লেখা ও ছবিঃ কাজী রাসেল

"আমি একটা জিন্দা লাশ
কাটিস না রে জংলার বাঁশ" 
"বাঁশ বাগানের মাথার উপর 
চাঁদ উঠেছে ঐ"
এদেশের গানে, এদেশের কবিতায়, এদেশের মানুষের জীবনে বার বার ব্যবহৃত একটি শব্দ "বাঁশ"।

বাংলাপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, বাঁশ বহুল ব্যবহৃত কয়েক প্রজাতির ফাঁপা কান্ড বিশিষ্ট ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ। কাষ্ঠল বৃক্ষের ন্যায় বৈশিষ্ট্য থাকায় অনেক সময় এটিকে Bambusaceae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাঁশের বিস্তৃতি অত্যন্ত ব্যাপক। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিকট এর গুরুত্ব অপরিসীম, যা গৃহের অবকাঠামো নির্মাণ, মঞ্চ নির্মাণ, মই, মাদুর, ঝুড়ি, ফাঁদ, হস্তশিল্পসহ নিত্যদিনের ব্যবহার্য বিবিধ জিনিসপত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।

সব ই বুঝলাম কিন্তু বাঁশের তৈরি স্কুল কখনও শুনেছেন ! হ্যাঁ, নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানার বাগমুছা ঋষিপাড়া এলাকায় রয়েছে এমন ই একটি দৃষ্টিনন্দন বাঁশের তৈরি স্কুল। স্কুলটি তৈরিতে মূল উপাদান ছিলো বাঁশ। স্কুলটি আজ স্বচক্ষে দেখে বলতে ইচ্ছে হলো...
"বাংলাদেশ কতো বিচিত্র,
দেখে নিলাম আজ তার চিত্র "

প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এই স্কুল সম্পর্কে জানাযায় যে, ইংল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশি কবি ও সাহিত্যিক সাহিদ সাহেব এর উদ্যোগে সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে এখানকার সুবিধা বঞ্চিত বাচ্চাদের জন্য বাঁশের তৈরি দোতলা স্কুলটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্কুলটি চালু হয় ২০০৭ সালে। ১ম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয় স্কুলটিতে। এখন ১১৫ জন ছেলে মেয়ে এখানে পড়াশুনা করে। শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন।

যাতায়াতঃ
গুলিস্তান থেকে বাসে সোনারগাঁ মোগরাপাড়া চৌরাস্তা। সেখান থেকে সিএনজি/অটোরিকশা করে ঋৃষিপাড়া স্কুল।