জন্মের পর থেকে ঢাকায় আছি, দম আটকে আসে। একটু প্রশান্তির জন্য তাই ছোট থেকেই প্রতিবছর আমার নানাবাড়ী যাই। যাবার কারন এই জায়গাটা আমার দেখা অন্য যেকোনো জায়গা থেকে আলাদা। মন ভাল করা একটা জায়গা।

নদী পথে লঞ্চেনদী পথে লঞ্চে

নদী পথে লঞ্চেনদী পথে লঞ্চে

আমার নানাবাড়ী বরিশালের পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার বালিহারি গ্রামে। স্বরূপকাঠির পাশ দিয়ে সন্ধ্যা নদী বহমান। নদী পথে লঞ্চেই যাই সব সময়। এটা রোমাঞ্চকর ও আরামদায়ক যাত্রা যা ঢাকা ছাড়ার পর স্বস্তির শুরুটা করে দেয়।

 কাঠ বানিজ্য কাঠ বানিজ্য

আমার নানাবাড়ীর গ্রামগুলো এই সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন শাখা নদী বা খালকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা। যেমন আমাদের গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়া নামক খাল বহমান। সন্ধ্যা নদী থেকে উৎপত্তি এই খালের শুরুতেই ঈন্দুরহাট নামক বাজার। এই বাজার ব্রিটিশ আমলের আগে থেকে খুব বিখ্যাত এর কাঠ, পেয়ারা, পাট ও অন্যান্য অনেক ব্যবসায়িক কারণে। এখন অবশ্য এই এলাকা বিখ্যাত আটঘর কুড়িয়ানার পেয়ারা, কাঠ ও নার্সারির জন্য।

আটঘরআটঘর

আটঘরআটঘর

 কাঠ বানিজ্য কাঠ বানিজ্য

ব্রীজব্রীজ

খালের দুপাশে গড়ে ওঠা কাঠ বানিজ্যের খালের তীব্র জোয়ার ভাটার উপর নির্ভরতা, নৌকায় হাটবারে বাজার ফেরি করা, খালের পাশের মাটির হাটাপথ, ভেসে যাওয়া কাঠ খালের নীচ থেকে তুলে কারো তা আবার তুলে বিক্রি করার জীবিকা এ এলাকার মানুষের কঠোর কিন্তু কাজ করার প্রতি আগ্রহ এসবই আমার মন ভাল করে দেয়। কিছুদিনের জন্য সব ভুলে যাই। খালের পাশে অনেক প্রজাতীর গাছ এই গ্রাম, খাল, বাজার, জনবসতি তথা এলাকার অন্য রকম একটি স্কেল দিয়েছে।

খালের পাশের মাটির হাটাপথখালের পাশের মাটির হাটাপথ

ট্রলারট্রলার

কিছু ছবি দিচ্ছি, দেখুন মিলিয়ে। ঘুরে আসতে পারেন এখানকার যেকোনো গ্রাম থেকে। ঢাকা থেকে পিরোজপুর/ভান্ডারিয়ার লঞ্চে উঠে স্বরুপকাঠি নামলেই হবে। লেখার ভুল ত্রুটি মার্জনা করবেন। শুভকামনা।