রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কাঁসাদহ গ্রামে ২০ জন যুবক মিলে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে উদ্ধার করা বিষধর গোখরা নিয়ে সাপের খামার গড়ে তুলেছেন। মূল উদ্যোক্তা হলেন মো. রবিউল ইসলাম রঞ্জু মল্লিক।

বর্তমানে এই খামারটিতে ৬-৮ প্রজাতির ৭০-৮০টি বিষধর গোখরা সাপ রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির সাপের মধ্যে বিষাক্ত গোখরা,খইয়া গোখরা,রাজ গোখরা,অজগর সহ বিভিন্ন ধরনের সাপ রয়েছে।কয়েকটি সাপ ইতোমধ্যে ডিমও দিয়েছে। সাপগুলোকে প্লাস্টিকের খাঁচা ও ১৫টি হাউজের মধ্যে পালন করা হচ্ছে।

সাপের খামার... রাজবাড়ীসাপের খামার... রাজবাড়ী

রন্জু ভাই এর সাথে কথা বলে জানতে পারি, তিনি ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে জৈব সার ও সাপের খামারের কিছু তথ্য পান। পরে রন্জু ভাই যোগাযোগ করেন ঝিনাইদহের জৈব সার খামারি হেলাল উদ্দিন এবং পটুয়াখালীর সাপের খামারি আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে। হেলাল উদ্দিনের পরামর্শ অনুযায়ী দেশের খ্যাতিমান কৃষিবিজ্ঞানী এম গুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে গড়ে তুলেছেন এই সাপের খামার।

সাপের খামার... রাজবাড়ীসাপের খামার... রাজবাড়ী

এলাকাবাসী প্রথমে তাকে পাগল বলে আখ্যায়িত করলেও এখন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এলাকায় এখন আর কেউ সাপ মারে না। কারো বাড়িতে সাপ ধরা পড়লে রন্জু ভাইকে খবর দেয়। তখন রন্জু ভাই তার লোকজন নিয়ে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করে খামারে নিয়ে আসে। খামারের সাপগুলোকে সপ্তাহে একদিন করে ছোট মুরগীর বাচ্চা ও ক্ষেতে খামারে পাওয়া দেশী ইঁদুর খাওয়ানো হয়। ৭ দিনে দুই বার গোসল করাতে হয়। একদিন সাপের খাঁচা ও ঘর পরিস্কার করতে হয়। সাপ ধরতে ও পালন করতে লাঠি,টং, হাত মোজা, গ্লাভস,পায়ে বড় বুট ব্যবহার করতে হয়।

সাপের খামার... রাজবাড়ীসাপের খামার... রাজবাড়ী

প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খামার উন্মুক্ত করা হয়।

যেভাবে যাবেন:-
ঢাকা থেকে পাংশা যায় এমন বাসে উঠে (গাবতলী থেকে হানিফ পরিবহন,রোজিনা পরিবহন,লালন পরিবহন) কালুখালী বাংলাদেশ হাট নামক জায়গায় নামতে হবে। সেখান থেকে ৪ কি.মি দূরে সাপের খামার।ভ্যান অথবা ব্যাটারী চালিত ইজি বাইকে এর চালককে সাপের খামার বললেই নিয়ে যাবে।

সাপের খামার... রাজবাড়ীসাপের খামার... রাজবাড়ী