নাগরিক এই যান্ত্রিকতার মাঝে এক পরস ভালবাসার ছোয়া এনে দেয় আমার প্রাণের পুরান ঢাকা। ঢাকার এই সাইডে যেন প্রাণ আছে। ভাই ব্রাদারদের মহব্বত আর বিরিয়ানির তেল ইহা ঢাকাইয়াদের জীবনের বিরাট একটা অংশ। যদিও আমি পুরান ঢাকায় একজন সেটলার তবুও মহব্বত এক ফোটাও কমে নাই। আমি বিরিয়ানির তেল খেয়ে এই পুরান ঢাকায় ভুড়ি ভাসিয়ে মরতে চাই। ঢাকাইয়াদের ঐতিহ্যের একটা বিরাট অংশ জুড়ে আছে লালবাগ কেল্লা।

ডেটিং বলেন আর সেটিং বলেন, ঢাকায় নতুন আসলে একবার হলেও আসতে হবে। লালবাগ কেল্লার সাথে ভালবাসার শুরু স্কুল পালানোর দিন গুলো থেকেই। বয়স বাড়ার সাথে প্রেম যেন আরও বেড়ে চলছে। ইদানিং কেল্লার আসে পাশের বাড়ীঘর গুলো আমাকে আরও উদাসীন করে তুলে। লালবাগের ঐতিহ্যের বিশালতার কাছে যান্ত্রিক এই আধুনিকতা বড় বেমানান। খুব পীড়া দেয় যখন পুরাকীর্তির গায়ে নামের ছড়াছড়ি দেখি।

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যে ঢোকার মত স্থাপনা শুধু মাত্র আমাদের অযত্নে আবহেলায় আজ প্রায় জীর্ণ দশা। আর এর সাথেই আছে আমাদের টিপিক্যাল দেশবাসীদের ভালবাসা। আশেপাশে চোখ বুলালে চিপ্স,চানাচুরের প্যাকেট, স্পীড টাইগারের বোতলের সমাহার দেখিতে পারিবেন। যাহা খুজিতে অণুবিক্ষন যন্ত্র লাগে না। কেল্লার গায়ে রং নিয়ে এক্সপেরিমেন্টের ফলে এর আদি রং কি ছিল সেইটা নিয়েই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কনিফিউসন লেগে আছে। আমরা ঢাকাইয়ারা কি আমাদের ঐতিহ্য এভাবে শেষ হয়ে যেতে দিব নাকি রুখে দাড়াবো তা হয়তো সময় বলে দিব। এখনই সময় আমাদের মানসিকতার পরিবর্তনের। 

কি ভাবে যাবেন :  

ঢাকার যে কোন প্রান্ত থেকে আজিমপুর/গুলিস্তান। এরপর রিক্সা করে লালবাগ কেল্লা।