সূর্যোদয়ের দেশ জাপান।জাপানের আরেক নাম হচ্ছে নিপ্পন, আর এই নিপ্পন নামের অর্থই হচ্ছে সূর্যোদয়ের দেশ। প্রাচীন সাহিত্যে এবং বিশেষ করে চীন এবং জাপানের রাজদরবারের কূটনৈতিক দলিলে নিপ্পন বা সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে জাপান কে নামকরনের প্রমান পাওয়া যায়।

আসলে, চীনের দিকে থেকে চিন্তা করলে সূর্য প্রথম জাপানেই ঊদয় হয়।জাপানের এই নামকরনের পিছনে ধর্মীয় কারনও রয়েছে, জাপানিজ সিন্ত ধর্মের মিথ বলে জাপানের সম্রাটগন সূর্য দেবতা ‘আমাতেরাসু’ এর বংশধর এবং দেবালয় থেকেই তারা জাপানের শাসনকর্তা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। এইভাবে, ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় সব দিক থেকেই, জাপান কে সূর্যোদয়ের দেশে হিসেবে নামকরনের সার্থকতা রয়েছে।তাই সূর্যোদয় নিয়ে জাপানিজদের মধ্যে খুব ফ্যাসিনেশন দেখা।

মন্দির, পার্ক, পাহাড় সাগর, লেক, থেকে শুরু করে প্রায় সকম ঐতিহাসিক জায়গা গুলোই এমন ভাবে গড়া হয়েছিল যেন এসব জায়গা থেকে সূর্যোদয় অথবা কমপক্ষে সূর্যাস্ত দেখতে পারা চাই। যেই যেই জায়গাগুলো থেকে সূর্যোদয় সবথেকে ভাল ভাবে দেখা যায়, সেইখানে সিন্ত ধর্মের মন্দির বা বৌদ্ধ ধর্মের মন্দির স্থাপণ করে হয়েছিল সেই প্রাচীন কালেই। আর এইসব জায়গা গুলোতে পর্যটকদের ভীর ও চোখে পরার মত।

কিছু কিছু স্থান আছে সেইখানে সেই ভোর বেলাতেও ফোটোগ্রাফার দের এতো ভির হয় যে ক্যামেরার স্টান্ড সেট করার বা সব থেকে ভাল ভিউ পাবার জায়গা পেতে শীতের মধ্য রাতেই ক্যামেরার স্ট্যান্ড সেট করে জায়গা দখল করে রাখতে হয়।আর অনেকটা ভৌগোলিক এবং আবোহাওয়াজনিত কারনে জাপানের সূর্যোদয়ের সময়ে আকাশে রঙের পরিবর্তন দেখা মত।জানিনা এই সূর্যোদয় অন্য দেশ থেকে বা আমার নিজ দেশ থেকে অন্যরকম কিনা।

নিজ দেশের সূর্যোদয়ের এইভাবে দেখার বা তোলার সুযোগ হয়নি কখনও, সৌভাগ্যক্রমে সুযোগ হয়েছিলে জাপানের কিছু কিছু বিশেষ জায়গায় এবং তাইওয়ানে সূর্যোদয় দেখার। তবে নিজ দেশের সূর্যোদয় একদম যে দেখিনি তা বললে ভুল হবে, ছোট বেলায়, গ্রাম থেকে ঢাকা আসার জন্য একবার সূর্যোদয়ের সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল গলাচিপার (পটুয়াখালি জেলার) কাজল নদীর (আরেক নাম তেতুলিয়া নদী, এই নদীর নিচের অংশেই পায়ড়া বন্ধর নির্মাণ হচ্ছে)।

সেই প্রায় সারে চার কিলোমিটার চওড়া এক নদীতে সূর্যোদয় মাঝে মাঝে এখন ও চোখ বন্ধ করলে দেখতে পাই, এই যেমন এই লেখাটা লেখার সময় মনে হচ্ছে আমি বুঝি সেই নদীর পাড়েই সূর্যোদয়ের রক্তিম সূর্যের সাথে বসে আছি। এখন আপনারা কেউ যদি জিজ্ঞেস করেন কোন সূর্যোদয় সেরা, তাহলে হয়তো স্মৃতি ও আবেগজনিত কারনে কাজল নদীর পাড়ের সূর্যোদয় কে সেরা বলে ভোট দিব। তবে আজকাল দেশে যেইভাবে নগরায়ন হচ্ছে, তাতে ধোঁয়াশা (Smog) ঢাকা আকাশে সূর্যোদয় দেখার কল্পনা আকাশকুসুমই মনে হবে।সেই আকাশকুসুম কল্পনার ভিড়েই, জাপান এবং তাইওয়ান এ তোলা আমার কিছু ছবি দিচ্ছি।

জাপানে দেখা সূর্যোদয়ের কিছু অসাধারণ মুহূর্তঃ

মেয়োতো ইওয়া, বাংলা অর্থ দাঁড়াবে, বিবাহে বন্ধনে আবদ্ধ পাথরযুগল।  ইসে বে, জাপানমেয়োতো ইওয়া, বাংলা অর্থ দাঁড়াবে, বিবাহে বন্ধনে আবদ্ধ পাথরযুগল। ইসে বে, জাপান

 

ইসে বে, প্রশান্ত মহাসাগর। মিথ বলে বন্ধনে আবদ্ধ পাথর যুগল সিন্তো দেবতা ইজানাগি এবং দেবী ইজানামি কে ধারন করে। সূর্য দেবতা আমাতেরাশু ছিলেন এদেরই সন্তান।ইসে বে, প্রশান্ত মহাসাগর। মিথ বলে বন্ধনে আবদ্ধ পাথর যুগল সিন্তো দেবতা ইজানাগি এবং দেবী ইজানামি কে ধারন করে। সূর্য দেবতা আমাতেরাশু ছিলেন এদেরই সন্তান।

 

মিয়াজু সমুদ্র সৈকত, জাপানমিয়াজু সমুদ্র সৈকত, জাপান

 

মিয়াজূ এর সমুদ্র সৈকত (জাপান সাগর) থেকে পাহাড়ের বাঁকে সূর্যদোয়। মিয়াজূ এর সমুদ্র সৈকত (জাপান সাগর) থেকে পাহাড়ের বাঁকে সূর্যদোয়।

 

জাপানিজ আল্পস পর্বতমালার পিছনে অপেক্ষায়রত সূর্যের সোনালি আলোয়  সিবাইয়ামা লেকের অনন্য রূপ। জাপানিজ মিথ বলে এক ড্রাগনরূপি এক ভয়ঙ্কর দৈত্য একসময় এই লেকে এসে বাসা বাঁধে। তখন স্থানীয় জনগন কে রক্ষা করার জন্য বেনজান্তাইন দেবী (হিন্দু দের সরস্বতী দেবী) সেই দৈত্য কে এই লেকে বধ (বা হত্যা) করে।জাপানিজ আল্পস পর্বতমালার পিছনে অপেক্ষায়রত সূর্যের সোনালি আলোয় সিবাইয়ামা লেকের অনন্য রূপ। জাপানিজ মিথ বলে এক ড্রাগনরূপি এক ভয়ঙ্কর দৈত্য একসময় এই লেকে এসে বাসা বাঁধে। তখন স্থানীয় জনগন কে রক্ষা করার জন্য বেনজান্তাইন দেবী (হিন্দু দের সরস্বতী দেবী) সেই দৈত্য কে এই লেকে বধ (বা হত্যা) করে।

 

তাইওয়ান এর হুয়ালিয়েন এর সমুদ্র সৈকত থেকে দেখা প্রশান্ত মহাসাগর এ সূর্যোদয়ঃ

ফিলিপিন সমুদ্র, চিসিংতান, হুয়ালিয়েন, তাইওয়ানফিলিপিন সমুদ্র, চিসিংতান, হুয়ালিয়েন, তাইওয়ান

 

ফিলিপিন সমুদ্র, চিসিংতান, হুয়ালিয়েন, তাইওয়ানফিলিপিন সমুদ্র, চিসিংতান, হুয়ালিয়েন, তাইওয়ান