বেলগ্রেডের হোস্টেল আর নিকোলাই তেসলা জাদুঘর একই রাস্তা মাত্রা তিন ব্লক পরেই! সকালে সাড়ে নয়টার মাঝে সেখানে উপস্থিত হবার পর জানা গেল সকাল ১০টার আগে জাদুঘর খুলবে না! পাশের এই দুর্দান্ত ক্ল্যাসিকাল ক্যাফেতে বাকী সময়টা সার্বিয়ান কফি সহ কাটিয়ে ফিরলাম জাদুঘরে।

তখন চলছে নিকোলাই তেসলার জীবনের উপরে এক প্রামাণ্যচিত্র। এই জাদুঘরে তেসলার আবিষ্কারের সাথে সম্পর্কিত ১,৬০,০০০ জিনিস আছে!

আর আছে কিছু আবিষ্কারের বিশেষ করে ওয়্যারলেস বিদ্যুৎ পরিবহণ ব্যবস্থার ব্যবহারিক প্রয়োগ, যা দেখাতে স্টার ওয়ার্সের লিউক স্কাইওয়াকারের মত কয়েকজনের হাতে দেওয়া হল আলোর তরবারি! আসলে কিনা রড বাল্ব! কিন্তু তেসলা আবিষ্কৃত যন্ত্র চালু করলে বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হয়ে সেই সাধারণ রড ব্লাবই পরিণত হয় আলোক অসিতে।

সেখানে ঘণ্টা খানিক কাটিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক রওনা হলাম বেলগ্রেডের ফুলবাড়ির অর্থাৎ হাউজ অফ দ্য ফ্লাওয়ারের উদ্দেশ্যে যেখানে সমাহিত আছেন সাবেক রাষ্ট্র যুগোশ্লাভিয়ার জননায়ক মার্শাল জোসেফ ব্রজ তিতো ( মার্শাল টিটো নামেই পরিচিত)। উজ অফ দ্য ফ্লাওয়ার আসলে বেশ কটি জাদুঘরের সন্নিবেশন, তবে এখানকার মূল আকর্ষণ তিতোর সমাধি। একাধিক জাদুঘর এবং উদ্যান পেরিয়ে তবেই দর্শন মিলে মার্শালের শেষ বিশ্রাম স্থলের।

সেখানে যত্ন সহকারে সজ্জিত আছে তাঁর জীবনের নানা ঘটনা, ব্যবহৃত নানা স্মারক, বিশেষ করে সেই বিখ্যাত সানগ্লাস এবং টাই।

তিতোর শেষকৃত্যে ঘটেছিল নানা দেশের রাষ্ট্রনায়কদের অংশগ্রহণের বিশ্বরেকর্ড। কিন্তু এই বিখ্যাত স্থান সম্পর্কে নিশ্চয়ই আপনারা আলাদা পোস্ট চান, তাই না? তাই আরেকদিনের জন্য এই স্থানের ইতিহাস মুলতবি রেখে এখন আমরা বাহির পানে-

বেলগ্রেড থেকে আমাদের আগের পরিকল্পনা ছিল রবি ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত হাঙ্গেরির বালাতন হ্রদ পরিদর্শন করা, কিন্তু অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে সময় মত ফেরা যাবে না হেলসিংকিতে। তাই অন্য পথ ধরে যাওয়া হল রোমানিয়াতে।

পথে পড়ল তিমিসওরা, যা কিনা বিশ্বের প্রথম শহরগুলোর একটি যেখানের রাস্তায় বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহৃত হয়েছিল।

রোমানিয়াতেই পথ চলতে চলতে দেখা হল একটি শেয়াল, ৬টি ফেজ্যান্ট পাখি, এক জোড়া হরিণের সাথে। সন্ধ্যার পর হাঙ্গেরি পৌঁছালেও অচেনা রাস্তা বিঁধায় থামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল মিসকোলে।