লেখা ও ছবিঃ আহমাদ ইশতিয়াক 

একদিনে ঘুরে আসুন অপূর্ব ৬ স্থাপত্য কীর্তি , ইছামতী ও পদ্মা নদীর তীরে।

এই ভ্রমণে আমরা যা দেখেছি- কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ি, উকিল বাড়ি, জজ বাড়ি, আন্ধার কোঠা, শ্রীলোকনাথ সাহার বাড়ি, ইছামতি নদী, হাসনাবাদ গির্জা, পদ্মা নদী।

গুলিস্তান থেকে মৈনটঘাট গামী বাসে উঠে নামবেন কলাকোপা কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ির সামনে। রাস্তার পাশেই কলাকোপা মন্দির। ছোট দুটি স্তম্ভ আর পাথর খোদাই করে তৈরি একটি কৃষ্ণ মূর্তির মন্দির এটি। 
এর সামনে কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ি। অপূর্ব নির্মাণ শৈলীর নজর কেড়ে নিবে মুহূর্তেই। এখান থেকে রাস্তা দিয়ে একটু হেঁটে গেলে চোখে পড়বে উকিল বাড়ি। 


এ বাড়িটি হাশেম উকিলের বাড়ি নামে বেশি পরিচিত। ওখানে একটি কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আছে। 
এখান থেকে হেঁটে যাবেন জজ বাড়ি অব্দি। 
একপাশে অপূর্ব শান বাঁধানো পুকুর ঘাট। বাড়ির একপাশে হরিণের থামার। এই বাড়িটি অপূর্ব দৃষ্টিনন্দন। স্থাপত্যশৈলীতে মোহনীয়।
এখান থেকে চলে যাবেন 
খেলারাম দাতার বাড়িতে। খেলারাম দাতার বাড়ি বা আন্ধার কোঠা স্থাপনাটিও অপূর্ব।
সামনে বিশাল পুকুর।

এখান থেকে যাবেন তেলি বাড়িতে। 
শ্রীলোকনাথ সাহার বাড়ি, যা তেলি বাড়ি নামে খ্যাত। বাড়ির মালিক বাবু লোকনাথ তেল বিক্রি করে ধনী হয়েছিলেন। তাই বাড়ির এমন নাম হয়েছে। এই বাড়ির বয়স প্রায় সোয়া একশো বছর। তেলিদের বিশাল দুটি বাড়ি অপূর্ব। তেলি বাড়ি থেকে সামনে ইছামতী নদীর তীর ধরে একটু সামনে এগোলে যে ইমারতগুলো চোখে পড়বে, তার প্রথমটি পাইন্নাবাড়ি। এই বাড়ির তিন মালিকের অন্যতম মধু বাবু পান বিক্রি করে ধনী হওয়ার জন্যই বাড়িটির এমন নামকরণ।

এখান থেকে উঠবেন বান্দুরার বাসে। বান্দুরা থেকে প্রথমে যাবেন হাসনাবাদ গির্জায়। এটি অপূর্ব এক স্থাপনা। ১৭৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গির্জায় গ্রীক স্থাপত্যশৈলীর ছাপ সুস্পষ্ট। 
রবিবারে গেলে ঢুকত্ পারবেন গির্জাতেও। গির্জার পাশেই সেমিট্রি, কয়েকটি ভাস্কর্য এবং তারপর বিশাল মাঠ!

বান্দুরা থেকে চলে যাবেন মৈনট ঘাটে! পদ্মা নদীর পাড়ে চাইলে ফুটবল খেলতে পারেন। গোসল করতে পারেন! অপূর্ব এক জায়গা! এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকতে পারেন। আর হ্যাঁ যাঁরা সাঁতার পারেন না লাইফ জ্যাকেট ছাড়া পানিতে নামবেন না!

যেভাবে যাবেন -ঢাকার গুলিস্তানের গোলাপ শাহের মাজারের সামনে থেকে মৈনটঘাট গামী যমুনা বাসে উঠে পড়বেন। নামবেন কলাকোপায়।

বি:দ্র:- প্রকৃতি ও পুরাকীর্তি আমাদের সম্পদ। দয়া করে পুরাকীর্তির গায়ে আঘাত করবেন না, প্রকৃতিতে যত্রতত্র অপচনশীল ময়লা ফেলবেন না। আপনি যেমন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম যেন অধিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।