্ট ডিজনি। নিশ্চয়ই ডিজনিকে পরিচয় করিয়ে দেয়া লাগবে না।

 

ওয়াটারভিলে চ্যাপলিন পরিবার, ছবিঃ Irish Examinerওয়াটারভিলে চ্যাপলিন পরিবার, ছবিঃ Irish Examiner

তো যাই হোক। ১৯৫৯ সালের গ্রীষ্মে অবকাশ যাপনের জন্য চ্যাপলিন ওয়াটারভিলে আসেন। ওয়াটারভিলে পৌঁছে থাকার জন্য তাঁর ভালো লেগে যায় আটলান্টিকের ঠিক পাশের 'বাটলার আর্মস হোটেলটি'কে। মজার ব্যাপার হল, 'অভিনেতা' চ্যাপলিন' ও 'ব্যক্তি' চ্যাপলিনের মাঝের ফারাকটুকু রিসিপশনিস্ট ধরতে পারেননি। তাই তাঁকে জানিয়ে দেয়া হল- "নো ভ্যাকেন্সি"।

 স্ত্রীসহ চ্যাপলিন আটলান্টিকের পাড় ঘুরে দেখছেন, ছবিঃ Irish Independent স্ত্রীসহ চ্যাপলিন আটলান্টিকের পাড় ঘুরে দেখছেন, ছবিঃ Irish Independent

চ্যাপলিন নির্জনতার জন্য এখানে এসেছিলেন। তাই তিনি পরিচয় না দিয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন। তখন হোটেলের আরেকজন কর্মচারি তাঁকে চিনে ফেলেন এবং তাঁকে ফিরিয়ে আনেন। তাঁর জন্য বিশেষ কামরার ব্যবস্থা করা হয়। সেই থেকে শুরু। এরপর টানা ১১ বছর ছুটি কাটাতে চ্যাপলিন এই হোটেলটিতে আসতেন। পরবর্তীতে হোটেল থেকে একটু দূরে নিজের জন্য বাড়ি বানিয়ে ফেলেন। এ থেকে বুঝা যায়, আয়ারল্যান্ডের ছোট্ট এই গ্রামটি চ্যাপলিনের কত প্রিয় ছিল। এখনো চ্যাপলিন পরিবারের সদস্যরা বাড়িটিতে ঘুরতে আসেন।

বাটলার আর্মস হোটেল, ছবিঃ উইকিপিডিয়া।বাটলার আর্মস হোটেল, ছবিঃ উইকিপিডিয়া।

আরেকটি মজার ঘটনা শেয়ার করি। চ্যাপলিন যখন ওয়াটারভিলে আসেন, তখন তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। কেরিতে সেবার চ্যাপলিন সাজার জন্য একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছিলো। মজা করার জন্য চ্যাপলিনও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় আসল চ্যাপলিন কততম হয়েছিলেন জানেন? তৃতীয়! চ্যাপলিন কিছু না বলে চলে আসছিলেন। কিন্তু তাঁর ড্রাইভার ব্যাপারটি মানতে পারেননি। আয়োজকদের সে মূল ঘটনাটি জানিয়ে দেয়। পরবর্তীতে তারা তাদের ভুল বুঝতে পারেন।

ছবিঃ Slapstick Ireland.ছবিঃ Slapstick Ireland.

২০১১ সাল থেকে আয়ারল্যান্ডে আগস্ট মাসে চ্যাপলিন স্মরণে একটি কমেডি ফেস্টিভাল হয়ে থাকে। আয়ারল্যান্ডবাসীদের ঘরের মানুষ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ওয়াটারভিলে তাঁর একটি মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক চ্যাপলিনের স্মৃতিবিজড়িত ওয়াটারভিলে জড়ো হন।

ছবিঃ Pinterestছবিঃ Pinterest

আজ এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন। ১৮৮৯ সালের এই দিনে লন্ডনে জন্মেছিলেন তিনি। ১৯ বছর বয়সে আমেরিকায় পাড়ি জমান। বাকি ইতিহাস তো সবার জানা। জন্মদিনে চার্লি চ্যাপলিনকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।