ঢাকা গেটের সাথেই তিন নেতার মাজার। এই মাজারের স্থাপনাটি দেখতে অদ্ভুত এবং দৃষ্টিনন্দন। ১৯৬৩ সালে এই হৃদয়গ্রাহী মনুমেন্ট তৈরী করা হয়। 

ঢাকা গেটেঢাকা গেটে

শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তার সুবিশাল কর্মজীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলা এবং পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৬২ সালে বৃদ্ধাবস্থায় তিনি ঢাকায় মারা যান।

হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৮৯২ সালে ভারতে একটি উর্দুভাষী পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। সুবিশাল কর্মজীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ত্ব পালন করেন। মুখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা করার জন্য একদিন তিনি সরকারী ছুটি ঘোষনা করেছিলেন। ১৯৬৩ সালে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

খাজা নাজিমুদ্দিন ১৮৯৪ সালে ঢাকার বিখ্যাত নবাব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সুবিশাল কর্মজীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ত্ব পালন করেন। বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনে সবচাইতে ঘোর বিরোধীদের মধ্যে তিনি ছিলেন একেবারেই প্রথম সারিতে। ১৯৬৪ সালে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তিন নেতার মাজার

এই তিনজনকে মৃত্যুর পর ঢাকা গেটের পাশে দৃষ্টিনন্দন মনুমেন্টটির নীচে সমাহিত করা হয়। তারপর থেকেই এটি তিন নেতার মাজার হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

তিন নেতার মাজারের পিছনেই রয়েছে খাজা শাহবাজের মসজিদ। হাটতে হাটতে সেখানে গেলাম।তিন নেতার মাজার

খাজা শাহবাজের মসজিদখাজা শাহবাজের মসজিদ

শাহবাজ নামক একজন ব্যাক্তি যিনি হাজী এবং ব্যাবসায়ী ছিলেন তিনি কাশ্মীর থেকে এসেছিলেন। ১৬৯৭ সালে তিনি এই সুদৃশ্য মসজিদটি তৈরী করেন। একই সাথে জীবিত অবস্থায় তিনি তার মাজার তৈরী করেন। মসজিদটি দেখতে খুব সুন্দর এবং এটি এখনো পর্যন্ত ভালো অবস্থায় আছে। প্রচন্ড রোদের কারনে মসজিদের চত্ত্বরটিতে সামিয়ানা টাঙ্গানো যেন মুসল্লীদের কষ্ট কম হয়। এই সামিয়ানার কারণে মসজিদের সৌন্দর্য অনেকখানি ঢাকা পড়েছে। মসজিদের লাগোয়া রয়েছে মাজারটি। এটি দেখতেও খুব সুন্দর। এই মসজিদ ও মাজারটি বেশ ভালোভাবেই সংরক্ষণ করা হয়েছে যা দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। 

চলবে...

প্রিয় শহর (পর্ব ১)