এবারে ভারত যাত্রা ছিল, কেমন যেন খাপছাড়া। দুই দিন থাকবো ভেবে অনেক দিন থাকা হলো। শ্রদ্ধেয় পূর্ণ দাশ বাউলের “মনের মানুষ” অনুষ্ঠানে অতিথী ছিলাম। কপালে জুটেছে এবারো সন্মাননা আর কৃষ্ণ নগরের মৌমিতার আন্তরিকতা। দেখা হয়ে গেল নীলা আর উজ্বলের সাথে নিউ মার্কেটে। বেথুয়া ডহরীর রাতের ইষ্টিশন।  আর মুর্শিদাবাদ পৌঁছে ডুবে গেলাম অতিত ইতিহাসের খোঁজে। হাবুডুবু খেতেখেতেই কাটিয়ে দিলাম তিনি দিন এখানে।

মুর্শিদাবাদ এর পূর্বনাম ছিল মুখ্সুদাবাদ। তারও আগে মহারাজ হর্সবর্দ্ধনের সময় শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ নামে পরিচিত ছিল। আরও আগে বাংলার পালবংশীয়দের রাজত্ব কালে নাম ছিল রঙ্গবতী। ১৭০৬ খ্রীঃ মুর্শিদকুলী খাঁ বাংলার নবাব হলে, নাম হয় মুর্শিদাবাদ।

মুর্শিদাবাদ এর ইতিহাসের স্রোতে ভাসতে ভাসতে প্রথম চড়ায় আটকালাম কাটরা মসজিদ এ।


মুঘল স্থপত্য অনুকরনে মসজিদটি নবাব মুর্শিদকুলী খাঁ নির্মাণ করেন ১৭২৩-২৪ খ্রীঃ। ১৪ টা সিঁড়ি বেয়ে উঠলেই প্রবেশ দরজা। ১৭২৫ খ্রীঃ মুর্শিদকুলীর মৃত্যু হলে, তাকে সমাধীস্থ করা হয়, মৃত্যুর পূর্বে তাঁর আদেশ অনুযায়ী, সেই ১৪ টা সিঁড়ির নিচে। মসজিদের ৪ প্রান্তে ছিল ৪ মিনার। এখন আছে ২ টা, উচ্চতা ৭০ ফিট। গম্বুজের ভেতর ৬৭ টা সাপের মত পেঁচানো সিঁড়ি বেয়ে মিনারের চূড়ায় উঠে , পাখির চোখে মুর্শিদাবাদ শহরটি দেখে নিলাম। এই কাটরা মসজিদে ২ হাজার মানুষের এক সাথে নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা ছিল। মুর্শিদকুলী খাঁ (১৭০৬-১৭২৫ খ্রীঃ) মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলা বিহার উড়িষ্যার স্বাধীন নবাব ছিলেন।

কাটরা মসজিদেএখন মিনার আছে ২ টা, উচ্চতা ৭০ ফিট। গম্বুজের ভেতর ৬৭ টা সাপের মত পেঁচানো সিঁড়ি বেয়ে মিনারের চূড়ায় উঠে , পাখির চোখে মুর্শিদাবাদ শহরটি দেখে নেওয়া যায়। তবে থাকতে হবে সাবধান। 

কাটরা মসজিদের এই খোলা জায়গায় ২ হাজার মানুষের এক সাথে নামাজ আদায় করার ব্যাবস্থা ছিল।

“কাটরা মসজিদ” এর পেছনের অংশে দাঁড়িয়ে আছি

১৪ টা সিঁড়ি বেয়ে উঠলেই প্রবেশ দরজা।

প্রবেশ দরজার ১৪ টি সিঁড়ির নীচে মুর্শিদকুলী খাঁয়ের সমাধীর পাশে বসে আছি। 

(চলবে...)