বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে৷ বর্ষাকালে অধিকাংশ প্লাবনভূমি এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। স্থানীয় উচ্চতার ওপর নির্ভর করে বর্ষার পানির গভীরতা এবং এর স্থায়িত্ব দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক গ্যালারি থেকে বর্ষার মৌসুমে ১৯৯৩ সালের বাংলাদেশের ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

বন্যা অতিক্রম

PHOTOGRAPH BY JAMES P. BLAIRPHOTOGRAPH BY JAMES P. BLAIR

বাংলাদেশে বন্যার সংজ্ঞা স্বতন্ত্র। বর্ষাকালে যখন নদী, খাল, বিল, হাওর ও নিচু এলাকা ছাড়িয়ে সমস্ত জনপদ পানিতে ভেসে যায় এবং ফসল, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সহায়-সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে, তখন তাকে বন্যা বলে আখ্যায়িত করা হয়। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বন্যার সঙ্গে ফসলের একটা সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৯৩ সারা দেশে প্রচন্ড বৃষ্টিতে হাজার হাজার হেক্টর জমির শস্য পানিতে তলিয়ে যায়। মোট ২৮টি জেলা বন্যায় কবলিত হয়।  

নদী ভাঙ্গন

PHOTOGRAPH BY JAMES P. BLAIRPHOTOGRAPH BY JAMES P. BLAIR

বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বেড়ে যায় এবং  তা প্রচন্ড গতিতে সমুদ্রের দিকে ধাবিত হয়। এসময় উপকূলীয় অঞ্চলের নদীসংলগ্ন স্থলভাগে পানির তীব্র স্রোতের কারণে নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে এটা স্বাভাবিক চিত্র হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় তা আর স্বাভাবিক বলে পরিগণিত হচ্ছে না। 

একজন লোক মুরগির খাঁচা নিয়ে যাচ্ছে

PHOTOGRAPH BY JAMES P. BLAIRPHOTOGRAPH BY JAMES P. BLAIR

ঢাকায় বন্যার ভাসমান পানি দিয়ে একজন লোক ভ্যানে করে মুরগির খাঁচা বাজারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি কোমর পর্যন্ত পানি মানুষের কাজকে বন্ধ রাখতে পারেনি।

নদীতে এক রাখাল এবং মহিষের পাল

PHOTOGRAPH BY JAMES P. BLAIRPHOTOGRAPH BY JAMES P. BLAIR

ঢাকার পশ্চিমে অবস্থিত তুরাগ নদীতে এক যুবক রাখাল ঝাঁপ দিয়ে গোসল করছে এবং মহিষগুলোকেও  পানিতে নামানো হয়েছে গোসল করানোর জন্য। তুরাগ নদীর তীরে অনেক কলকারখানা গড়ে উঠার কারণে বর্তমানে তেল, রং, রাসায়নিক পদার্থ এবং ড্রেনের ময়লা দ্বারা এটির পানি দূষিত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে দেশের প্রায় ২৫০টি নদীর পানি কানায় কানায় ভরে যায় এবং নদীর দুই কুল ছাপিয়ে বন্যা হয়ে থাকে। প্রতি মহিষের মূল্য প্রায় $৩০০ ডলার, এটি মূলত কৃষিচাষের কাজ এবং দুধ সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

নৌকায় ভীড়

PHOTOGRAPH BY JAMES P. BLAIRPHOTOGRAPH BY JAMES P. BLAIR

অনেকগুলো যাত্রীদের নিয়ে পানির উপর নৌকা বুঝায় করে নদী পার হচ্ছে। দক্ষিণ ঢাকার শীতলক্ষা নদী সারাবছর নৌ চলাচলের জন্য উপযোগী। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক নৌকা  ভ্রমণের জন্য বেড়াতে আসেন। এ নদীর ভাঙ্গন প্রবণতা কম। কিন্তু নদীর দুই তীরে প্রচুর পরিমাণে ভারী শিল্প কারখানা গড়ে উঠার কারণে এর পানি দূষিত হচ্ছে। 

ছবি সংগ্রহঃ “বাংলাদেশঃ যখন পানি আসে”-জুন ১৯৯৩, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিন।  

তথ্য সংগ্রহঃ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এবং ইন্টারনেট