২য় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই সমস্ত জার্মানভাষীকে সরে যেতে বাধ্য করা হয় এইখান থেকে, কিন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরপরই আবার পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়ে যায় এই অনন্য ভূখণ্ডে, যদিও ৫২ কিলোমিটার লিথুয়ানিয়াতে এবং বাকী ৪৬ কিলোমিটার কালিনিনগ্রাদে অবস্থিত, সমস্ত পর্যটকদের ভিড় ভিসাসুবিধাসহ অন্যান্য কারণে লিথুয়ানিয়ার দিকেই। বর্তমানে কুরোনিয়ার এই বিখ্যাত বালিয়াড়ি ইউনেস্কোর বিশ্ব সম্পদের অন্তর্ভুক্ত এবং সেই সাথী পরিযায়ী পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য পাখিপ্রেমীদের কাছে এক জনপ্রিয় স্থান।

বিকেলে সবার ঘুম ভাঙ্গার পরে সমুদ্রের দিকে হাঁটতে যাওয়া হল, মোটা দানার বালির সৈকত, বঙ্গোপসাগরের মত মিহি নয়, সমুদ্রও বেশ শান্ত। সৈকতে খানিক পরে পরেই ভাজা মাছে দোকান থেকে আসা উদাস করা গন্ধ ডেকে নিয়ে গেল আপনা থেকেই মৎস্যভোজনের জন্য, যে যাই বলুক টাটকা মাছের স্বাদই আলাদা, আর সেই সাথে যদি ক্ষুধাবর্ধক হিসেবে যোগ হয় দরিয়ার নোনা বাতাস, তাহলে আর কি লাগে?

মৎস্যভোজনেমৎস্যভোজনে

স্থানীয় মানুষেরাও বেশ বন্ধুত্বপরায়ণ, যদিও ইংরেজির চল নেই বললেই চলে। মূল লিথুয়ানিয়াতে তাদের মাতৃভাষার পরপরই রুশী ভাষার চল থাকলেও এইখানে চলে জার্মান ভাষা, পর্যটকদের মাঝে তারাই দলেবলে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে তরুণ প্রজন্মের ইংরেজি বেশ চোস্ত, আর সেই সাথে আমাদের হাসি তো রয়েছেই সকল মুশকিল আসানের জন্য, কাজে কাজেই কোন সমস্যা হল না যোগাযোগ স্থাপনে।

স্থানীয় মানুষেরাস্থানীয় মানুষেরা

পরদিন সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে দেখা হয়ে গেল সকালের আদুরে রোদ্দুর উপভোগ করতে থাকা শেয়ালের সাথে, তাকে বিরক্ত না করে এড়িয়ে বনের আরেকটু গভীরে প্রবেশ করতেই দেখা বেশ বড় এক হরিণের সাথে, পরে শুনি মানুষেরা বন যথেষ্ট ঘন হবার পরপরই এখানে হরিণসহ অন্যান্য প্রাণী ছেড়েছে খানিকটে বুনো পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আশায়, দেখা যাক এই সুমতি কত দিন টিকে থাকে!

শেয়ালের সাথেশেয়ালের সাথে

এবার যাত্রা শুরু হল নিদা থেকে সামান্য দূরে দৈত্যাকার বালিয়াড়িগুলো দর্শনের এবং আরোহণে আশায়। সে এক অদ্ভুত স্থান- রিক্ত, জনশূন্য, প্রাণহীন, কেবলমাত্র কিছু ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ দুয়েক জায়গায় বালি ফুঁড়ে জীবনের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে, এমনকি পাখির দলকেও খুব একটা কলরব করতে শুনলাম না, মনে হয় তাদের খাবারের অভাব এই মরুদেশে।

মরুদেশে।মরুদেশে।

মরুদেশে।মরুদেশে।

সবচেয়ে উঁচু এক ঢিবি বেয়ে নামা শুরু করলাম সবাই, মধুর কৈশোরের ফিরিয়ে নিয়ে গেল এই রূক্ষ ভূমি আমাদের কয়েক মুহূর্তের মাঝে, পায়ের নিচে সরসর করে বালি সরে যাচ্ছে, তাল মিলিয়ে দ্রুত গতিতে নেমে যেতে হবে এর মাঝে,ভুলচুক হলেই বালির মাঝে গড়াগড়ি খাওয়া কেউ ঠেকাতে পারবে না।

না, গড়াগড়ি খেতে হল না এই যাত্রা কাউকেই, বেশ বীর দর্পে এই বিশ্বের বিস্ময়ে পদচারণা করে আমরা আবার যাত্রাপথে----

ইউরোপের নবতম ভূখণ্ড – কুরোনিয়ার বালিয়াড়ি (পর্ব ১)