সোনাদিয়ার ভালো নাম কি হওয়া উচিত?.. স্বর্ণদ্বীপ! ২০১২ তে ছেড়াদ্বীপে ক্যাম্প করেছিলাম। সেটা ছিল আমাদের প্রথম ক্যাম্পিং। অসাধারণ সব মজার স্মৃতি আছে সে ট্যুরের। ট্যুরমেটরা ছিলাম সবাই খুব কাছের বন্ধু। এরপর আমাদের সেভাবে আর একসাথে ট্যুর করা হয়নি। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস।বছরের এ সময়টা ক্যাম্প করার জন্য একদম পারফেক্ট। আমার চেস্টা ছিলো ছেড়াদ্বীপের পুরো গ্রুপটাকে একত্রিত করার। একত্রিত হবার একটা চমৎকার উপায় হলো সবাই মিলে ট্যুরে যাওয়া।

সোনাদিয়ার কথা শুনেছিলাম অনেক আগেই। এটুকু জানতাম এটা মহেশখালীর সাথে কানেক্টিং আরেকটা দ্বীপ।লাল কাঁকড়া আর ধুধু সাদা বালির এক অসাধারণ সুন্দর জায়গা নাকি! খুব নাকি নির্জন..আর গেলে ক্যাম্প করেই থাকতে হবে। কোন হোটেল নেই। আর বেশ ডাকাতপ্রবণ এলাকা...তবে ডাকাতদের সাথে নিয়ে তেমন সমস্যা নেই! এতটুকুই মোটামুটি জানা ছিলো...মোটামুটি প্ল্যান হয়ে গেছে আমরা সোনাদিয়াতেই যাচ্ছি সুতরাং আরো পারফেক্ট ইনফেরমেশন দরকার। আমাদের বন্ধুদের মধ্যেই ওখানে গেছে এমন রয়েছে। আর এ যুগে ইনফরমেশন মানেই হলো জাস্ট একটা ফোন নম্বর। ডিসিশন হলো আগে কক্সবাজার চলে যাবো তারপর যা করা লাগে সব করবো... চিটাগং থেকে আমি, চান্দু, বাপন, রাজেশ, দেবু আর অপু.. ঢাকা থেকে আসবে অনুপ আর তুষারদা। ছেড়াদ্বীপেও এতো বড় গ্রুপ ছিলো না!  সবমিলিয়ে ৮ জন.. টেন্ট ম্যানেজ হলো ৩ টা। আমরা ট্যুরটা কিছুটা গোপনই রেখে ছিলাম বলা যায়..কারণ এতো টেন্ট নেই আমাদের.. নেক্সট কাজ ডেট ফিক্স করা...আমাদের ক্যাম্পিংগুলো বেশিরভাগই হয় পূর্ণিমায়..বা তার আশে পাশে... ২৪ তারিখ খুব সম্ববত পূর্ণিমা ছিলো...ডিসিশন হলো ওদিনই রওনা দিবো একরাত থেকে পরদিন ব্যাক....আমাদের মধ্যে চান্দুর চাকরি লোহাগাড়াতে..এটা চিটাং কক্সবাজার হাইওয়ের উপরেই এক উপজেলা...আমরা চিটাং থেকে যারা যাবো তারা আগের রাতেই ওখানে চলে গেলাম... পরদিন এখান থেকেই কক্সে চলে যাবো...আর ঢাকা  থেকে অনুপ আর তুষারদা সরাসরি কক্সে আসবেন... ওখানেই দেখা হবে আমাদের....চান্দুর বাসাটা বেশ বড়ই.. আড্ডা দিতে দিতে সারারাত আর ঘুম হয়নি আমাদের....অনেকদিন পর আমরা একসাথে ট্যুর করছি... বেশ এক্সাইটিং!

পরদিন সকাল ৯ টার দিকে পৌছে গেলাম আমরা কক্সে...অনুপ আর তুষারদা আগে থেকেই ওয়েট করছেন... কক্সবাজার গিয়ে দেখি গাদা গাদা মানুষ...প্যাথেটিক বলা যায়! আমরা এখান থেকে কেটে পড়ার তালে আছি.. সবাই খাওয়াদাওয়া করে নিয়ে দ্রুত সোনাদিয়া যাবার ঘাটে চলে গেলাম আমরা... অনুপ আমাদের দেখে রীতিমতো উত্তেজিত!  (ছেলেটার উত্তেজনা এম্নিতেই বেশি) আমরা কেনো দেরি করছি  সে টেনশনে মারা যাচ্ছে...যাই হোক ফোন করে সোনাদিয়াতে সবকিছু সেটআপ করা হলো... এখন আমারা ভেসে পড়বো নীল দরিয়ায়...কিন্তু ঘাটে কেমন জানি সবকিছু ভেজাল লেগে গেলো... এম্নিতে ওখানো কোন বোট যায় না কোথক নাকি আনতে ফোন করে এসব চুদুরবুদর সব ঝামেলা শেষ করতে করতে ঘাটেই দুপুর ১ টা বেজে গেছে...আমরা ভেসে পড়লাম... এটা অনেকটা টাগবোট টাইপ ট্রলার... বডি বেশ ভালো...শুয়ে বসে বেশ আরামে যাওয়া যাবে... সুতরাং শুভস্য শীঘ্রম...

বোট চলছে... মহেশখালি সিবিচ এড়িয়ে আমরা অপরপ্রান্তের দিকে চলেছি... কূল কিনারা তেমন দেখা যায় না... প্রায় ঘন্টাখানেক চলার পর ধীরে ধীরে কোস্টলাইনটা পরিস্কার হচ্ছে আমাদের কাছে...সোনাদিয়া দ্বীপটা মহেশখালির সাথেই লাগানো... মাঝে বেশকিছু খাল রয়েছে.. এটা আবার পূর্ব পশ্চিম দুটো ভাগে বিভক্ত... আমরা চলেছি পশ্চিম দিকে... গাইড ওয়েট করছিলো আমাদের জন্য বিচে... সে যাত্রার সময়েই মাঝির সাথে কথা বলে নিয়ে স্পেসিফিক পয়েন্টটা বলে দিয়েছে... আমাদের নো টেনশন!  আমরা তখন বিন্দাস ভাবে তাকিয়ে আছি দ্বীপটার দিকে... জেলেরা মাছ ধরছে... আর ঘুরে ঘুরে আমাদের দিকে দেখছে! বিদেশী লোকজন খুব কম আসে মনে হয় তাই... প্রচুর সামুদ্রিক পাখি দেখলাম... এগুলো সাই করে নেমে মাছ টাছ তুলে নেয়... আবার উড়ে যায়...২ ঘন্টা পর পৌছে গেলাম কাংখিত জায়গায়...গাইড অপেক্ষা করছিলো আমাদের জন্য। একটা জায়গার পর বোট আর যাবে না... চরে আটকে গেছে..এটাতে কোন ঘাটজাতীয় কিছু নেই... আমরা লাফ দিয়ে হাটুপানিতে নেমে পড়লাম...

চরে আটকে গেছেশান্ত, সুন্দর মায়াবী দ্বীপ, সোনাদিয়াচরে আটকে গেছেশান্ত, সুন্দর মায়াবী দ্বীপ, সোনাদিয়া

দ্বীপে নেমেই মনটা কেমন যেনো ভালো হয়ে গেছে আমাদের.... বিশাল সীবিচ...আসল কথা আমরা ছাড়া কেউ নাই!  গাইডের সাথে প্রথম দেখা... নামধাম মোটামুটি সব জেনে নিয়ে কিভাবে কই থাকবো সেটার ব্যাপারে আলোচনা করছি আমরা... আমরা কক্সবাজার থেকে আসার সময়ে মুরগি, পানি,  ড্রাই কিছু খাবার দাবার সবই মোটামুটি নিয়ে নিয়েছিলাম...আর সাথে আছে টেন্ট আর ফানুস!  ফানুস আমাদের সাথে মোটামুটি সব ট্যুরেই এখন থাকে...কোনকিছু .উদযাপন করার এর থেকে ভালো কিছু হতেই পারে না!

দেবু এখানে আগেও এসেছে... সুতরাং সে মোটামুটি জানতো সবই...তখন সূর্য পশ্চিমকোণে হেলে পড়েছে। আমরা দ্বীপে নেমেই প্রথমেই টেন্ট পিচ করে ফেললাম। মুখটা সমুদ্রের দিকে...শুয়ে শুয়ে সমুদ্র দেখবো তাই! ক্ষিদায় মোটুমুটি জান চলে যাচ্ছে তখন আমাদের। গাইড বললো সব রেডি আছে ওর বাড়িতে...দ্বীপের একটু ভেতরে ওর বাড়ি...তরকারি তেমন আহামরি কিছু না ডিম ভাজি আর ডাল  কিন্তু যেন অমৃত! খেয়ে আর নড়াচড়া করতে পারছি না। কিন্তু দ্বীপ ঘোরা তো এখনো বাকি।  আমরা আবার চরে এসে পড়লাম...এরপর একদিকে হাঁটা স্টার্ট করলাম সবাই...আমরা মোটামুটি ঘন্টাখানেক হেটেছিলাম চরে...দ্বীপবাসী দুয়েকজন ছাড়া আর কেউ নেই...আমরা গল্প করছি আর হাঁটছি...যে যার মতোন আছি...বাপন অনেক দূরে ঝিনুক কুড়োকে ব্যস্ত...আমরা ফটোগ্রাফিতে... একটা খুব মজার জিনিস পেলাম এখানে... লাল কাঁকড়া। দূর থেকে দেখবেন কাছে গিয়ে ধরার উপায় নেই। সাইসাই করে গর্তে ঢুকে পড়ে...সকালবেলা এখানে কিছু জায়গা সম্পূর্ণ লাল কাকড়ায় ভরে যায়... দূর থেকে মনে হবে যেনো লাল মাটি।  আমি চেস্টা করছিলাম কাঁকড়াসহ সূর্যটাকে এক ফ্রেমে আনা যায় কিনা!  বহু কস্টে পেরেছিলাম অবশ্য....

লাল কাঁকড়ালাল কাঁকড়া

এই ফাঁকে দ্বীপটার একটু বর্ণণা দিয়ে নেই। আমরা যতটা হেঁটেছি মোটামুটি বুজলাম দ্বীপটা বেশ বড় আর লম্বাটে ধরণের।  ভেতরে বন আছে তবে অতটা ঘন নয়। লোকজনের ঘনবসতিও খুব কম। দ্বীপের আরেকটা দিকে নাকি বড় শুটকিপল্লী আছে। আমরা সময় পাইনি যাবার... দ্বীপের লোকজনের মূল পেশা মাছ ধরা। আর চান্স পেলে তারা ডাকাতি ও করে সম্ভবত। তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে প্রায়।আমরা আবার ব্যাক করলাম আমাদের টেন্টের দিকে। গাইড আমাদের টেন্টের কাছেই বসে ছিলো...একটা জিনিস খেয়াল করলাম.. আমরা যারা গেছি সবাই মোটামুটি চাটগাইয়া। কিন্তু গাইড যে কি ধরণের চিটাং এর ভাষা বলছে তা মাদের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে!  বোঝার কোন উপায় নেই। একটা আন্চলিক ভাষার যে কতো রূপ হতে পারে... আহা। গাইডকে বললাম একটু চায়ের ব্যবস্থা করতে... শরীর আর চলছে না একদম। চা খেয়ে একটু চাঙ্গা হলাম সবাই। চাঁদটা একটু একটু করে ফর্সা হচ্ছে...ঠান্ডা তেমন নেই। সমুদ্রপাড়ে নরমালি ঠান্ডা কম থাকে। কিন্তু আরেকটু আলোকিত হবার জন্য গাইডকে বললাম লাকড়ি আনো। আগুন জ্বালাবো।  আমাদের তো অখন্ড অবসর...কি করি কাম খুজি ন পাইর! ( কাজ খুজে পাচ্ছি না) হঠাৎ মনে পড়ছে ফানুস উড়াই!  চাঁদটা মাথার উপর... কি আছে জীবনে.....

ভরা পূর্ণিমায় ফানুস উড়ছে সোনাদিয়ার আকাশেভরা পূর্ণিমায় ফানুস উড়ছে সোনাদিয়ার আকাশে

ভরা পূর্ণিমায় ফানুস উড়ছে সোনাদিয়ার আকাশেভরা পূর্ণিমায় ফানুস উড়ছে সোনাদিয়ার আকাশে

ফানুস উড়ালাম মনে হয় দুটো। বাতাস তেমন নেই...কি সুন্দর উড়ে উড়ে সমুদ্রের দিকে চলে যাচ্ছে... সম্ভবত মিয়ানমারের দিকে!  নাসাকা বাহিনী ওগুলোকে দেখে ড্রোন ভেবে গুলি করে দেয় কিনা ভাবছিলাম আমরা!  আমরা সবাই গোল হয়ে বসে আছি... গল্পের কি কোন শেষ আছে...এ সময়গুলো খুব অদ্ভুত। প্রত্যেকের জীবনের নিজস্ব কিছু গল্প থাকে...এসময়গুলো নিজেকে অনেকটা ছেড়ে দেবার মতোন...অনুপ ছেলেটার মনটা মনে হয় একটু খারাপ...সে দেখি দূরে বসে আছে আর একমনে সমুদ্র দেখছে!  আসলে জায়গাটাই এমন.. আপ্নার কোনকিছু করতে হবে এমন কথা নেই...এরকম নির্জন জায়গায় আপ্নি একমনে বসে থাকলেই ভালো লাগবে...দেবু দেখতে গেছে কাহিনী কি অনুপের.. পরে দেখি সেও ওর সাথে বসে পড়েছে... আসল কাহিনী শয়তানটা দুটো হ্যানিক্যান বিয়ার এনেছে সুদূর ঢাকা থেকে!...সে নাকি মনে মনে চিন্তা করেছে আপনমনে বসে বসে বিয়ার খাবে আর সমুদ্র দেখবে! দলের দুএকজনের বিশেষ অ্যালকোহলপ্রীতি থাকলেও আমাদের বেশিরভাগেরই এগুলোতে তেমন ইন্টারেস্ট নাই! রাত বেড়েই চলেছে... আমরা আমাদের মতোন গল্পে মশগুল...পূর্ণিমার চাঁদটারে এতো সুন্দর লাগছে কেনো বুঝলাম না...চন্দ্রগ্রস্ত বলে একটা ব্যাপার আছে...আমরা তখন খুব সম্ভবত এটাতে আক্রান্ত ছিলাম...সবকিছু কেমন নেশা নেশা টাইপ! 

রাত তখন ১০ টা। গাইড বারবার তাগাদা দিচ্ছে খাবার জন্য। আসলে এখানে লোকজন তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে। আমার খেলে পড়ে উনার বাসার লোকজন ফ্রি হতে পারবে।  আমরা ঝটপট খেতে চলে এলাম। রাতের মেন্যু দারুণ। মুরগি, ডাল,  সবজি সবকিছু আছে। খাবার পরে আবার আমরা চরে। গাইডকে বল্লাম চা খাওয়াতে পারবে কিনা। দোকান নাকি বন্ধ হয়ে গেছে তারপরেও ফোন করে কিভাবে জানি ব্যবস্থা করে ফেললো ও সব। আমাদের কাছে তখন পুরো রাত পড়ে আছে...কি করবো কাজ তো নাই! ফানুস আরেকটা উড়িয়ে দিয়ে আবার গল্প শুরু। কি সব আজগুবি গল্প এবারে...জীবন, প্রেম, সাহিত্য, আরো কতকি হিসেব নাই। এদিকে শরীর আর চলছে না।  রাত প্রায় ২ টা বাজে। ডাকাতের ভয়টয় ও লাগছে না... আসলে যে মূল গাইড সে নিজেই বলছিলো ওর নামে নাকি ১৫ টার মতো মামলা!  দ্বীপের মূল ডাকাতের নাম নাগু মেম্বার ( কিছুদিন আগে র্যাবের ক্রসফায়ারে মারা গেছে)। সে বললো নাগু তার এলাকায় আসবে না বা সেও তার এলাকায় যাবে না সুতরাং নো টেনশন!  তার নিজের একটা টেন্ট আছে। সে দেখি আমাদের পাশেই ওটা সেট করে ফেলেছে। রাতে সে আমাদের সাথেই থাকবে আরো সেফটির জন্য।  

রাত ৩ টার দিকে কারোরই আর তেম এনার্জি নেই... ঘুমাতেই হবে।  সকাল ৬ টায় রওনা দিবো আমরা আবার।আমাদের বোটওয়ালা ও কাছেই নোঙ্গর করে আছে। সে পরদিন আমাদের কক্সবাজারে পৌছে দিয়ে বাড়ি চলে যাবে।  ভোর  ৪.৩০ টার দিকে আমি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হয়ে দেখি চাঁদটা লাল টকটকে হয়ে আছে। ইচ্ছে করছিলো একটা ছবি তুলি কিন্তু এতো ক্লান্ত। সুতরাং আবার ঘুম। সকাল ৭ টার ভেতর সবাই আবার জেগে গেলাম। টেন্টগুলো সব গুছিয়ে নিয়ে দেখি তখনো ২ টা ফানুস বাকি। চিন্তা করলাম উড়িয়ে দেই। ফানুস উড়িয়ে আমরা হালকা চা বিস্কিট খেয়ে বোটে উঠে পড়লাম।  বোট চলছে.. আমাদের ক্লান্তি যেনো যাচ্ছেই না। সবাই শুয়ে বসে আছি বা ঘুমাচ্ছে এমন...

 

আমরা মোটামুটি ট্যুরের শেষদিকে এসে পড়েছি। ট্যুরমেটদের কথা বলাই হয়নি! এ ট্যুরে সবচেয়ে বেশি মজা পেয়েছে মনে হয় বাপন ছেলেটা। ওর ফিজিক্যাল কিছু সমস্যার জন্য ছেলেটা কোন ট্যুরেই যেতে পারে না তেমন। এধরণের ট্যুরে ফিজিক্যাল তেমন কস্ট নেই দেখে ওকে নিয়ে নিয়েছি আমরা। দেবু আগেও এসছে...রাজেশ ছেলেটা এধরণের ট্যুরে কেমন যেনো গুম মেরে যায়! অনুপের কথা আগেই বলেছি...সে অনেকদিন পর আমাদের সাথে ট্যুর করছে.. মন শুরুতে খারাপ থাকলেও মেষদিকে ফুরফুরা হয়ে গেছে..চান্দু রকথা নতুনভাবে বলার কিছু নেই... তুষারদা আরেক বস লেভেলের লোক... উনি একা একা ২৮ বার ইন্ডিয়া গেছেন আর সবগুলো স্টেট ঘুরেছেন... শুধু উনার গল্প শুনতে গেলেও ১ বছর লাগবে...টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে উনি আমাদের সাথে জুটে গেছেন... অপু ছেলেটার মধ্যে একটা চরম রকমের কুল ভাব রয়েছে!  প্রতিটা ট্যুরেই নতুন একজন সদস্য থাকে। এ ট্যুরে হলো অপু ছেলেটা। সে একইসাথে ফটোগ্রাফার কাম মিউজিসিয়ান!  এতগুলা মাল্টিডাইমেনশনাল লোকজনের সাথে একরাত ক্যাম্প করার মজাই অন্যরকম! তবে ট্যুরটা আমি ডেডিকেট করবো বন্ধু  অনুপের প্রতি...সে শুধু একরাত থাকার জন্য যশোর থেকে এসছে ১৮ ঘন্টা জার্নি করে...ট্যুরের নেশা যে কি জিনিস... যারা এটাতে অভ্যস্ত না তারা এটা অনুভবই করতে পারবে না!  আমরা এর মধ্যেই কক্সে পৌছে গেছি। এরকম গাদা গাদা ট্যুরিস্ট একসাথে পৃথিবীর আর কোথাও জড়ো হয় কিনা জানি না আমি। অনুপ আর তুষারদা ঢাকা চলে যাবে...আমরা বাকিরা চাটিঁগাতে। সুতরাং সবাই একসাথে চা খেয়ে আলাদা হয়ে গেলাম আমরা। অনুপরা চলে গেলো আমরা একটু সুগন্ধা পয়েন্টের বিচ থেকে ঘুরে এসে রওনা দিয়ে দিলাম।

বাসে আসার সময় চিন্তা করছিলাম কক্সবাজার থেকে এতো কাছে এতো সুন্দর একটা সীবিচ এখনো লোকচক্ষুর অন্তরালে কিভাবে আছে! দ্বীপটার রীতিমতো প্রেমে পড়ে গেছি বলা যায়...আসল কথা এখনো বলা হয়নি টূরটার মূল ইনিসিয়েটর ছিলাম আমি...প্রতিটা ট্যুরই কাউকে না কাউকে শুরু করতে হয়। আমার অনেকদিনের ইচ্ছে এখানে আসা... আপ্নি যখন অপরিচিত কোন জায়গায় ক্যাম্প করতে যাবেন তখন সবসময়ই কিছু না কিছু রিস্ক থেকে যায়। আপ্নি ইনফরমেশন জোগাড় করতে গেলে অনেক রকম তথ্য পাবেন...একদম সলিড তথ্য ছাড়া এসব জায়গায় আসার চিন্তাও করা উচিত না...জান নিয়ে টানাটানিতে পড়তে পারেন!  টূর অ্যারেন্জ করতে গিয়ে সবচাইতে বড় ঝামেলা হলো সবার ছুটি মেলানো তারপর পূর্ণিমা রাত পাওয়া... যাই হোক সবকিছু ভালোভাবে হয়েছে এটাই আসল কথা... সময় খুব কমছিলো তাই পুরো দ্বীপটা ঘুরে দেখা হয়নি... এ দ্বীপে সম্ভবত আমরা আবার ক্যাম্প করবো...পুরোটা না হয় তখনই দেখা যাবে...সুন্দর জায়গাগুলো একবারে দেখে নেয়া ঠিক নয়!  পাঠকরাও নিশ্চয় একমত হবেন এটাতে...!