ছোট ছিমছাম জেলা শহর মেহেরপুর। কিন্তু ইতিহাসের দিক দিয়ে এর গুরত্ব বাংলাদেশের অন্য জেলা থেকে একটু ভিন্ন। এই মেহেরপুরের আমঝুপিতেই মীর জাফর আর রর্বাট ক্লাইভের শেষ বৈঠক বসেছিল। তখনই ভাগ্য নির্ধারন হয়ে যায় নবাব সিরাজউদৌল্লার। রচিত হয় পলাশীর পরাজয়ের নীল নকশা। বাংগালী হারায় তার স্বাধীনতা। আবার এই জেলার মুজিবনগর থানায় রচিত হয় বাংগালীর স্বাধীনতার নতুন ইতিহাস। মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকাননে ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার। এরপর ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ পূর্ব  ঘোষণা মোতাবেক মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলার এক আমবাগানে মন্ত্রিপরিষদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

Tourist Places in BangladeshTourist Places in Bangladesh

ছবির মত সুন্দর এই মেহেরপুরের একেবারের কাছেই ইন্ডিয়ান বর্ডার। ইতিহাসের খোঁজে এবার গিয়েছিলাম বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা মেহেরপুরে। যতটা না ভাল লেগেছে ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখে তার চেয়ে বেশি ভাল লেগেছে এই জেলার মানুষের অান্তরিকতা দেখে। এই জেলার হাওয়াতেও ইতিহাস ভাসে। সেই গন্ধে শুকে শুকে রিক্সার হাওয়া খেতে খেতে প্রথমে চলে গিয়েছিলাম আমঝুপি নীলকুঠিতে।

YouTubeYouTube

লেখার শুরুতেই আমঝুপি সম্পর্কে বলেছি। ব্রিটিশ আমলে এই নীল কুঠিতে চলতো চাষীদের উপর অকথ্য অত্যাচার। কলোনিয়াল পিরিয়ডের এক ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই নীল কুঠি। নীল রং এর রক্ত লাল করা ইতিহাস দেখে চলে এসেছিলাম মেহেরপুর শহরে।

panoramio.companoramio.com

পুরা শহর ঘুরার জন্য একটা রিক্সাই যথেস্ট। একে একে ঈদ্গাহ মাঠ, পৌরসভা, ডাকঘর, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ফলক সহ অন্যান্য স্থাপনা দেখে মুজিবনগরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। মেহেরপুর থেকে মুজিবনগর এর দূরত্ব ১৫ কিমি । মেহেরপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে বাস ভাড়া ২৩ টাকা , সময় লাগে ৩০-৪০ মিনিট । মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ ও কমপ্লেক্স অনেক বড় এরিয়া পুরাটা ঘুরতে ১-২ ঘন্টার মত সময় লাগবে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই স্থান আপনাকে অন্য রকম একটা অনুভূতি দিবে।

Ashik SarwarAshik Sarwar

কি ভাবে যাবেনঃ আমঝুপি → মেহেরপুর সদর → মুজিবনগর, ১ দিনেই সব ঘুরে আসা যায় ।