পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতগুলোর মধ্যে একটি। 

সাগরের অপার সৌন্দর্য্য যাদের হাতছানি দিয়ে ডাকে তারা ঘুরে আসতে পারেন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে। সাগরের বুকে অস্তমিত সূর্যের ম্রিয়মান আলোর রূপ দেখতে, বিশুদ্ধ বাতাসে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে কার না ভালো লাগে। সাগরের উত্তাল হাওয়া সাময়িকভাবে হলেও বুকের ভিতর জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসের কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। বিস্তৃত সাগর, সাগরের ঢেউ, সূর্য্যাস্তমিত বিকেল মুহুর্তেই যেকারো বিষন্ন মন ছন্দে মাতিয়ে তুলতে পারে!

পতেঙ্গা সৈকতের প্রস্থ খুব বেশি নয় এবং এখানে সমুদ্রে সাঁতার কাটা ঝুঁকিপূর্ণ। সমুদ্র সৈকতজুড়ে ভাঙ্গন ঠেকাতে কংক্রিটের দেয়াল এবং বড় পাথরের খণ্ড রাখা হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে সৈকতের আশেপাশে বেশকিছু রেস্টুরেন্ট এবং খাবারের দোকান স্থাপিত হয়েছে। সৈকতে বাতির ব্যবস্থা করায় রাতের বেলা ভ্রমনকারী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। সূর্যোদয় দেখার জন্য এখানে আসতে হলে আপনাকে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে।

shuvabiswas.wordpress.comshuvabiswas.wordpress.com

কিভাবে যাবেন?

চট্টগ্রাম শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এটি। পতেঙ্গা চট্টগ্রামের একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, যা কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে এর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। বর্তমানে সিমেন্ট দিয়ে বাঁধ দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের এ.কে খান কিংবা জিইসি থেকে খুব সহজে যেতে পারবেন। চট্টগ্রামে বসবাসকারীদের নতুন করে যাবার উপায় বলার দরকার নেই। তাই যদি আপনি সড়ক পথে আসেন তবে এ.কে খান হয়ে সরাসরি চলে যাবেন পতেঙ্গায়। ‘সী-বিচ’ লেখা বাসগুলোতে উঠে যাবেন। আর যদি জিইসি থেকে যেতে চান তবে ১৮০-২০০ টাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে যেতে পারবেন।

কী দেখবেন সেখানে?

 শাহ আমানত বিমান বন্দর, বিএনএস ঈশা খান (বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাটি) ও দেখবেন চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি। এগুলো সব কাছাকাছি তাই আলাদা করে যাওয়ার পথ বলতে ইচ্ছে করছেনা। সৈকতে আছে বার্মিজ মার্কেট। সেখানেও ঘুরে ফিরে পছন্দের কেনাকাটা সেরে নিতে পারবেন। এখানে সন্ধ্যার দিকে সূর্যাস্তের দৃশ্য খুবই মনোরম। সবচেয়ে ভাল লাগবে সন্ধ্যার পরিবেশ। সুতরাং থাকতে পারেন সন্ধ্যা পর্যন্ত। প্রচুর লোকের সমাগম হবে সেখানে। বিকেলের দিকে মন চাইলে পানিতে নেমে আনন্দের মাত্রা আরও বাড়াতে পারবেন। পাবেন ২০ টাকায় ঘোড়ার পিঠে চড়ার সুযোগ। সেই সাথে আছে স্পীডবোড কিংবা কাঠের তৈরি নৌকায় ওঠার সুযোগ। জাহাজের চলাচল কিংবা মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমানও দেখবেন।

archive.bbarta24.netarchive.bbarta24.net

সৈকতে ঘুরতে গিয়ে যেকোন  ধরণের বিপদ কিংবা অভিযোগ সম্পর্কে জানাতে পারবেন বন্দরে থাকা ভ্রাম্যমাণ পুলিশ ফাঁড়িতে। স্পীডবোড, নৌকা, ঘোড়া যেখানেই যান না কেন আগেই ভাড়া শুনে নিবেন। কারণ এরা সবাই আপনাকে ঠকানোর চেষ্টা করবে। আর পতেঙ্গা সৈকতের বেশি উত্তর দিকে একা একা হাঁটতে যাবেন না যেন!