ভ্রমণ করতে কার না ভালো লাগে? মাঝেমধ্যে প্রকৃতির বুকে হারিয়ে যেতে আমাদের সবারই ইচ্ছা করে! প্রকৃতির কাছাকাছি এলেই মন এক ধরনের প্রশান্তিতে ভরে যায়। আর ভ্রমণের জন্য শহুরে যান্ত্রিক জীবনের ফাঁকে দেশে বসেই পেতে পারেন বিলাসবহুল ভ্রমণের মজা। বিশ্বের সেরা সব সুবিধা নিয়ে আমাদের দেশের এই রিসোর্টগুলো আছে আপনারই অপেক্ষায়। 

১০. নাজিমগড় রিসোর্ট 


 
সিলেট শহর থেকে সামান্য দূরে খাদিমনগরে এক নির্জন দ্বীপে ছয় একর জায়গা বিশিষ্ট এই নাজিমগড় রিসোর্ট। তাদেরই ব্যবস্থাপনায় মেঘালয় সীমান্তে লালাখালে তৈরি হয়েছে পিকনিক স্পট। দিনের বেলা লালাখালে নৌকায় বেড়ানো কিংবা পাশের খাসিয়া পল্লী ঘুরে দেখা, হয়তোবা চা বাগানের সরু পথে হাঁটাহাঁটি করে বিকেল-সন্ধ্যায় নিরিবিলি সময় কাটানো। এক আদর্শ অবসর যাপন কেন্দ্র নাজিমগড় রিসোর্ট।
 

পাহাড়ের ঢেউ দেখার দারুণ জায়গা এটি। ১৫টি কটেজ আছে এখানে। এগুলোকে আবার তিনভাগে ভাগ করা হয়েছ যথা: বিশাল টেরেস, ছোট ছোট বাংলো ও বড় ভিলা।  সবচেয়ে বড় কথা প্রতিটি স্থাপনাই গাছপালা-জঙ্গলে ছাওয়া টিলার ধারে। ভিলা, টেরেস বা বাংলোর বারান্দায় বসে হাত বাড়ালেই যেন পাওয়া যায় গাছগাছালির ছোঁয়া। 
 
এছাড়াও রয়েছে এক বাগান, সুইমিং পুল, পিকনিক ও ক্যাম্পিং স্পট, স্পা ও পুল, যেখানে দূর করতে পারেন শরীরের অবসাদ। নদীতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নিজস্ব স্পীডবোট। স্পীডবোট চড়ে সারি নদী হয়ে লালাখাল ভ্রমণ- যে কোনো পর্যটকের জন্যই লোভনীয় অফার।


লালখালে আবার রয়েছে নাজিমগড়ের আকর্ষনীয় রেস্টুরেন্ট, সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও ওপারের মেঘালয় পাহাড় দেখার জন্য পাহাড়ের উপরে ওয়াচ টাওয়ার। নুড়ি পাথরের রাজ্য জাফলংয়ের পাশে এমন একটি রিসোর্ট সত্যিই অসাধারণ। 


এই রিসোর্টে থাকতে প্রতিরাতে খরচ হবে ১২ হজার ৫০০ থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। 
যোগাযোগ করতে পারেন ঢাকা ও সিলেটে; ফোন : ৮৮৫৩৮৫৭, (০৮২১) ২৮৭০৩৩৮, ২৮৭০৩৩৯, ০১৭৩০৭১২৬০০, ০১৭২৯০৯৭৮৪৯, ০১৯১৬২৭১৯৩৫, ০১৭৪৭২০০১০০। ইমেইল: info@nazimgarh.com


০৯. হোটেল ওশান প্যারাডাইস

 
কক্সবাজারের কলাতলী মোঢ়ে সড়কের পশ্চিম পাশে দু’একর জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল পাঁচ তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস। কোলাহলমুক্ত পরিচ্ছন্ন ও শীতল পরিবেশে সেবাব্রত দিয়ে অতিথিদের আবিষ্ট করা-ই এ হোটেলের অন্যতম লক্ষ্য। এখানে শুনতে পাওয়া যাবে ঢেউয়ের উন্মাতাল আহবান আর ঝাউবনের শন শন সুরের মুর্চনা।
হোটেলটিতে আধুনিক মানের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের রুম রয়েছে, ক্যাপ্টেন কক্স বল রুম, শাহ সূজা ও আরাকান হল রুম। জাকুজি, বাথটব ও বিদেশী সব ব্যবহার্য জিনিসে থাকার কক্ষটি পরিপাটি করে সাজানো।

 

 

শয়ন কক্ষে ঢুকে জানালার পর্দা সরালে অথবা বারান্দায় দাঁড়ালে দেখবেন বালিয়াড়িতে আছড়ে পড়ছে ঢেউ। তখন মনে হবে ঢেউটা বুঝি আপনার পা ছুঁয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে! আর্থিক সঙ্গতির সাথে আবাসন সুবিধা দিতে সী-ভিউ’র পাশাপাশি পাবেন হিল ভিউ রুম। এছাড়াও রয়েছে সুইমিং, শরীর চর্চা কেন্দ্র আর স্পা।
 
আরো রয়েছে আধুনিক রেস্তোরা। এখানে অথিতিদের সেবা দিতে রয়েছে স্কাই বার রেস্তোরা। আকাশের হিম শীতল ছায়ায় বসে এখানে স্বাদ নিতে পারেন বার-বি-কিউসহ রুচিশীল নানা খাবারের। হোটেলের ছাদে হেলিপ্যাডের ব্যবস্থা রয়েছে।


 
খরচ কেমন: এখানে কক্ষভেদে প্রতিরাতে আপনাকে গুনতে হবে ৮ হাজার টাকা থেকে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত।

যোগাযোগ: ২৮-২৯ হোটেল মোটেল জোন, কলাতলী রোড,কক্সবাজার, বাংলাদেশ ফোন: +৮৮ ০১৯৩ ৮৮৪৬৭৬১-৬৫  

 

০৮. মারমেইড ইকো রিসোর্টে


 

 নিরিবিলি ও স্নিগ্ধ পরিবেশে অবকাশ যাপনের চমৎকার সব আয়োজন রয়েছে মারমেইড ইকো রিসোর্টে। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের জরিপে মনোনয়ন পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান মারমেইড ইকো রিসোর্ট। সাধারণত ইকো ট্যুরিজম বলতে আমরা যা বুঝি তা হলো, একটি জায়গার প্রকৃতির ক্ষতি না করে পর্যটনকে এগিয়ে নেয়া। অর্থাৎ গাছপালা, নদী, পাহাড়-পর্বত বা সেখানকার জীববৈচিত্রের অনিষ্ট না ঘটিয়ে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করা। বিষয়টি মাথায় রেখে কক্সবাজারে গড়ে উঠেছে মারমেইড ইকো রিসোর্ট। এটি এখন পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
 
কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে মাত্র ষোল কিলোমিটার দূরে জেলেদের ছোট্ট একটি গ্রাম প্যাঁচার দ্বীপ। ঠিক তার পাশেই রেজুখাল নদী। এখানেই গড়ে উঠেছে মারমেইড। অবাক করা বিষয় হলো তাদের সীমানায় রয়েছে নিজস্ব সমুদ্র সৈকত। 
 

এখানে অতিথিদের থাকার ঘরগুলো বাঁশ ও ছনের ছাউনিতে তৈরি। চারপাশের নৈসর্গিক দৃশ্যের সাথে মিল রেখে প্রায় প্রতিটি জায়গায় মাটি এবং সাধারণ কাঠ রঙের ব্যবহার করা হয়েছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন জিনিসপত্র যথাসম্ভব কম ব্যবহার করা হয়েছে।

এখানে রয়েছে ইয়োগা সেন্টার, স্পা, নৌ-ভ্রমণ ব্যবস্থা, কনফারেন্স রুম, মিনি থিয়েটার ইত্যাদি। রিসোর্টে কটেজ আছে প্রায় ত্রিশটি। আগত অতিথিরা যাতে সমুদ্র স্পর্শ করে আসা নির্মল বাতাস আর বর্ষায় বৃষ্টির ঝিরিঝিরি শব্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারে সে জন্য কটেজের জানালা এবং দরজাগুলো বেশ বড় বড় করে তৈরি।

কটেজের ভেতর নেই কৃত্রিম আলো। কেবল খয়েরি কাগজের ঠোঙার ভেতর মোমের মিটিমিটি আলোর ব্যবস্থা। প্রতিটি কটেজের অভ্যন্তরে রয়েছে আধুনিক সমস্ত সুযোগ-সুবিধা। তবে বেশীরভাগই প্রাকৃতিক জিনিসপত্র।
  
শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য নয়, টাটকা খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রেও অনন্য মারমেইড। নিজেদের বাগানের সবজি ও সতেজ ফল পরিবেশন করা হয় খাবার টেবিলে। কলার মোচার লালচে খোলায় ফিশ ফ্রাই। শুকনো নারিকেলের ছোবড়া-মালাসহ অর্ধেক অংশকে বাটির মতো বানিয়ে তাতে কলাপাতা মুড়ে পরিবেশন করা হয়েছে চিকেন ফ্রাই। খাবারের মেন্যুতে এ রকম ৯৯টি আইটেম।

খরচ কেমন:
রিসোর্টটিতে থাকতে কটেজ অনুযায়ী খরচ হবে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ১১ হাজার ৫০০ পর্যন্ত। 

যেতে চাইলে

ঢাকা থেকে বিমান বা বাসে করে সরাসরি যাওয়া যায় কক্সবাজার। কক্সবাজার থেকে মাইক্রো বা অন্য গাড়িতে করে কলাতলী বিচ পার হয়ে যেতে হবে মারমেইড ইকো রিসোর্টে।

যোগাযোগ
মারমেইড ইকো রিসোর্ট, রিজার্ভেশন অ্যান্ড ইনফো ৮৮০১৮৪১৪১৬৪৬৪-৯, ঢাকা অফিস: হাউজ-৩৩ (দ্বিতীয় তলা), রোড-১১, বারিধারা, ঢাকা। 

www.mermaidecoresort.com

 

০৭. সাইরু হিল রিসোর্ট


 
ভাবুন তো! আপনি সাঁতার কাটছেন এমন এক সুইমিংপুলে যেটি কিনা সমুূদ্রপৃষ্ঠ হতে প্রায় ১৮০০ ফুট উপরে, যেখানে দাঁড়িয়ে দিগন্তজুড়ে ঢেউ খেলা পাহাড়ের ভাজ ও শুভ্র মেঘের সমুদ্র দেখতে পাচ্ছেন।
 
হ্যা, এমনি এক লাক্সারী রিসোর্ট- "সাইরু হিল রিসোর্ট" যেটি চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত পার্বত্য অঞ্চল বান্দরবান জেলায় অবস্থিত। বান্দরবান শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে চিম্বক রোডে পড়বে নতুন এই রিসোর্টটি। মোট ২৪টা রুম আছে এখানে। থাকার পুরো বন্দোবস্ত পাহাড়ের ওপরে।
 


আশেপাশের পাহাড়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পাহাড়টিতে গড়ে উঠা এই রিসোর্ট এ যে কোন সিজনে গেলেই ভাল লাগবে। শীতকালে গেলে মনে হবে কুয়াশার চাদরে মুড়িয়ে রেখেছে কেউ আপনাকে। তবে ভ্রমণপিপাসুদের মতে বর্ষাকাল হচ্ছে সাইরু রিসোর্ট ভ্রমণের সবচেয়ে পারফেক্ট সময়।
 
সাইরুর রয়েছে সুবিশাল রেস্টুরেন্ট এন্ড ওপেন টেরেস। যেখানে আপনি প্রায় ৭ ধরনের স্ন্যাক্স/ব্রাঞ্চ, ৫ ধরনের স্যুপ, ২০ ধরনের দেশী খাবার, ৫ ধরনের খিচুড়ি/বিরিয়ানি, ১২ ধরনের চাইনিজ আইটেম, ১০ ধরনের বার-বি-কিউ আইটেম, ১৬ ধরনের বেভারেজ আইটেম, ৫ ধরনের ডেজার্ট আইটেম ও কয়েক ধরনের সিজনাল জুস রয়েছে। এছাড়াও ১১ ধরনের ট্র্যাডিশনাল আইটেম রয়েছে তাদের সমৃদ্ধ মেন্যুতে। 

খরচ কেমন
রিসোর্টে ২০টি কটেজ রয়েছে। আর কটেজগুলোর জন্য রয়েছে বিভিন্ন প্যাকেজ। প্রিমিয়ার, এক্সিকিউটিভ, সাঙ্গু ভিউ সাথে ছাদ এবং শুধু সাঙ্গু ভিউ- এই হচ্ছে তাদের বিভিন্ন প্যাকেজের নাম। যেগুলো আপনি পাবেন ৭ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৭ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে। তবে সময়ভেদে রয়েছে বিভিন্ন রকম ছাড়ের ব্যবস্থা। 

যোগাযোগঃ ০১৫৩১৪৭৭৭৭৭ (ম্যনেজার)

০৬. ভাওয়াল রিসোট
 


 প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা নীরব এবং ছায়াঘেরা এক রিসোর্ট হচ্ছে গাজীপুরের ভাওয়াল রিসোর্ট। যা আপনাকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যাবে। রিসোর্টটি গাজীপুর জেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের নলজানি গ্রামে অবস্থিত। এটি প্রায় ৬৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
 

রিসোর্টে ৫টি জোন ও ৬১টি কটেজ রয়েছে।
 


এখানে ঘুরাঘুরিসহ সুইমিং পুল ও স্পা সুবিধা পাওয়া পায়। চাইলে হানিমুন, ফ্যামিলি ট্যুরসহ বিয়ে, কনফারেন্স, সেমিনারও করতে পারবেন।
  
এছাড়াও অতিথিদের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ৪৫ জন আনসার। রিসোর্টের সার্বিক দেখাশোনার জন্য রয়েছে ১৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

খরচ কেমন: 
রিসোর্টে প্রতিরাতে কক্ষভেদে গুনতে হবে ৯ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।

যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে গাজীপুরগামী যেকোনো বাসে যেতে পারেন। গাজীপুর নেমে সেখান থেকে মির্জাপুর ইউনিয়নের নলজানি গ্রামে গেলেই পেয়ে যাবেন। তবে কেউ চাইলে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়েও যেতে পারেন।

যোগাযোগ: https://www.bhawalresort.com  +৮৮০-১৮৭১০০৪০০৭, +৮৮০-১৮৭১০০৪০০৯,+৮৮০-১৮৭১০০৪০০৫

(আগামী পর্বে সমাপ্য)