ছিটমহল নিয়ে এককালে দৈনিক পত্রিকায় বেশ লেখালিখি হত বিধায় তিন বিঘা করিডোর নিয়ে সেই ছোটবেলা থেকেই একটা আগ্রহ জন্মেছিল। আগ্রহ আর ব্যাট বলে মিলে যাওয়ায় এই মাসের ১৯ তারিখ বৃহস্পতিবার রাত ৮ টা বাজে হানিফের বাসে চড়ে বুড়িমারির উদ্দ্যেশে রওনা দিলাম। ড্রাইভার সাহেব ১৫ বছর পর এই রুটে গাড়ী চালাচ্ছেন বিধায় আমরা রাতের বেলায় কোন খেলা দেখতে পারলাম না। কাছুয়ার গতিতে টেনে চান্দুরা এলেংগার জ্যাম ঠেলে বুড়িমারি পৌচ্ছলাম সকাল ৯.৩০ বাজে।

আমাদের সফর সংগীরা এত বিশাল জার্নিতে হাল্কা টায়ার্ড ছিল। তাই হাল্কা রেস্ট নিয়ে চলে গেলাম বুড়িমারির বিখ্যাত বুড়ির হোটেলে। সকালের নাস্তা খেয়ে বুড়িমারি জিরো পয়েন্ট স্থল বন্দরটা দেখে নিলাম। এরপর এখান থেকে ভ্যান ভাড়া করে গল্প গুজব করতে করতে চলে এলাম বুড়িমারি রেল ষ্টেশন। সোনায় সোহাগা। স্টেশনে কমিউটার ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। বুড়িমারি হয়ে পার্বতিপুর যাবে। পথে থামবে পাটগ্রাম।

আমাদের গন্তব্যপথের সাথে খাপে খাপে মিলে গেল। সাত পাচ না ভেবে উঠে পড়লাম। ১৫ মিনিট ট্রেনে হাল্কা ঝিমুনি দিয়ে চলে এলাম পাটগ্রাম। পাটগ্রাম স্টেশন থেকে রিক্সা করে পাটগ্রাম বাইপাস রোড আসার পর নজরে পড়লো একটা সাইনবোর্ড। আংগরপোতা ১৯ কি.মি. দহগ্রাম ১৩ কি.মি তিন বিঘা করিডোর ১২ কি.মি.। একটা অটো ভাড়া করে নিলাম আমাদের আংগরপোতা, দহগ্রাম, তিনবিঘা করিডোর ঘুরিয়ে এনে আবার পাটগ্রাম বাইপাসে ছেড়ে দিবে। শুরু হল এক রোমাঞ্চকর যাত্রার। দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় যেতে হলে প্রায় ১৭৮ মিটার ভারতীয় ভূখণ্ড পার হয়ে যেতে হয় যেইটা তিন বিঘা করিডোর নামে পরিচিত।

কাগজে কলমে ইহার মালিক বাংলাদেশ হইলেও রক্ষনাবেক্ষনের পুরা দ্বায়িত্ব ভারত সরকারের। চলতে চলতে এসে পড়লাম করিডোরের সামনে। করিডোরের চারপাশে লোহার বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা। সোজা বরাবর রোডটি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য আর ডান বামের রাস্তা ভারতীয়দের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ। করিডোর পার করে দেখতে পারলাম দহগ্রামের মাইল ফলক। দহগ্রাম পার করে ৭ কি.মি পরে পেলাম আংগরপোতা। একেবারে শেষ সীমানায়। এখানে আছে বাংলাদেশের শেষ বাড়ী।

এখান থেকে ভারতীয় কাটাতার বেড়া গুলো কাটা হয়ে চোখে বিধলো। কি অদ্ভূত ভাবে দেশ ভাগ হল সব ভাল অংশগুলা পড়েছে ভারতে। হতাশার বাতাস খেতে খেতে আমাদের পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দ্যেশে রওনা দিলাম। আসার পথে করিডোরের সামনে ফটো সেশন পর্ব শেষ করলাম। এরপর তিস্তা ব্যারেজ থেকে নীলফামারির বুক চিড়ে পঞ্চগড় যাবার গল্পটা না হয় আর একদিন শুনাবো।