পার্বত্য ত্রিপুরার অধিপতি দ্বিতীয় রত্ন মানিক্য (১৬৮৬-১৭১২) সপ্ত রত্ন মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেন বলে জানা যায়। কিন্তু তিনি এ কাজ শেষ হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। প্রায় চল্লিশ বছর পরে মহারাজা কৃষ্ণ মানিক্য (১৭৬১) এই মন্দির নির্মানের কাজ সমাপ্ত করেন।

এটি ছিল একটি সু-উচ্চ মন্দির। এতে সতেরটি চূড়া বা রত্ন ছিল।এ জন্য এটিকে সপ্ত রত্ন মন্দির বলা হয়। অষ্ট কোণাকার একটি কেন্দ্রীয় কক্ষকে কেন্দ্র করে এই মন্দির নির্মিত হয়ে ছিল। এই কেন্দ্রীয় কক্ষের উপরেই ছিল এর সু-উচ্চ চূড়া বা রত্ন। সেটি এখনও টিকে আছে। এই কেন্দ্রীয় কক্ষের চারদিকে ছিল আরও অনেক কক্ষ। মন্দিরটি ছিল তিনতলা বিশিষ্ট। কেন্দ্রীয় কক্ষকে ঘিরে নির্মিত ছিল অষ্ট কোণাকার নির্মিত প্রথম তলা। এর উপরে ছিল ৮টি চূড়া বা রত্ন। দ্বিতীয়তলা অষ্টা কোণাকার নির্মিত হয়েছিল এর উপরেও ছিল ৮টি চূড়া বা রত্ন। প্রথম ও দ্বিতীয় তলার চূড়া গুলি এখন বিনষ্ট প্রায়।

সু-উচ্চ মন্দির।সু-উচ্চ মন্দির।

পথঘাট:

কুমিল্লা শহর থেকে ৫ কিঃমিঃ দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিবির বাজার স্থল বন্দর সড়কে জগন্নাথপুর গ্রামে মন্দিরটির অবস্থান। শহরের চকবাজার থেকে জগন্নাথ মন্দিরে নিয়মিতভাবে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা যাতায়াত করে থাকে। এতে সময় লাগে প্রায় ২০ মিনিট। ভাড়া মাথাপ্রতি ১০ টাকা।

সচেতনতা:

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার কোন ক্ষতি সাধন করবেন না। বিস্কিট চানাচুর চিপসের প্যাকেট পানির বোতল নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন। খুঁজে না পেলে সাথে নিয়ে আসুন।