ভারতের প্রখ্যাত সুতা ব্যবসায়ী মোহিনী মোহন চক্রবর্তী ১৯০৮ সালে মিলপাড়া এলাকায় ১০০ একর জায়গার ওপর নির্মাণ করেন মোহিনী মিল। তৎকালীন ভারত বর্ষে আধুনিক সুতার কলের মধ্যে মোহিনী মিল ছিল অন্যতম। সে সময় বিলেত থেকে পিতলের হ্যান্ডলুম মেশিন আর পিতলের তৈরি প্রায় ২০০ তাঁত আমদানি করে মিলে বসেয়েছিলেন মোহিনী বাবু। এ মিলে তৈরি সুতা ভারতবর্ষের চাহিদা পূরণ করে মায়ানমার, শ্রীলংকা, পাকিস্তান যেত। মোহিনী মিলের স্বর্ণ যুগ চলে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত।

এরপর সবই ইতিহাস। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রযন্ত্রের কালা থাবায় পড়ে দেশ ছাড়তে হয় মোহিনী বাবুর। বন্ধ হয়ে যায় মোহিনী মিল। এখন সবই কালের সাক্ষী। প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ এই মোহিনী মিল। জায়গাটা কোন ভূতুড়ে বাড়ীর চেয়ে কম নয়। গা ছম ছম একটা ভাব আছে। আর এখানে বসত বাড়ী গড়েছে কিছু বেরসিক শিয়াল।

পুরান বাড়ীঘর যারা পছন্দ করে ঘুরে আসতে পারেন মোহিনী মিল আশা করি হতাশ হবেন না। আর এর পাশেই আছে টেগর লজ। আর খানিকটা দূরে আছে লালন সাই'জির মাজার। সাইজির মাজার দেখে চলে যেতে পারেন লাহিনীপাড়ায়। এখানে আছে মীর মোশারফ হোসেনের বাস্তুভিটা। বাস্তুভিটা দেখে চলে যেতে পাড়েন গড়াই ব্রিজ। আশা করি সময়টা খারাপ কাটবে না।

কি ভাবে যাবেনঃ কুস্টিয়ার মজমপুর থেকে অটোতে খুব সহজেই আসা যায়।