লেখা ও ছবি- পংকজ ঠাকুর


গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিত চড়কপূজা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।চড়কপূজা উপলক্ষে বসে মেলা পাওয়া যায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হরেক রকমের পন্য।

সিকিম ও ভূটানে 'চোড়গ' নামে চড়কপূজার অনুরূপ একটি ধর্মাচরণ প্রচলিত আছে।
ভারতের মহারাষ্ট্রে 'বগাড় উৎসব'-এ এরকমই আচার পালিত হয়। শ্রীলংকায়ও এধরণের একটি রিচুয়াল আছে 'টুককুম' নামে। অন্ধ্রপ্রদেশের এই অনুষ্ঠানের নাম 'সিরিমনু'।

শুধু ভারতীয় উপমহাদেশেই নয়, মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত প্রাচীন 'ড্যান্সা ডে লো ভোলাডোরস্' উৎসব চড়ক পূজার অনুরূপ।

লিঙ্গপুরান, বৃহদ্ধর্ম পুরান ও ব্রহ্মবৈবর্ত পুরানে চড়কপূজার বর্ণনা আছে বিষদ। 

চড়কপূজা আসলে নিম্নবর্ণের হিন্দুদের দ্বারা পালিত একটি ধর্মাচরণ ছিল যাকে সামাজিক স্রোতে প্রথম আনতে চেয়েছিলেন রাজা সুন্দরানন্দ ঠাকুর, ১৪৮৫ সালে। এই পূজা যেমন ছিল অধমর্ণদের দ্বারা আচরিত, ঠিক তেমনি এই পুজোও করেন একজন পতিত ব্রাহ্মণ। রক্তঝরা ও বীভৎস কিছু আচার এর প্রধান অনুষঙ্গ থাকায় হয়তো তা সর্বজন স্বীকৃত হয়নি। ১৮৬৩ সালে বৃটিশ সরকার এই ধর্মাচরণ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

প্রতি বছরের মতো শ্রীমঙ্গলে ১৪/৪/২০১৮ তারিখে সবুজবাগ,রুস্তমপুর, বাবুরবাজারে এবং ১৯/৪/২০১৮ তারিখে ইছবপুর ও নওগাঁতে অনুষ্ঠিত হয় চড়কপূজা। 

এছাড়া প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে গাজীপুরের পিংগাইল গ্রামে হয় এই পূজা।

শ্রীমঙ্গলের চড়কপূজাশ্রীমঙ্গলের চড়কপূজা

 

শ্রীমঙ্গলের চড়কপূজাশ্রীমঙ্গলের চড়কপূজা

শ্রীমঙ্গলের চড়কপূজাশ্রীমঙ্গলের চড়কপূজা

 

শ্রীমঙ্গলের চড়কপূজাশ্রীমঙ্গলের চড়কপূজা

শ্রীমঙ্গলে কিভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেনে করে চলে আসেন শ্রীমঙ্গল আর সিএনজি অথবা ইজি বাইক করে চলে যান যেখানে আপনি দেখতে চান চড়কপূজা।

বেড়াতে গিয়ে পরিবেশের প্রতি খেয়াল রাখুন যাতে করে পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক থাকে।