মুর্শিদাবাদ এর পূর্বনাম ছিল মুখ্সুদাবাদ। তারও আগে মহারাজ হর্সবর্দ্ধনের সময় শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ নামে পরিচিত ছিল। আরও আগে বাংলার পালবংশীয়দের রাজত্ব কালে নাম ছিল রঙ্গবতী। ১৭০৬ খ্রীঃ মুর্শিদকুলী খাঁ বাংলার নবাব হলে, নাম হয় মুর্শিদাবাদ।

মুর্শিদাবাদ এ রয়েছে মুঘল আমলের অসংখ্য নিদর্শন, যার অনেক কিছুই আবার সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে। ঘুরতে ঘুরতে গেলাম সেই আমলের কামান গুলো দেখতে। 

“জাহানবাজ কামান” ( জাহানকোষা কামান )

মোগল সম্রাট শাহজাহানের সময় এই জাহানকোষা কামানটি ১০৪৭ হিজরীতে নির্মিত।  বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বিখ্যাত জনার্দন কর্মকার এটি তৈরী করেন। মুর্শিদকুলী খাঁ ঢাকা থেকে বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরিত করার সময় কামানটি এখানে নিয়ে আসেন। আরো একটি কামান আছে যার নাম “বাচ্চাওয়ালী তোপ” সেটা হাজারদুয়ারী প্রাসাদের উত্তর দিকে স্থাপন করা আছে।

১৭০৬ খ্রীঃ বাংলার ১ম নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর কামানটি ৩ + ৩ = আমার ৬ বন্ধুর পিছে এখনো বিদ্যমান। কামানটি দৈর্ঘে ৫.৫০ মিটার, বোর ১.৭০ মিটার আর ওজন ৭,৯০০ কেজি। এটির বাংলা নাম “বিশ্বধবংসী” কামান। ১৮ কেজি বারুদ প্রয়োজন কামানটি দাগতে।

 

ফৌতি মসজিদ [ ফুটি মসজিদ, কানা মসজিদ বা ফুটো মসজিদ নামে পরিচিত ]

১৭৪০ খ্রীঃ মসজিদটির নির্মাণ শুরু করেছিল বাংলার ১ম নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর দৌহিত্র ও বাংলার ২য় নবাব সুজাউদ্দীনের পুত্র নবাব সরফরাজ খাঁ। গিরিয়া যুদ্ধে আলিবর্দ্দী খাঁর কাছে সরফরাজ খাঁ মুত্যুবরন করলে, মুর্শিদাবাদের পরবর্তী কোন নবাব এই মসজিদটি সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করেননি। সেই থেকে মসজিদটি এভাবেই রয়ে গেছে এখনো ভগ্নদশায়.

ফৌতি মসজিদের ভেতরে...দুটি গম্বুজ থাকলেও বাকি গম্বুজ ভেঙ্গে পড়েছে...

টিকে থাকা গম্বুজের মাঝে ফুটো হয়ে গেছে, গম্বুজের নীচ থেকে তোলা ছবি

ফৌতি মসজিদের ছাদে। এখানে পরতে পরতে ভেঙ্গে পরার ভয় রয়েছে। তবুও উৎসুক মন আমাকে বাঁধা দিতে পারেনি৷ তাই খুব সাবধানে পা টিপে টিপে উঠেছি মসজিদের ছাদে

দূর থেকে ফৌতি মসজিদের ছবি

সরু মিনারের ভেতরের সর্পিল পেঁচ্যানো চিলতে চিলতে সিঁড়ি বেয়ে, খুব সাবধানে উঠে যাওয়া যায় মসজিদের ছাদে।

(চলবে...)