খালিয়া শান্তিকেন্দ্রের ভিতরেই অবস্থিত এই মন্দিরটি। এই মন্দিরটির নির্মাণশৈলী বেশ চমৎকার। অনুমানিক ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই মন্দিরটি এই অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন মন্দির। তৎকালীন জমিদার ও কালীসাধক রাজা রাম নিজের পূজো আর্চনা করার জন্য মন্দিরটি নির্মাণ করে। মন্দিরের টেরাকোটায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রামায়ন মহাভারতের বিভিন্ন দৃশ্যাবলী নিপুণ দক্ষতায়। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন পশুপাখি, ফুল-লতা, দেব-দেবীর ছবি। দোতলা বিশিস্ট মন্দিরটি দেখতে অনেক চৌচালা ঘরের মত। ২৩ শতাংশ জমির উপর নির্মিত মন্দিরের দৈর্ঘ্য ২০ ফুট, প্রস্থ ১৬ ফুট এবং উচ্চতা ৪৭ ফুট। মন্দিরের একতলায় ৩টি এবং দ্বোতলায় ৬টি কক্ষ রয়েছে। মন্দিরটির পাশেই একটা রান্নাঘর আছে। যা মূলত ধ্বংসপ্রায় অবস্থা। এই রান্না ঘরে মূলর পূজো অর্চনার জন্য ভোগ তৈরি করা হত। বর্তমানে মন্দিরটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করে দেখাশোনার জন্য জাতীয় জাদুঘর ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ একজন সাইড পরিচালক নিয়োগ করেছে। ধ্বংসের আগেই দেখে আসতে পারেন মন্দিরটি।   

ঢাকার খুব কাছের জেলা হলেও মাদারীপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশি ভাল নয়। পদ্মা ব্রীজ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আর আগের মত থাকবে না। তাই মাদারীপুর যাবার জন্য খুব সকালে বের হতে হবে। গুলিস্তান/পোস্তাগোলা/বাবুবাজার ব্রীজ থেকে মাওয়াগামী যে কোন বাসে উঠে শিমুলিয়া ফেরিঘাট। এখান থেকে স্পীড বোটে পদ্মা পারি দিবেন। ভাড়া নিবে ১০০ টাকা। চাইলে লঞ্চেও যেতে পারেন সে ক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ৩৩ টাকা। তবে সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। মাওয়া থেকে কাওরাকান্দি স্পীড বোটে যেতে সময় লাগবে ১৫ মিনিট। আর লঞ্চে গেলে ১ ঘন্টার মত লাগবে। কাওরাকান্দি থেকে মাদারীপুরগামী যে কোন বাস/মহেন্দ্রা/অটোতে উঠে নেমে পড়ুন টেকেরহাট বাস স্ট্যান্ড ভাড়া নিতে পারে ৫০-১০০ টাকা। টেকেরহাট বাস স্ট্যান্ড থেকে ভ্যানে খালিয়া শান্তিকেন্দ্রে যাওয়া যায়। ভ্যানয়ালা কে বললেই খালিয়া শান্তিকেন্দ্র নামিয়ে দিবে। ভাড়া নিবে ১০টাকা। শান্তিকেন্দ্রের পরিবেশ বেশ মনোরম। এই শান্তিকেন্দ্রটি মূলত আগে জমিদার বাড়ী ছিল। এখানে চৌধুরী বাড়ী, রাজা রাম স্কুল, রাজরাম মন্দির সহ বেশ কিছু পুরানো স্থাপনা দেখতে পারবেন।