প্রাচীন যুগ থেকে এই দেশে এসেছে অনেক বণিক। বংগদেশে আসার তখনকার মাধ্যম ছিল জলপথ। বণিকদের সাথে সাথে এই দেশে পর্তুগীজ জলদ্যসুরা আসতো ডাকাতির জন্য। এদের দমন করার জন্য তৈরি করা হয় জলদূর্গ। পুরা বাংলাদেশে টিকে আছে তিনটি জলদূর্গ। ইন্দ্রাকপুর(মুন্সিগঞ্জ), সোনাকান্দা, হাজীগঞ্জ দূর্গ(নারায়নগঞ্জ)। এবারের আমাদের ভ্রমণের লক্ষ্য ছিল তিনটি জলদূর্গ কভার করা। ভ্রমণে ভিন্ন ধাচ আনতে আমরা ট্রেন-লঞ্চ-বাস পরিবহন লিস্টে রেখেছিলাম। এক ঢিলে দুই জেলা ভ্রমণ। অনেক দিন ধরেই এই রকম উদ্ভট প্ল্যান মাথায় বনবন করছিল। আমাদের প্ল্যান ছিল নারায়নগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ ঘুরবো একটু ভিন্ন তরিকায়। সে তরিকায় প্রতিফলন ঘটাতে আজ পবিত্র শুক্রবার দুই মাথা পাগল উপস্থিত হইলাম কমলাপুর স্টেশন।

৯,৩০ এ ট্রেন ছাড়ার কথা বাংলাদেশ রেলওয়ে বলা কথা যথারীতি ১৫ মিনিট লেট করে ট্রেন ছাড়লো। ট্রেনে সুখ দুক্ষের গল্প করতে করতে টের পেলাম আমার পাশের বসা চাচা আমার এই গ্রামের মানুষ। ছোট এই পৃথিবী কোথাকার মানুষ কে কার সাথে দেখা করিয়ে দেয়। বাপের পরিচয়ে আমাকে চিনে। চাচা কে নারায়নগঞ্জ স্টেশন থেকে বিদায় দিয়ে আমরা আমাদের প্রথম ডেস্টিনেশন হাজীগঞ্জ দূর্গের পথে রওনা হলাম। অনেক পেরার পর যখন এখানে এসে পৌছালাম একেবারে নিরাশ হলাম না। শুক্রবারের দিনে এখানে বেশ কিছু মানুষ এসেছে ঘুরতে সাথে একটা সুট্যিং টীম এসেছে স্যুটিং করতে। এখানকার ঘুরাঘুরি পর্ব শেষ করে আমরা বিবি মরিয়মের মাজারে গেলাম। দূর্গ থেকে খুব কাছেই।

আমাদের পরের ডেস্টিনেশন কদমে রাসূল দরগা। বিবি মরিয়াম মাজার থেকে বরফকল ঘাটে এসে পড়লাম। এখান থেকে ট্রলার করে শীতলক্ষ্যা পার হলাম। এপার এসে রিক্সা নিলাম মাজার যাবার জন্য এখানে এসে কিছুটা হতাশ। চরম ধার্মিক, ধর্ম কর্ম মেনে চলেন তাদের এখানে না আসাই ভাল। এখান থেকে চলে গেলাম মদনগঞ্জের মেরিন একাডেমী। এখানে কিছু সময় কাটিয়ে সোনাকান্দা দূর্গ দেখে চলে আসলাম মদনগঞ্জ লঞ্চ ঘাট। এখান থেকে মুন্সিগঞ্জের লঞ্চ করে চলে আসলাম মুন্সিগঞ্জ সদরে। এখান থেকে রিক্সা নিয়ে প্রথমে গেলাম ইন্দ্রাকপুর কেল্লায়। কেল্লার গেট বন্ধ দেখে মুন আমরা কিছুটা হতাশ। বাহিরে থেকে ছবি তুলে নিলাম কিছু।

এরপর রিক্সা ঠিক করলাম বজ্রযোগিনী গ্রামে যাব অতিশের দিপংকরের বাস্তুভিটা দেখতে। চাইনিজ গর্ভমেন্টের সহয়তা এখানে এখন বুদ্ধের প্যাগাডো তৈরি হয়েছে। বেশ সুন্দর কারুকার্য তবে সাদা রংটা বেশ মর্মাহত করলো। কেমন জানি ম্যার ম্যারে লাগে। এখান থেকে বের হয়ে সেম রিক্সায়ালা মামা কে পাম পন্টি দিয়ে নিয়ে গেলাম কমলাঘাট। আশা ছিল মীর কাদিম পুল দেখবো। পুরা গুড়ে বালি। মামা নিজেই ভাল মত চিনে না। আমাদের ও লোকেশ ন খেয়াল নাই। মীর কাদিম পুল রামপালে হবে। আমরা সে জায়গার বদলে চলে আসলাম কমলাঘাট।

হতাশ সময় নস্ট বেদনা নিয়ে যখন সিপাহীপাড়ার দিকে আবার রিক্সা মুভ করলাম নগর কসবা শব্দটা পড়ে মাথায় বিদ্যুং খেলে গেল এইটা নিয়ে তো আমি নেটে পড়েছি। যে বলা সেই কাজ মীর কাদিম পাই নাই এই কাদিম দিয়েই কাজ চালাই। বিধাতা অনেক সহায় আমাদের উপর। তাই হইতো হতাশ করতে চায় নাই। নগর কসবা এত যেন দ্বিতীয় পানাম নগর ১৪-১৫টা পুরান ধাচের বাড়ি। এখান থেকে বের হয়ে গেলাম দরগা বাড়ী যাহা বাবা আদম শহীদ মসজিদ নামে পরিচিত। ৭০০ বছরের আগের সুলতানি আমলের মসজিদ এখনও টিকে আছে কালের বির্বতনে। এখানে আরও কিছু ট্যুরিস্ট পেলাম ঘুরতে এসেছে। ভালই লাগলো। এখানেই আমাদের সফরনামা শেষ।

পরে আমরা ট্যুরের ভিন্নতা রাখতে দীঘির পাড় বাসে উঠে গুলিস্তানের উদ্দ্যেশে রওনা দিয়েছি এবং এইটা ছিল জীবনের সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত। জ্যাম মোরে ক্ষমা করা। এই রুটে যারা আসবেন ভুলেও সন্ধ্যার পর বাসের রুট ব্যবহার করবেন না। কাঠপট্টি ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দ্যেশে লঞ্চ ছাড়ে। হাওয়া খেতে খেতে ঢাকায় ফিরবেন। জ্বী অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি আমরা এই দুই জেলা কভার করেছি ৩৬৯ টাকায় সাথে দুপুরের খাবার সকালের নাস্তাও যোগ করা হয়েছে। কি ভাবে যাবেন কেমনে যাবেন প্রশ্ন না করে পথে বের হয়ে পড়ুন। পথই আপনাকে পথ দেখিয়ে দিবে।

ভ্রমণ সংগীঃ

Tahsinul Islam Moon

ভ্রমণ স্থানঃ

নারায়নগঞ্জঃ

১। হাজীগঞ্জ দূর্গ,

২।বিবি মরিয়ম মাজার,

৩। কদমে রসূল দরগা,

৪। মেরিন একাডেমী,

৫। সোনাকান্দা দূর্গ

মুন্সিগঞ্জঃ

১।ইদ্রাকপুর কেল্লা,

২। অতিশ দিপংকরের ভিটা,

৩। নগর কসবা,

৪। বাবা আদম শহীদ মসজিদ

কি ভাবে যাবেনঃ

কমলাপুর রেল স্টেশন-নারায়নগঞ্জ বন্দর-হাজীগঞ্জ দূর্গ-বিবি মরিয়ম মাজার-বরফকল ঘাট-নদী পাড়-কদমে রসূল দরগা-মেরিন একাডেমী-সোনাকান্দা দূর্গ-মদনগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল- মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল-ইদ্রাকপুর কেল্লা- অতিশ দিপংকরের ভিটা-নগর কসবা-বাবা আদম শহীদ মসজিদ-ঢাকা।