লেখা ও ছবি- ফাহিম ফয়সাল শুভ


মাত্রই শেষ হল বর্ষবরণ,  লক্ষ্য ছিল পাহাড়ি দের বর্ষবরণ বিজু উৎসব দেখার। কিন্তু তার বদলে সেখানে গিয়ে হঠাৎ পুরো রাঙামাটি ট্যুর দিয়ে ফেলি আমরা ১২ জন।

আমাদের ট্যুরের বিস্তারিত:
আমরা চট্টগ্রাম (চুয়েট) থেকে যাই। রাঙামাটি ঢুকার সময় আঁকাবাঁকা রাস্তা, বিশাল বিশাল পাহাড় আর বড় বড় খাদ আপনাকে বিমোহিত করতে বাধ্য। আমরা ১২ জন বাসের ছাদে গিয়েছিলাম। তাই পুরো ভিউ পাই। (তবে ছাদে গেলে সাবধান থাকবেন)। আমরা গিয়ে পৌছাই রিজার্ভ বাজারে। এরপর ঘাটে যাই। আপনি ঘাটে গিয়ে অনেক নৌকা পাবেন ঘুরতে যাওয়ার জন্য। অবশ্য অনেকে আপনাকে রিজার্ভ বাজারেই নৌকার অফার দিবে। দাম ঠিকঠাক মনে হলে লুফে নিতে পারেন। নৌকা ২ তলা বিশিষ্ট ছিল। তাই ছাদে প্রকৃতি দেখা আর নিচতলায় বিশ্রাম নেয়া সব সম্ভব ছিল। মাঝির সাথে আগেই ঠিক করে নিবেন কোথায় কোথায় নিয়ে যাবে। আমরা যেখানে যেখানে গিয়েছি তার ক্রম হল-
রাজবন বিহার, রাজবাড়ী, শুভলং ঝর্ণা, স্বর্ণ রঙের বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন বাজার, মেজাং রেস্টুরেন্ট ও ঝুলন্ত ব্রিজ।
এরপর রিজার্ভ বাজার থেকে বাসে করে রাউজান আসি।
রাজবন বিহার: রাজবন বিহারে ঢুকেই বৌদ্ধদের উপাসনালয় পাবেন। ভেতরে গিয়ে মেইন গেট দিয়ে ঢুকবেন। ভেতরে স্বর্ণ আর রৌপ্য রংয়ের উপাসনালয় গুলো দেখতে অন্যরকম সুন্দর। সেখানে বেশি ছবি তুলবেন না। খুব কম। মানা করে ছবি তুলতে।

রাজবন বিহার রাজবন বিহার


রাজবাড়ী: এটা রাজবন বিহার থেকে ফেরার পথে। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয়। রাজবাড়ীটা আমার অনেক ভাল লাগছে। ছোটখাটো, সুন্দর।


শুভলং ঝর্ণা(ছোট): মাঝিকে বললে নিয়ে যাবে। এখানে ওঠা যায় কিছুটা উপরে। আমরা ঝর্ণায় পানি পাই নি। আপনি যদি শুভলং এর আসল রূপ দেখতে চান তাহলে অবশ্যই বর্ষাকালে যাবেন। অনেক সুন্দর পাহাড়ী দেয়ালগুলো।


শুভলং ঝর্ণা(বড়): ছোট শুভলং ঝর্ণা থেকে একটু পরেই। এটি অনেক বড় একটা ঝর্ণা। এটাতেও বিন্দুমাত্র পানি নেই। ঝর্ণার শেপ দেখেই মনে হয় যে এটা কতটা সুন্দর হবে, আর কি আকৃষ্ট করবে তার শব্দ দিয়ে। অবশ্যই অবশ্যই বর্ষায় যাবেন এটা দেখতে।

শুভলং যাওয়ার পথে
স্বর্ণ রংয়ের বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন বাজার: নৌকা থেকে মূর্তিটি দেখতে অনন্য সুন্দর। এর পাশের ছোট বাজার রয়েছে। সেখানে চাইলেই ফতুয়া, গামছা, ওড়না ইত্যাদি কিনতে পারবেন যেগুলা চাকমাদের নিজস্ব বুনানো। আমিও কিনেছি। আপনারও ভাললাগবে নিশ্চয়ই। এজন্যে এক্সট্রা টাকা নিয়ে যাবেন কিন্তু।শুভলং যাওয়ার পথে

মেজাং রেস্টুরেন্ট: ওখান থেকে ঝুলন্ত ব্রিজ যাওয়ার পথে পাবেন এটি। এখানে দাম নাকি পেডা টিং টিং এর থেকে কম। এখানে আপনি অবশ্যই ব্যাম্বু চিকেন টেস্ট করবেন। মূল্য ১৮০ টাকা ২ জনের; ৩৫০ টাকা ৪ জনের। আর মাথায় রাখবেন পাহাড়ী আইটেম এ কিন্তু অনেক অনেক বেশি পরিমাণ ঝাল দেয়। ঝালপ্রেমীরা অবশ্যই এখানে খাবেন। আর আমার মত বাকিদের অবস্থা খারাপ হবে হবেই।

ঝুলন্ত ব্রীজ
ঝুলন্ত ব্রিজ: সবার লক্ষ্য থাকে এটা দেখার। এটা আসলেই সুন্দর। ব্রিজে এন্ট্রি ফি ২০ টাকা প্রতিজন, নৌকা পার্কিং ৫০ টাকা। এটার সত্যিই অনেক সুন্দর। তবে এটা অনুভব করার জন্য আপনাকে একপাশে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে হবে। অসাধারণ একটা ভিউ পাবেন আমার তোলা ছবিটির মতো।
যাতায়াত: চট্টগ্রাম থেকে অনেক বাস পাবেন রাঙামাটি যাবার। আমি বিস্তারিত বলতে পারলাম না। কারণ আমরা রাউজান থেকে গিয়েছি। বাকিটা কাইন্ডলি জেনে নিয়েন। রিজার্ভ বাজার ঘাট থেকে আপনার যাত্রা শুরু। শুধু বোটের মাধ্যমেই সব দেখতে পারবেন। ফিরবেন আবার বাসেই, রিজার্ভ বাজার থেকে।
খরচ: বোট ভাড়া ২০০০-২২০০ এর মধ্যে অবশ্যই মানিয়ে নিবেন। সকাল থেকে বিকেল ৪-৫ টা পর্যন্ত। আমরা ১২ জন যাই। তাই ভাড়া কম পড়ে। সর্বোচ্চ নাকি ৪০ জন ধরে ঐ নৌকায়, মাঝি তাই বলেছে।ঝুলন্ত ব্রীজ

রাজবাড়ি
সতর্কতা:
বোট দেখেশুনে ঠিক করবেন যে ভাল দেখায় কি না। তাতে বাথরুম আছে কি না।
২-৩ জন না গিয়ে বড় গ্রুপ করার চেষ্টা করবেন। তাতে আপনারই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
পর্যাপ্ত টাকাপয়সা নিয়ে যাবেন। খাবার-জিনিসপত্রের অনেক দাম।
প্রচুর প্রচুর পরিমাণ খাবার পানি সাথে নিবেন। অনেক কাজে দিবে।
নৌকায় ছবি তুলতে গিয়ে ফোন ফেলে দিবেন না যেন।
অনুরোধ:
যেহেতু এসব জায়গা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের তাই অন্যের ধর্মকে আঘাত করে এমন কিছু করবেন না। শ্রদ্ধা করবেন।
পানির বোতল, চিপসের প্যাকেটসহ যাবতীয় ময়লা ডাস্টবিন ছাড়া কোথাও ফেলে পরিবেশ নোংরা করবেন না।রাজবাড়ি

ঘুরে আসুন লাল পাহাড়ের দেশ, রাংগামাটি।