দক্ষিণ এশিয়ার ছোট্ট ও সুন্দর একটি দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকার সৌন্দর্যের পাশাপাশি মুগ্ধতা ছড়ায় ছোট ছোট শহরগুলো। ছবির মতো সুন্দর এই দেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ১০ টি শহর নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন। চলুন দেখে আসা যাক-

১. রাজশাহীঃ এটি সিল্ক শহর নামে পরিচিত। ছোট ও সুন্দর শহরের মধ্যে রাজশাহীর অবস্থান এক নম্বরে। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে কম দূষিত শহর। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের মতে, রাজশাহী শহরে বায়ু দূষণ ৬৭.২% কম।

BDSearcher.comBDSearcher.com

২. সিলেটঃ এই তালিকায় সিলেটের অবস্থান দ্বিতীয়। সিলেট সুরমা নদীর তীরে অবস্থিত। এখানকার পাহাড়, নদী, হ্রদ, চা বাগান, বৃষ্টিপাত এবং জলপ্রপাতের সৌন্দর্য পর্যটকদের বেশ আকর্ষণ করে।

৩. ঠাকুরগাঁওঃ ৩য় স্থানে রয়েছে ঠাকুরগাঁও। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ও নদীর জন্য ঠাকুরগাঁও বেশ বিখ্যাত। ব্রিটিশ আমলে এক ঠাকুর পরিবারের প্রচেষ্টায় বর্তমান পৌরসভার কাছাকাছি একটি থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই পরিবারের নাম অনুসারে এই থানার নাম হয় ঠাকুরগাঁও। ১৮ শতকের তৈরি অনেক মন্দির দেখতে পাওয়া যায় ঠাকুরগাঁও-এ।

৪. পাহাড়পুরঃ পাহাড়পুর একটি ছোট সাইজের শহর, যা নওগাঁ জেলায় সবচেয়ে সুপরিচিত। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার  বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার যা ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অংশ। এই বিহার তৈরি করেছিলেন অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকের প্রথম দিকে পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেব (৭৮১-৮২১) । স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে এই বিশাল স্থাপনা আবিষ্কার করেন।পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার হিসেবে পাহাড়পুরকে বলা যেতে পারে, আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের সাথে তুলনা হতে পারে।

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের বিখ্যাত ধর্ম শিক্ষাদান কেন্দ্র ছিল। উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই শুধু নয়, চীন, তিব্বত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মায়ানমার (তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন। খ্রিস্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ছোট শহরের তালিকায় পাহাড়পুরের অবস্থান চারে।

৫. কমলগঞ্জঃ কমলগঞ্জ মৌলভীবাজার জেলার একটি সুন্দর শহর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি কমলগঞ্জ লাউয়া ছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত,মাদবপুর লেক,নয়নাভিরাম চা বাগানের জন্য প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য চমৎকার এক জায়গা। ছোট্ট এই শহরের অবস্থান পঞ্চম।

৬. মেহেরপুরঃ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী ও দেশের সবচেয়ে ছোট একটি জেলা মেহেরপুর। মেহেরপুর বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থান। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা(বর্তমান মুজিবনগর) গ্রামে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। রচিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস। তালিকায় মেহেরপুরের অবস্থান ছয়ে।

৭. সোনারগাঁওঃ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলার এই উপজেলাটি বাংলার মুসলিম শাসকদের অধীনে পূর্ববঙ্গের একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল এটি। একসময় ঈশা খাঁর রাজধানী ছিল সোনারগাঁও। সোনাবিবির মাজার, পাঁচবিবির মাজার, গিয়াস উদ্দিন আযম শাহের সমাধি, ইব্রাহীম দানিশমান্দ-এর দরগাসহ নানারকম স্থাপনা দেখতে পাবেন সোনারগাঁও-এ। সোনারগাঁও-র অবস্থান এই তালিকায় ৭ম।

৮. বাগেরহাটঃ বাগেরহাট ঢাকা বা শ্রীমঙ্গলের মতো বিখ্যাত নয়, তবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে এই শান্তিপূর্ণ শহরটি ঐতিহাসিক আকর্ষণ উপভোগ করতে পারবেন। ১৫ শতকের সুফি সাধক খান জাহান আলীর মাজার ও ষাট গম্বুজ মসজিদ দেখতে পাবেন এখানে। খান জাহান আলীর স্মৃতি বিজড়িত বাগেরহাটের অবস্থান তালিকায় ৮ নম্বরে।

৯. কক্সবাজারঃ কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকতের নির্মল হাওয়া প্রাণ জুড়িয়ে দিবে আপনার। হিরাম কক্স নামে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক অফিসারের নাম থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্হিত এই পর্যটন শহরের নামকরণ করা হয়। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কক্সবাজারের অবস্থান তালিকায় ৯ম।

১০. ময়মনসিংহঃ বাংলাদেশের বেশ পুরনো একটি জেলা, এটি ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে অবস্থিত। ময়মনসিংহের রয়েছে সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যা সহজেই পর্যকটদের নজর কাড়ে।