ঈদের ছুটিতে একটু রিল্যাক্স না করলে কি চলে? কুরবানীর ঈদে থাকে অনেক কাজ। কিন্তু সব কাজের পর মন চায় একটু বেড়িয়ে আসতে, পরিবার নিয়ে অথবা বন্ধুরা মিলে দূরে কোথাও সবুজ সুনিবিড় শান্তির মাঝে। ঘুরে আসতে পারেন সবুজ পাহাড়ের দেশ খাগড়াছড়ি। অবশ্যই দেখবেন-

আলুটিলা

আলুটিলাআলুটিলা

খাগড়াছড়ি মা্নেই যেন গাঁ ছমে ছমে আলুটিলা। আলুটিলার প্রাকৃতিক গুহায় মশাল হাতে একবার অন্তত না গেলে যেন খাগড়াছড়ি ভ্রমণই বৃথা। আলুটিলার চূড়া থেকে পুরো শহরের দৃশ্য দেখা একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা। পাহাড়ের চূড়া থেকে সিঁড়ি বেয়ে আপনাকে নেমে যেতে হবে গুহায়। ভেতরে একদম অন্ধকার। তাই গেটের কাছ থেকেই সংগ্রহ করুন আপনার মশালটি। রহস্যময় গুহাটি পার হতে সময় লাগে ২০ মিনিটের মত। পানিতে ডুবে থাকা পাথরে সাবধানে পা ফেলবেন অবশ্যই।

রিসাং ঝর্ণা

অনুভ্রমনঅনুভ্রমন

মাটিরাঙ্গা উপজেলায় অবস্থিত অপূর্ব ছোট একটি ঝর্ণা রিসাং। ঝর্ণাটি নেমেছে পাথুরে পাহাড়ের কোলে। এটাই যেন তার সুরক্ষা ব্যাবস্থা। ঝর্ণার পানির কারণে পাথর থাকে সবসময় পিচ্ছিল। পাথরের গাঁ ঢালু বলে পিছলে যে কোন সময় পড়ে যেতে পারেন সোজা ঝর্ণার পানিতে তৈরি হওয়া পুকুরে। তাই সাবধানে পা ফেলবেন। গাছে শেকড় ধরে ঝর্ণার নিচে যাওয়ার আর কোন উপায় নেই অবশ্য।

দেবতার পুকুর

দেবতার পুকুরদেবতার পুকুর

জেলা সদর থেকে মাত্র ০৫ কি:মি: দক্ষিণে খাগড়াছড়ি - মহালছড়ি সড়কের কোল ঘেষে অবস্থিত মাইসছড়ি এলাকার নুনছড়ি মৌজার আলুটিলা পর্বত শ্রেণী হতে সৃষ্ট ছোট্ট নদী নুনছড়ি। মূল রাস্তায় বাস থেকে নেমে কিলো দুয়েক পায়ে হাঁটা পথ। নিজস্ব পরিবহন থাকলে তা নিয়ে আপনি সোজা চলে যেতে পারেন একেবারে পাদদেশে নদীর কাছে।

হাজাছড়া ঝর্ণা

হাজাছড়া ঝর্ণাহাজাছড়া ঝর্ণা

দিঘিনালায় অবস্থিত আরেকটি চমৎকার ঝর্ণা এটি। বেশ উঁচু খাড়া একটি ঝর্ণা। এর নিচে পানিতে শান্তিমত গোসল করতে পারবেন। কোন রিস্ক নেই। যাতায়াতও সহজ। যে গাড়িটি ভাড়া নেমে তা প্রায় কাছেই পৌঁছে দেবে আপনাকে। এরপর ২০ মিনিটের মত হাটতে হবে। পথে যাকেই পাবেন সামনের পথ কোনদিকে নিশ্চিত হয়ে নেবেন। একা আপনি হারিয়ে যাবেন না, তবে সময় নষ্ট হবে।

আরও দেখবেন

  • তৈদুছড়া
  • মহালছড়ি হ্রদ
  • শতায়ুবর্ষী বটগাছ
  • পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র
  • ভগবান টিলা
  • দুই টিলা ও তিন টিলা
  • মানিকছড়ি মং রাজবাড়ি
  • বন ভান্তের প্রথম সাধনাস্থল
  • রামগড় লেক ও চা বাগান

যেভাবে যাবেন:

এসি বাস এ খাগড়াছড়ি যেতে চাইলে বেশ আগে থেকেই যাওয়া- আসা টিকেট কেটে রাখুন। কারন এসি বাস মাত্র একটাই। সেইন্টমার্টিন সার্ভিস এর মাত্র একটি করে বাস প্রতিদিন রাতেযাওয়া-আসা করে৷ এছাড়া আরো আছে শ্যামলী/ইকোনো/সোদিয়া/স্টার লাইন (নন এসি)।

নিজেদের গাড়ি নিয়েও যাওয়া যায়। গ্যাস এর গাড়ি না নেওয়া ভাল৷ কারন গ্যাস এ চালিতগাড়ি তে উঁচু ঢাল উঠতে বেশ কষ্ট হয়। তাছাড়া ওদিকে গ্যাস ও নাই। তেল এ চালিত গাড়ি তেবেশ আরামেই খাগড়াছড়ি পর্যন্ত যাওয়া যায়। তবে ৪ হুইল ছাড়া সাজেক যাওয়া কষ্টকর। তবেগাড়ি তে এসি না চালিয়ে আর বিরতি দিয়ে দিয়ে গেলে যাওয়া যাবে৷ অনেকেই গেছে, যাচ্ছে। সো প্রব্লেম হবে না।

চান্দের গাড়ি তে সাজেক যাওয়াটা নিরাপদ। তবে ছাদে বসলে সাবধান থাকতে হবে। আরশরীর ও বেশ ব্যাথা হয়। ভাড়া ৫০০০-৭০০০ টাকা নিবে। খাগড়াছড়ি এর শাপলা চত্বর থেকেইঅনেক চান্দের গাড়ি পাবেন।

টিপস-

  • * একই দিকে পড়েছে এমন জায়গাগুলো একবারে দেখুন। সেভাবেই আপনার সিএনজি বা গাড়ি ঠিক করুন।
  • * মশার উপদ্রপ আছে। তাই ওডোমস ব্যবহার করুন
  • * কোথাও কোন প্লাস্টিক বা আবর্জনা ফেলবেন না। আপনার পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব আপনার।
  • * গাইড নেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।