লেখা ও ছবি- আহমাদ ইশতিয়াক 

নদীর মাঝে সারি সারি ট্রলার নৌকা। ট্রলার থেকে পেয়ারা তোলা হচ্ছে ট্রলারে। ছোট ছোট খাল এসে মিশেছে সন্ধ্যা নদীতে। দুপাশে যতো গ্রাম সব গ্রামেই পেয়ারার বাগান। পেয়ারা চাষীরা পেয়ারা ভর্তি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে যাচ্ছে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে! অপূর্ব এক দৃশ্য। খালের দুপাশের বাড়িগুলোর যাতায়াতের একমাত্র বাহন নৌকা। এ যেন এক জলের সাম্রাজ্য। এদিকেই বসে বাংলাদেশের বিখ্যাত ভাসমান পেয়ারা বাজারগুলো। বেচাকেনা সমস্তই জলের উপরে।

বাংলাদেশের ভাসমান পেয়ারা বাজার বসে বরিশাল বিভাগের জেলা ঝালকাঠী ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠীর বিভিন্ন জায়গায় । এর মধ্যে সবচেয়ে নামকরা হলো ভিমরুলি, আটঘর, কুড়িয়ানা বাজার। এই ভাসমান বাজারগুলো অনেকে থাইল্যান্ড এর ফ্লোটিং মার্কেট এর সাথে তুলনা করে থাকেন। প্রতিদিন হাজার হাজার মন পেয়ারা কেনাবেচা হয় এই অঞ্চলে। দূর দুরান্ত থেকে নদীপথে পাইকাররা পেয়ারা কিনে। এই অঞ্চলের অসংখ্য পেয়ারা বাগান থেকে পেয়ারা কিনে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা।

ভিমরুলি হাট খালের একটি মোহনায় বসে। তিনদিক থেকেই এই খালটি খোলা আর প্রশস্ত। ভিমরুলি গ্রামের আশেপাশে রয়েছে অসংখ্য পেয়ারা বাগান।পেয়ারার মৌসুম শেষ হলে আসে আমড়ার মৌসুম। এ অঞ্চলে আমড়ার ফলনও সর্বত্র। আর সবশেষে আসে সুপারি। একটু কম হলেও বছরের অন্যান্য সময়ও ব্যস্ত থাকে এই হাট। ফল ছাড়াও এখানের প্রধান পণ্য বিভিন্ন রকম সবজি। আর শুক্রবারে আটঘরে সন্ধ্যা নদীতে বসে নৌকার হাট।

কিভাবে যাবেনঃ ঢাকা থেকে সড়ক ও নৌ পথ দুই ভাবেই যাওয়া যায়। সবচেয়ে ভালো হয় লঞ্চে গেলে। রাতে লঞ্চে উঠে পরদিন ভোরে বরিশাল পৌঁছাবেন। নথুল্লাবাদ থেকে বানারীপাড়ার বাস পাবেন।

সড়ক পথে ঢাকার গাবতলি থেকে বরিশাল এর বাস ছাড়ে ভাড়া ৪০০ টাকা। এছাড়া আপনি মাওয়া যেয়ে লঞ্চে বা স্পীড বোটে ওপাড়ে যেয়ে বিআরটিসি বাসে করে বরিশাল যেতে পারবেন। বরিশাল এর নথুল্লাবাদ থেকে বাসে অথবা সি এন জি করে যেতে হবে বানারিপাড়া। সি এন জি তে ভাড়া নিবে ৪০/৫০ টাকা। তারপর সেখান থেকে নসিমনে ১৫ টাকা ভাড়া দিয়ে যাবেন কুড়িয়ানা। 
একটু হেটে একটা ব্রীজ পাড় হয়ে আবার অটো করে ৫ টাকা ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন আটঘর ও কুড়িয়ানা বাজারে।আর ভিমরুলি যেতে চাইলে বানারিপাড়া থেকে নৌকা বা ট্রলারে যাওয়াই ভালো।

কখন যাবেনঃ জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রতিদিনই জমজমাট থাকে এই হাট।

ভাসমান পেয়ারা বাজার ভ্রমন এর পাশাপাশি বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ গুঠিয়া মসজিদ ঘুরে আসতে পারেন। আর অবশ্যই গুটিয়ার সন্দেশ না চেখে আসবেন না। সাথে দুর্গা সাগর দিঘী। বানারিপারা থেকে বরিশাল আসার পথে রাস্তার পাশেই এই দুটো জায়গা।

বি: দ্র: প্রকৃতি ও নদী আমাদের সম্পদ। দয়া করে প্রকৃতি ও নদীতে যত্রতত্র ময়লা ফেলবেন না। আপনি যেমন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম যেন অধিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।