হাটিকুমরুলের নবরত্ন মন্দির দেশের সর্ববৃহৎ নবরত্ন মন্দির। এই মন্দিরে কোন শিলালিপি পাওয়া যায় নেই। তবে ধরা হয় অনুমানিক ১৭ শতকে নবাব মুর্শিদকুলির আমলে মন্দিরটি তৈরি হয়। দেখতে অনেকটা দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরের মত।

কথিত আছে, তৎকালীন দিনাজপুরের রাজা প্রাণনাথ কান্তজিউ মন্দির নির্মাণ ব্যয়ে অর্থ সংকটে পড়েন। তার রাজকোষ হয়ে যায় শূণ্য। এর ফলে বছরের রাজস্ব পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়ে পড়েন। এই সময় তার বন্ধু জমিদার রামনাথ ভাদুরী সাহায্যে এগিয়ে আসেন। তার কোষাগারের অর্থ দিয়ে রাজা প্রাণনাথের বকেয়া পরিশোধ করেন। শর্ত হিসাবে দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরের মত মন্দির তৈরি করে তার দেনা পরিশোধ করিতে বলেন। জমিদার রামনাথের শর্ত হিসাবে হাটিকুমরুল মন্দিরটি রাজা প্রাণনাথ তৈরি করেন।

প্রায় ৫০০ বছরের পুরান এই মন্দিরটি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নে অবস্থিত। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দেখ ভাল করার কথা থাকলেও এখানে নিয়মিতই চলে গাজার আসর। স্থানীয় উঠতি বখাটেদের আড্ডা স্থল এটি। এভাবে অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে বাংলাদেশের অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা।

একটু যত্ন সচেতনতায় হতে পারতো হাটিকুমরুল মন্দির একটা পর্যটক কেন্দ্র। কিন্তু আমাদের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ ২-৩ খানা সাইন বোর্ড টানিয়ে তাদেত দ্বায়িত্ব শেষ করে দিচ্ছে। এর আশে পাশে একটি রিসোর্ট তৈরি করে এবং মন্দিরের চারপাশে প্রাচীর দিয়ে পাশে একটা ছোট জাদুঘর করলেই কিন্তু এইটা হতে পারতো সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র। খালি মন্দির দেখতে এতদূর কষ্ট করে কারও আসার কথা নয়।  প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে যারা কাজ করেন সরকারী মন্ত্রী মিনিস্টার আমলা কর্মচারী সবার শুভ বুদ্ধি উদয় হক।