চিকচিক করছে দীঘির জল। দেখলেও মন ভরে যায়। এর নাম গঙ্গাসাগর দীঘি। অবস্থান তার আখাউড়ায়। মোস্তাফা কামালের কবর থেকে খানিকটা দূরে। গঙ্গাসাগর বলতে কোনো সাগর, মহাসাগর, উপসাগর নয়। গঙ্গাসাগর একটি গ্রাম, একটি দীঘি। একটি রেলস্টেশন এবং একটি ডাকঘর। রয়েছে বাজার। ভূমি অফিস, ইউনিয়ন অফিস ইত্যাদি। কিন্তু এর সাথে আছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যা শুনলে শরীরে কাটা দিয়ে উঠে। আছে দুর্বার বুকচেতা মোস্তাফা কামালের ইতিহাস, গণহত্যা,  বিশ্বাসঘাতকতা, আসহায় মানুষদের আর্তনাদের ইতিহাস।

এ মাটি যেমন জন্ম দিয়েছে মোস্তাফা কামালের মত বীর তেমনেই দেশের মুখে কালি মেখেছে মোবারকের মত রাজাকার। অনেক ঘটনার সাক্ষী এই গঙ্গাসাগর। গঙ্গাসাগর দীঘির পশ্চিম পাড়ে একাত্তরের গণকবরে শুয়ে আছেন ৩৩ জন শহীদ। প্রাণ দিয়েছেন তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং জামায়াতে ইসলামী গঠিত ও মোবারক মিয়া পরিচালিত রাজাকার বাহিনীর হাতে। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহনকারীদের আত্মীয় স্বজনদের গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে আসে পাক বাহিনীর স্থানীয় কমান্ডার মেজর সেকান্দারের নির্দেশে। নির্যাতনের পর তাদের কে গভীর রাতে নিয়ে যাওয়া হয় গঙ্গাসাগরের পশ্চিমপারে। প্রত্যেকের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় একটি করে কোদাল। পাশাপাশি ৩টি গর্ত খনন করতে হবে- একই সারিতে। চারদিক থেকে ঘেরাও করে আছে সশস্ত্র আর্মি আর রাজাকার। এক সময় গর্ত খনন করা শেষ হল। তারা কি জানতো এই গর্তই তাদের মরন ফাদ। নিজেই খুড়েছে নিজেদের কবর। ৩৩ জন লোককে এক সারিতে দার করিয়ে গ্রাস ফায়ারের নির্দেশ দেয় রাজাকার কমান্ডার মোবারক হোসেন। বুনো উল্লাসে গর্জে উঠে মেশিনগান। একে একে ঝরে পরে ৩৩টি প্রাণ। রক্তের সাগরে ভাসে গঙ্গাসাগর। তাদের শুধু অপরাধ ছিল তাদের ছেলেরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিল। এই হত্যার হোতা ছিল এই দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা মোবারক হোসেন।

২০১৪ সালে যুদ্ধাপরাধের দায় প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত জাতিদ্রোহী রাজাকার কমান্ডার মোবারক কে ফাসির নির্দেশ দেয়। যাদের রক্তের বিনিময় পেলাম স্বাধীনতা তাদের অবদান কোন দিন ভুলার নয়। দেশ কে জানি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কে তুলে ধরি নতুন প্রজন্মের কাছে। 

কি ভাবে যাবেনঃ ঢাকা টু আখাউড়া বাসে, ট্রেনে - আখাউড়া বাজার থেকে রির্জাভ অটোতে দরুইন হয়ে গঙ্গা সাগর দীঘি।