কমিকস চরিত্র টিনটিনের সাথে নিশ্চই পরিচয় আছে আপনাদের? যদি থাকে তাহলে জমজ দুই ভাই জনসন এবং জনসন কেও নিশ্চই মনে আছে? ছোটবেলায় টিনটিন এর কমিকসগুলো গোগ্রাসে গিলেছি। চীন ভ্রমণ নিয়ে টিনটিনের একটা পর্ব ছিল The Blue Lotus নামে। টিনটিন চীনে গেছে হেরোইন ব্যবসার পিছনে কে কে আছে সেটা তদন্ত করতে। তাঁর পিছনে লেগেছে গোয়েন্দা সহোদর জনসন এবং জনসন। দুই ভাই ভাবল চীনে যখন এসেছিই তো চীনা পোশাক না পড়লে তো লোকজন বুঝে ফেলবে যে তাঁরা বিদেশী। তাই দুই ভাই মনের মাধুরী মিশিয়ে নিজেদেরকে চৈনিক পোশাক দ্বারা আবৃত করে ফেলল। কিন্তু যে এলাকায় তাঁরা যায় সেখানকার লোকজন হতদরিদ্র এবং কখনোই এমন পোশাক পড়ে না। কেবলমাত্র জাতীয় কোন উৎসবের সময় শখ করে অনেকেই সেটা পড়েন। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, লোকজন দুই ভাইকে দেখেই হাসাহাসি শুরু করে দেয় আর দুই ভাই বুঝেও না বোঝার ভান করে সেখান থেকে চম্পট দিতে বাধ্য হয়।

জাপানিজ মন্দির দেখার উদ্দেশ্যে বের হয়েছি। মনে মনে ভাবছিলাম জাপানী পোশাক পরিহিত কাউকে নিশ্চই পাওয়া যাবে। কিন্তু বিধি বাম, এমন কাউকেই পাওয়া গেল না। কিন্তু যা পাওয়া গেল সেটাই বা কম কিসে? জাপানিজ মন্দিরের পাশেই আছে পিস প্যাগোডা। সেখান থেকে চারপাশের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখলে মনে হতে বাধ্য যে পয়সা খরচ করে দার্জিলিং আসা সার্থক হয়েছে। জাপানিজ মন্দির দিয়েই না হয় আজকের ভ্রমণ শুরু করা যাক।

জাপানিজ মন্দিরের অবস্থান শহরের মধ্যেই; হোটেল থেকে গাড়িতে করে ১০ মিনিটের পথ। আমাদের চৌচক্রযান মন্দিরের প্রবেশপথে থামল। একটা সময় গেট দিয়ে ঢুঁকে সরাসরি মন্দিরের নিচ পর্যন্ত গাড়ি নিয়ে যাওয়া যেত। এখন গাড়ি একটু দূরে পার্ক করে মন্দির পর্যন্ত হেঁটে যেতে হয়।

 

বৌদ্ধমন্দির বৌদ্ধমন্দির

জাপানী রীতিতে নির্মিত এই মন্দিরটি স্থাপন করা হয় ১৯৭২ সালে। এর অপর নাম Nipponzan Myohoji Buddhist Temple. মন্দিরটি যিনি স্থাপন করেছিলেন তাঁর নাম ছিল ফুজি। শ্রদ্ধাভরে তাঁকে গুরুজি নামেই সম্বোধন করা হয়। ফুজি গুরুজি মহাত্মা গান্ধীর বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং ১৯৪৫ সালের হিরোশিমা ট্র্যাজেডির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। একসাথে এত মানুষের মৃত্যু তাঁকে শান্তি অন্বেষণে পরিচালিত করে এবং সেই প্রভাবেই তিনি বিশ্বের কয়েকটি দেশেই এমন মন্দির তৈরি করেন যার মাঝে দার্জিলিঙয়ের জাপানী মন্দির অন্যতম। মন্দিরের প্রবেশপথে দুটি সিংহমূর্তি আমাদের অভ্যর্থনা জানাল। ভিতরে প্রবেশ করতেই ফুজি গুরুজির ছবি দেখতে পেলাম। দ্বিতল এই মন্দিরটির নিচতলা বিভিন্ন ছবি দিয়ে ভর্তি। কাঠের সিঁড়ি বেয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠলে প্রার্থনা ঘর। বুদ্ধের চমৎকার মূর্তিটি এখানেই স্থাপিত।

সকল ধর্ম এবং গোত্রের লোকেরই এইখানে প্রবেশাধিকার আছে। তবে মন্দিরের অঙ্গসজ্জা দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে প্রার্থনার চেয়ে টুরিস্ট স্পট হিসাবেই মন্দিরটিকে বর্তমানে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যে কেউ চাইলেই প্রার্থনা করতে পারেন। প্রার্থনার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। ভোর সাড়ে ৪ টা থেকে ৬ টা এবং বিকেল সাড়ে ৪ টা থেকে সাড়ে ৬ টা। মন্দিরের ভিতরে ছবি তোলা যায় তবে প্রার্থনাকালীন সময়ে প্রার্থনা ঘরের ভিতর ছবি তোলা নিষেধ। আমরা যখন পৌঁছেছিলাম তখন সকালের প্রার্থনার সময় পেরিয়ে গেছে। একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু কাঠি দিয়ে ছোট্ট একটা ড্রামে আঘাত করছিলেন। বেশ ভালই শব্দ হচ্ছিল। ভেবে অবাক হচ্ছিলাম ছোট্ট একটা ড্রাম এত শব্দ কিভাবে তৈরি করতে পারে।

 

মন্দিরের ভেতরমন্দিরের ভেতর

 

প্রার্থনার সময় পর্যটকগণ চাইলে ড্রামে বাড়ি দিতে পারেন। একটা কথা স্বীকার করতেই হবে, অদ্ভুত এবং চমৎকার এক ছন্দে ড্রামগুলো বেজে চলে। চোখ বন্ধ করে যদি কেউ ড্রামের শব্দের ঐকতানে মন মেলাতে পারে তাহলে নিশ্চই ভালোলাগা এবং শান্তির একটা অনুভূতির জন্ম হতে পারে মনে। ভাবনাটা ভাবনাই রয়ে গেল। চারপাশে এত এত দর্শনার্থী যে একাকীত্বের অনুভূতির স্বাদ নেওয়া এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। অনিন্দ্যর খুব ইচ্ছে হল প্রার্থনা করার। কিছুক্ষণ ভিতরে চুপ করে বসে প্রার্থনা করে নিল। স্রষ্টার কাছে কি চাইল সেই জানে। আমি ভিতরে না ঢুঁকে বেরিয়ে মন্দিরের সামনের আঙিনায় বসলাম। আঙিনায় জাপানী ভাষায় লেখা একটা স্তম্ভ আছে। লেখাগুলোর অর্থ কি কে জানে?

 

বসা নিষেধ বসা নিষেধ

 

“ভাই, বাংলাদেশ থেকে আসছেন নাকি?”  একটু আনমনা হয়ে পড়েছিলাম মনে হয় তাই চমকে উঠলাম। প্রশ্নকর্তার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই বলে উঠলেন,  “আমিও বাংলাদেশ থেকে এসেছি। আপনাদেরকে বাংলায় কথা বলতে শুনলাম তাই জিজ্ঞেস করলাম।“  “আশেপাশের কলকাতার দর্শনার্থীরাও তো বাংলায়ই কথা বলছেন, আপনি বুঝলেন কিভাবে আমরা বাংলাদেশী?”
“কথার টান ভাই, এইটা বদলানো অসম্ভব।“

দু’জনেই একসাথে হেসে উঠলাম। যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা এই ভাইটি আমাদের মতই প্রথমবার বিদেশ ভ্রমণে এসেছেন। অনিন্দ্যও প্রার্থনা সেরে মন্দির থেকে বেরিয়ে এসেছে। সাইমুম দেখি আগেই পিস প্যাগোডায় চলে গেছে। আমরাও পিস প্যাগোডার পানে হাঁটা দিলাম।

ফুলে ফুলে সুশোভিত চমৎকার এক পায়ে চলা পথ চলে গেছে জাপানিজ মন্দির থেকে ১০০ গজ দূরের পিস প্যাগোডার দিকে। ২৮.৫ মিটার দীর্ঘ এবং ২৩ মিটার প্রস্থের এই প্যাগোডাটি দার্জিলিঙয়ের সবথেকে উঁচু মনুষ্যনির্মিত স্থাপনা। ১৯৭২ সালের ৩ নভেম্বর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৩৮৯ সালে এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ১৯৯২ সালে পহেলা নভেম্বর। পিস প্যাগোডার ডিজাইন করেছিলেন জাপানী স্থপতি Dr. M Ohka. জাপানিজ মন্দিরের মতই পৃথিবীর প্রথম পিস প্যাগোডাটিও স্থাপন করেছিলেন ফুজি গুরুজি ১৯৫৪ সালে জাপানের কুমামোতো শহরে। এই প্যাগোডাটিও সেটির ধারাবাহিকতায়ই নির্মিত হয়েছে।

 

প্যাগোডাপ্যাগোডা

 

প্যাগোডার উঠার মুখেই সিঁড়ির একটু উপরে দুটি সিংহমূর্তি পাশাপাশি বসে আছে। এর মাঝের পথ দিয়েই উপরে উঠতে হবে। একটা ব্যাপার হঠাত করেই খটকা লাগলো। বৌদ্ধ মন্দিরে সিংহমূর্তি থাকা খুব সাধারণ ব্যাপার। আগে কখনও খেয়াল করি নি কিন্তু এইবার লক্ষ্য করলাম সিংহমূর্তিদুটোর একটার মুখ খোলা আরেকটার বন্ধ। ব্যাপারটা কেমন জানি লাগলো। এতদিন আমার ধারণা ছিল মন্দিরের বাইরে সিংহের স্থাপনার দ্বারা মন্দিরের সুরক্ষার দিকে ইঙ্গিত করে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এর বাইরেও কোন অর্থ আছে। তখন না জানলেও পরবর্তীতে অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এই সিংহমূর্তিগুলোকে জাপানী ভাষায় বলা হয় Komainu যার ইংরেজি অর্থ হচ্ছে Lion Dogs. এরা সবসময় জোড়ায় জোড়ায় থাকে। ডানপাশের সিংহের মুখ থাকে খোলা যা দিয়ে সে বলে “a” এবং বামপাশের সিংহ মুখ বন্ধ রেখেই উচ্চারণ করে “um”. এই “a” এবং “um” হচ্ছে সংস্কৃত বর্ণমালার প্রথম এবং শেষ বর্ণ যা দ্বারা প্রতীকীভাবে সবকিছুর শুরু এবং শেষকে বোঝায়। “a-um” মানে হচ্ছে আদ্যন্ত। সত্যিই গভীর ভাবের বিষয় বটে। অবশ্য জাপানিজ সিংহ কেন সংস্কৃত ভাষায় কথা বলবে সেটাও একটা বিরাট প্রশ্ন। কিছু প্রশ্নের উত্তর না হয় থাকলই অমীমাংসিত।

সবসময় যে এমন ব্যাকরণ মেনেই সিংহমূর্তি স্থাপন করা হয় তা কিন্তু নয়। অনেক সময়ই বামপাশের সিংহের মুখ খোলা থাকে এবং ডানপাশের সিংহের মুখ বন্ধ থাকে। অনেক সময় আবার দুজনের মুখই খোলা কিংবা বন্ধ থাকে। এই যেমন জাপানী মন্দিরের সামনের দুই Komainu-র মুখই খোলা ছিল। আমরা komainu পেরিয়ে প্যাগোডার একদম শীর্ষে চলে এলাম। এই জায়গা থেকে চারপাশের দৃশ্যাবলী এককথায় অসাধারণ। অনেক নিচে জাপানী মন্দির। মন্দিরের পিছনে পাইনের ঘন বন। এর পিছনে শূন্যতা। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এই শূন্যতা ভেদ করে দৃশ্যমান হয়ে উঠে হিমালয় পর্বতমালা। আমাদের ভাগ্য মন্দ ছিল বিধায় হিমালয় দেখা হয়ে উঠে নি তবে হিমালয় থেকে ভেসে আসা শীতল বাতাস তীব্র আলিঙ্গনে বুঝিয়ে দিচ্ছিল তার সরব উপস্থিতি।

পিস প্যাগোডার চারপাশে একটা চক্কর দিলে অনেক কিছু দেখা যায়। গৌতম বুদ্ধের চার ভঙ্গিমার চারটি প্রতিমূর্তি উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম এই চারদিকে মুখ করে আছে। বুদ্ধ বসে আছেন, শুয়ে আছেন, দাঁড়িয়ে আছেন এবং ধ্যান করছেন। সূর্যের আলোয় বুদ্ধ চারপাশে সোনালী আভা বিলাচ্ছিলেন। সেই আভায় আমার বিমোহিত এবং আপ্লুত। তবে বুদ্ধমূর্তির থেকেও আমাকে অধিক আকৃষ্ট করেছিল প্যাগোডার দেয়ালে খোদাই করা কাঠের চিত্রকর্মগুলো। বুদ্ধের গৃহত্যাগ এবং নির্বাণ লাভের চিত্র চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কাজগুলো দেখলে যে কেউই মুগ্ধ হবেন।

 

বুদ্ধবুদ্ধ

 

বুদ্ধবুদ্ধ

 

কারুকাজকারুকাজ

কারুকাজকারুকাজ

 

দার্জিলিঙয়ে আছে প্রচুর মন্দির এবং প্যাগোডা। চার্চের সংখ্যাও কম নয়। সঠিক সংখ্যাটা বলতে পারব না। এর মাঝে কিছু কিছু মন্দির এবং প্যাগোডা খুবই বিখ্যাত এবং পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকায় থাকবেই। তিব্বতি রিফিউজিদের একটা বড় অংশ এখানে থাকে তাই আশ্রমের সংখ্যাও কম নয়। আমাদের এবারের গন্তব্য এমনই এক আশ্রম যার নাম Ghoom Monastery. এই আশ্রমের অবস্থান দার্জিলিং থেকে ৭ কিলোমিটার দূরের ৭৪০৭ ফুট উচ্চতার শহর ঘুম-এ।

ঘুম শহরে Ghoom Monastery আছে দুইটা। একটা হচ্ছে Old Ghoom Monastery উরফে Yiga Choeling Monastery (নির্মাণকাল ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দ) এবং New Ghoom Monastery উরফে Samten Choling Monastery (নির্মাণকাল ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দ)। প্রথমটা ঘুম রেলওয়ে স্টেশনের একদম পাশেই, অন্যটা ঘুম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ১ কিলোমিটার দূরে। সময়ের স্বল্পতার কারণে সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা দ্বিতীয়টায় যাব। কারণ দ্বিতীয় আশ্রমটি আয়তন এবং কলেবরে প্রথমটির থেকেও সমৃদ্ধ।

 

মন্দির ভবনমন্দির ভবন

 

কারুকার্যখচিত গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে সিঁড়ি ভেঙ্গে কিছুটা উঠলেই এক বিশাল খোলা প্রাঙ্গন। মূল মন্দির প্রাঙ্গণের ডানদিকে। বুদ্ধের ২৬ ফুট উঁচু এক ভাস্কর্য এখানে স্থাপন করা হয়েছে। আমার অবশ্য ভাস্কর্যের দিক মন ছিল না। চারপাশটা ঘুরে দেখতে ভালই লাগছিল। বিশাল প্রাঙ্গণের তিনদিকই খোলা। মন্দিরের অবস্থান পাহাড়ের উপরে হওয়ায় চারপাশটা খুব চমৎকারভাবে চোখে পড়ে। উঁচু উঁচু ঢেউ খেলানো পাহাড়ের ভাজে ভাজে মেঘের লুকোচুরি, পাহাড়ের গায়ে গড়ে উঠা কাঠের বাড়িঘর কিংবা সূর্যালোকের সাথে মেঘের তীব্র সংঘর্ষ আমাকে ভীষণভাবে আন্দোলিত করছিল। প্রাঙ্গণের একমাথায় লামাদের নিবাস, পাশেই আছে ছোট্ট একটা ক্লিনিক। তবে এসবকে ছাপিয়ে আমার চোখ আটকে গিয়েছিল কিছু দেয়ালচিত্রে। সেখানে যেইসব চরিত্রের চিত্রাঙ্কন করা হয়েছে সেগুলোকে সম্ভবত ছোটবেলায় কোন চাইনিজ কমিকস বইয়ের অনুবাদে দেখেছিলাম কিন্তু পুরোপুরি মনে করতে পারছিলাম না। একজন যে গৌতম বুদ্ধ সেটা বুঝতে পারলেও বাকিগুলো কারা ধরতে পারি নি। জ্ঞানের স্বল্পতা ছাড়া আর কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছিলাম না এই অজ্ঞানতার পিছনে।

 

 

 

পাহাড়ঢালে মন্দিরপাহাড়ঢালে মন্দির

 

দেয়ালছবিদেয়ালছবি

 

মন্দিরের সামনেমন্দিরের সামনে

এখানকার বৌদ্ধ লামারা খুবই বন্ধুবৎসল এবং হাসিখুশি। একসাথে ছবি তোলার অনুরোধ জানাতেই হাসিমুখে সম্মতি দিলেন এবং আমাদের ছবিও তুলে দিলেন। পুরো দার্জিলিঙয়ের লোকজনই অত্যন্ত বন্ধুবৎসল। সম্ভবত পর্যটনের উপরই এখানকার লোকজনের রুটিরুজি নির্ভর করাই এর প্রধান কারণ।

দার্জিলিঙয়ের বিখ্যাত মন্দিরগুলোর অন্যতম হচ্ছে ধিরাধাম মন্দির এবং মহাকাল মন্দির। উপাসনালয় দেখার চেয়ে প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী দেখার আগ্রহ বেশি ছিল বিধায় আমরা এর কোনটাতেই যাই নি। তবে দার্জিলিং রেলষ্টেশনে যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে ধিরাধাম মন্দির দেখেছি। নির্মাণশৈলী চমৎকার এতে কোন সন্দেহ নেই।

উপাসনালয়গুলো ঘুরে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেল। আগে ভাবতাম শুধু আমাদের দেশেই উপাসনালয়ের অলঙ্করণে প্রচুর টাকা খরচ হয়। আমার ধারণা ভুল ছিল। ভারতবর্ষের সবখানেই উপাসনালয়ের অলঙ্করণে খরচ করার রীতি বিদ্যমান। শুধু ভারতবর্ষকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, সারা পৃথিবী জুড়েই এমন উদাহরণ বিদ্যমান। আমার কাছে উপাসনালয়ের অলঙ্করণ করার জন্য অতিরিক্ত খরচ করা অর্থহীন লাগে। একজন মানুষ তাঁর দৈনন্দিন জীবনে উপাসনায় কতটুকু সময় দেন? অথচ সেই স্বল্প সময়ের স্বাচ্ছন্দ্যর পিছনে কত টাকা খরচ করা হয়। বরিশালের গুঠিয়া মসজিদে গিয়েছিলাম। মূল শহর এবং লোকালয় থেকে অনেক দূরে প্রচুর ২০০ মিলিয়ন টাকা (আপনি ভুল শুনছেন না) খরচ করে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। লোকজন সেখানে যতটা না নামাজের উদ্দেশ্যে যায়, তার থেকেও বেশি ঘুরতে যায়। ভারতের বেশ কিছু মন্দিরের চূড়া নাকি স্বর্ণ দিয়ে বাধানো। পত্রিকায় পড়েছিলাম ৬০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে পৃথিবীর সবথেকে বড় ক্যাথলিক চার্চ তৈরি করা হয়েছে আইভরি কোস্টে অথচ আফ্রিকার এই দরিদ্র দেশটিতে অনেক মানুষই ঠিকমতো খেতে পায় না। সরকার, ধর্মগুরু এবং সাধারণ জনগন যদি এত টাকা উপাসনালয়গুলোর অলঙ্করণের পিছনে ব্যয় না করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতেন তাহলে নিশ্চিতভাবেই স্রষ্টা অধিক সন্তুষ্ট থাকতেন।

 

 

দার্জিলিং জমজমাট # শেষ পর্ব

দার্জিলিং জমজমাট # ১০ পর্ব

দার্জিলিং জমজমাট # ৯ম পর্ব

দার্জিলিং জমজমাট # ৮ম পর্ব

দার্জিলিং জমজমাট # ৭ম পর্ব

দার্জিলিং জমজমাট # ৬ষ্ঠ পর্ব

দার্জিলিং জমজমাট # ৫ম পর্ব

দার্জিলিং জমজমাট # ৩য় পর্ব

দার্জিলিং জমজমাট # ২য় পর্ব

দার্জিলিং জমজমাট # ১ম পর্ব