প্রাক্তন সিনেমার কথা মনে আছে? ওইযে ট্যুর গাইড প্রসেনজিত একদল নারী পুরুষ নিয়ে কোলকাতার অলিগলিতে হেটেহেটে কোলকাতা চেনায়, কোলকাতার ঐতিহ্য শোনায়? তা কলকাতার মত অত পুরনো না হলেও ঢাকার ঐতিহ্য ও কিছু কম নয়, আর হেটে হেটে দেখার জায়গাও ঢাকায় কম নয়।

এই বিল্ডিং এর জঙ্গলে হেটে হেটে দেখার জায়গা কই ভেবে অবাক হচ্ছেন?  আছে আছে! নেহায়েত বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প এখনো অতটা বিকাশ লাভ করেনি তাই, নাহলে এতদিনে আপনারাও পুরনো ঢাকার রাস্তায় দলে দলে বিদেশী দের ‘ঢাকা ওয়াক’ দেখতে পেতেন।

হ্যা, পুরনো ঢাকার কথাই বলছি, সমৃদ্ধ যা কিছু গৌরব সব ওখানে, আর ১৫-১৬ মাইল রাস্তা জুড়ে রয়েছে বাংলার অতীত গৌরবের ছড়ানো ছিটানো দারুন সব নিদর্শন।

বাস্তেবে হাটার আগে চলুন ভার্চুয়ালি হেটে আসি একবার-

করতলব খান মসজিদ করতলব খান মসজিদ

নতুনের মাঝে পুরানের ছোয়া এই পুরান ঢাকা আসলেই দেখার মত। ঢাকার এই অংশে প্রাণ আছে। বলা যায় প্রতিটা মানুষই অমায়িক। তাই ঘুরে ঘুরে দেখতে পারেন পুরান ঢাকার ঐতিহ্য। উপরের ছবির এই মসজিদের নাম করতলব খান মসজিদ।"১৭০১ -১৭০৪ সালের মধ্যে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন এবং দেওয়ান মুর্শিদ কুলি খানের নামে এর নাম করণ করা হয়, তিনি কর্তালাব খান নামে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়রা মসজিদটিকে বেগমবাজার মসজিদ নামে চেনে।"

শুধু যে এই মসজিদ দেখতে আসবেন তা নয় আশে পাশে আছে আরও অনেক পুরানো স্থাপনা। ইতিহাসের সাক্ষী ঢাকা সর্বপ্রথম রাজধানীর মর্যাদা পায় ১৬১০ সালে। ১৬০৮ সালে মোঘলদের প্রথম পদচরন দেখা যায় এই প্রাচীন নগরীতে। সুবেদার ইসলাম খান চিশতি সম্রাট জাহাংগীরের নামে এই নগরীর নামকরন করেন জাহাংগীর নগর। বাংলার রাজধানী স্থানন্তরিত হয় জাহাংগীর নগরে।

ছবি-বাংলা উইকিপিডিয়াছবি-বাংলা উইকিপিডিয়া

মোঘল, ব্রিটিশ, পাকিস্তান আমল পার করে আজকের বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আজও ধরে রেখেছে তার পুরান ঐতিহ্য। আজও অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা টিকে আছে কালের সাক্ষী হিসাবে। পুরান ঢাকার এই সব ঐতিহ্য আপনাকে নিয়ে যাবে ৪০০ বছর পিছনে। পুরান ঢাকা হতে পারে একটি ডে ট্রিপ এর জন্য আর্দশস্থান।

ঢাকা ওয়াক এর পরিকল্পনা:

শুরু হবে তিন নেতার মাজার থেকে শেষ হবে আহসান মঞ্জিল। প্রায় ১৫-১৬ কি.মি হাটার প্রস্তুতি নিয়ে বের হবেন। একটানা হাটতে হবে না থেমে থেমে দেখতে দেখতে হাটবেন। পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে স্ম্যাট ফোনে গুগল ম্যাপস, স্ট্রিট ভিউ এই দুইটা এপ্স ইন্সটল করে নিবেন। যারা এত হাটতে পারবেন না তারা রিক্সায় যেতে পারেন।

তিন নেতার মাজার দেখে পাশে অবস্থিত হাজী খাজা শাহবাজ মসজিদ দেখে নিন। এরপর এখান থেকে কার্জন হল যাবার পথেই পাবেন ঢাকা গেট। কার্জন হল দেখে মুসা খান মসজিদ দেখা শেষ করে শহীদুল্লাহ হল থেকে বের হয়ে বকশীবাজার হোসেনী দালানের জন্য রিক্সা নিবেন ভাড়া নিবে ২০-২৫ টাকা।

দেখা শেষ করে চলে আসুন বেগম বাজার মসজিদ এখান থেকে আবার পুরান জেলখানা খুব কাছে দেখে নিতে পারেন। সেইটা দেখে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জন্য রিক্সা নিবেন। ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে লালবাগ কেল্লা খুব কাছে। ১৫-২০টাকা রিক্সা ভাড়া নিবে।

আহসান মঞ্জিল। ছবি-নতুনকিছুআহসান মঞ্জিল। ছবি-নতুনকিছু

লালবাগ কেল্লা দেখে চলে যাবেন চক বাজার শাহী জামে মসজিদ। ভাড়া নিবে ৫০টাকা। মসজিদের উলটা ডান দিকের রাস্তায় একটা সাইন বোর্ড দেখতে পাবেন। "বড় কাটরা সমবায় সমিতি। এই রোড দিয়ে সোজা হেটে গেলেই বড় কাটরা দেখতে পাবেন। এখন আপনাকে কস্ট করে ছোট কাটরা খুজে বের করতে হবে। গুগল ম্যাপ্স লোকাল মানুষ এই ক্ষেত্রে আপনার কাজে আসবে। ছোট কাটরা দেখে আবার চক বাজার এসে পড়বেন।

এইবার মিডফোর্ড বরাবর হাটতে থাকেন। চকে থেকে মিডফোর্ডের রিক্সা সহজে পাবেন না। কারন প্রচুর জ্যাম থাকে। এর চেয়ে পায়ে হেটে তাড়াতাড়ি যাওয়া যায়। মিডফোর্ডে আর্মেনিয়াম চার্চ দেখে, তারা মসজিদ পায়ে হেটে যেতে পারবেন। খুব কাছেই। এরপর চিনি মসজিদ। এইবার বাবু বাজার ব্রীজে এসে পড়ুন।

লালবাগ কেল্লা। ছবি- Marzan Tours & Travels

এখান থেকে ফরাশগঞ্জ লাল কুঠির জন্য রিক্সা নিবেন। ভাড়া নিবে ৪০-৫০টাকা। লাল কুঠি দেখে খুব কাছেই অবস্থিত রুপলাল হাউজ চলে যান। সেইটা দেখা শেষ হলে বিউটি বোর্ডিং। বিউটি বোর্ডিং থেকে বাংলা বাজার বইয়ের দোকান ঘুরতে ঘুরতে চলে আসতে পারেন ঢাকা কলিজিয়েট স্কুলের সামনে। এর আশে পাশে আরও অনেক পুরান স্থাপনা আছে সময় হলে দেখে নিবেন। বিশেষ করে লক্ষীবাজারের দিকে।

 যদি সময় না কুলায় কলিজিয়েট স্কুল থেকে পাটুয়াটুলি হয়ে হেটে হেটে চলে আসুন আহসান মঞ্জিল। ইচ্ছে করলে রিক্সায় ও আস্তে পারেন। খুব সকালে বের হলে আশা করি সন্ধ্যার মধ্যে সব স্থাপনা দেখে শেষ করতে পারবেন।