বাংলাদেশের অন্যতম সব জমিদার বাড়ির গল্প নিয়ে সাজানো আমাদের এই আয়োজন।

মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার অতি পরিচিত একটি স্থান মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি। এটি ঢাকা থেকে ২৫ কি.মি. দূরে নরসিংদী রোডে অবস্থিত। জমিদার রামরতন ব্যানার্জী ১৮৮৯ সালে ৪০ হেক্টর জমির উপর নির্মাণ শুরু করেন মুড়াপাড়া জমিদার বাড়িটির।

রুট ১ঃ রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ, গুলিস্থান অথবা যাত্রাবাড়ি থেকে মেঘলা, গ্লোরী, আসিয়ান পরিবহন অথবা নরসিংদী ভৈরবগামী যে কোন বাসে চেপে রূপসী বাসষ্টান্ড অথবা ভুলতা। তারপরে রিকশাযোগে জমিদার বাড়ি। রূপসী বাসস্টেশন থেকে সিএনজি করে ( ২০ টাকা জন প্রতি ভাড়া ) মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি।

রুট ২ঃ কুড়িল ফ্লাইওভার এর নিচে প্রাইভেটকার পাবেন, ভাড়া নিবে জনপ্রতি ৬০টাকা কাঞ্চনব্রিজ পর্যন্ত, গাড়ি থেকে নেমে একটু হেটে সামনে গেলেই সিএনজি পাবেন জনপ্রতি ভাড়া ৪০টাকা, সিএনজি আপনাকে নামিয়ে দিবে রুপগঞ্জ শীতলক্ষ্যা ফেরি খাটে, ফেরি পার হতে পারবেন ফ্রি তে, ফেরি পাড় হয়ে রিক্সা অথবা অটো ভাড়া ১৫টাকা অটো ভাড়া ৫টাকা।

মুড়াপাড়া জমিদার বাড়িমুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি

পাল রাজার প্রাসাদে

স্থানীয়ভাবে এটি ‘পালবাড়ি’ নামে পরিচিত। প্রথমেই চোখে পড়ে পাথরের ঘাট বাঁধানো পুরনো এক পুকুর। পুকুর পুরনো হলে কী হবে, এটির জল বেশ স্বচ্ছ। যেন কাকচক্ষু!

পুকুরের পাশেই শতবর্ষী বিরাট এক বটবৃক্ষ দাঁড়িয়ে আছে পুরনো দিনের সাক্ষী হয়ে। ওটাকে পেছনে ফেলে আরেকটু সামনে গিয়ে বামে মোড় নিতেই পাল রাজার প্রাসাদে পৌঁছে যাই। প্রাসাদের উঠোনে অযত্নে বেড়ে ওঠা ঘাসের সাম্রাজ্য। উঠোন পেরিয়ে ধাপে ধাপে সিঁড়ি উঠে গেছে প্রাসাদের মূল দালান পর্যন্ত। হঠাৎ মন চলে যায় অতীতে। একসময় কত জমজমাটই না ছিল এই প্রাসাদ, এই প্রাসাদ প্রাঙ্গণ। সেই মানুষগুলো আজ কোথায়?

প্রাসাদ ভবনের ইট-সুরকি আর কাঠের ফালিগুলো চেনা দায়! সময়ের পরিক্রমায় ক্ষয়ে যাওয়া ইট-পাথর-কাঠ হারিয়েছে জৌলুস। বট-পাকুড়-অর্কিড পরগাছারা দালানের ক্ষয়ে যাওয়া ফাঁকফোকর দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা-বিয়ানীবাজার রুটে শ্যামলী, রূপসী বাংলা, এনা ইত্যাদি বাস সার্ভিস চলাচল করে। ভাড়া ৫০০ টাকার মধ্যেই। এ ছাড়া সিলেট থেকেও লোকাল পরিবহনে যাওয়া যাবে। শহর থেকে রিকশা বা অটোরিকশা নিতে পারেন। দূরত্ব দুই কিলোমিটার। সিলেট হয়ে যাঁরা মাধবকুণ্ড ভ্রমণে যান, তাঁদের ভ্রমণ পথেই পড়বে এই প্রাসাদ ও দিঘি। রাত যাপনের জন্য বিয়ানীবাজারেই পাওয়া যাবে হোটেল সুবিধা

পাল রাজার প্রাসাদেপাল রাজার প্রাসাদে

করটিয়া জমিদার বাড়ি

করটিয়া জমিদারবাড়িতে ঢোকার সাথে সাথেই শরীর মন শীতল হয়ে যায়। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এটাই হবে। এতসুন্দর, পরিচ্ছন্ন আর গোছানো পরিবেশ আপনি লাস্ট কবে দেখেছিলেন মনে করতে পারবেন না। সদর দরজা দিয়ে ঢুকেই লাল রঙ এর প্রাসাদের সৌন্দর্যে আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। তবে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। কারণ এখানে মানুষ বাস করে। বাড়ির পিছনে বিশাল পুকুর। পুকুর পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে গেলে পাবেন বিশাল আকারের আরেকটা পুকুর। সেই পুকুরের অপরপার্শে রয়েছে অন্দরমহল। যা এখন স্কুল হিসেবে ব্যাবহৃত হয়। শুক্রবার হওয়ায় স্কুল ছুটি । আর এই সুযোগে আমরা পুরো ভবনের ভেতর থেকে বাহির পর্যন্ত ঘুরে দেখেছি। প্রত্যেকটা রুমে ঢুকে দেখেছি। সেখানে ঘন্টা খানেক থেকে বেড়িয়ে পরুন দেলদুয়ার জমিদারবাড়ির উদ্দেশ্যে। দেলদুয়ার জমিদারবাড়ি পৌছাতে প্রায় আধাঘণ্টা থেকে চল্লিশ মিনিট সময় লাগবে। 

করটিয়া জমিদার বাড়িকরটিয়া জমিদার বাড়ি

জমিদার লক্ষন সাহার বাড়ি:

বালাপুর থেকে লক্ষন সাহার বাড়ি যেতে হলে আসতে হবে মাধবদী।মাধবদী থেকে ডাংগা গ্রামে গেলে দেখা পাওয়া যাবে চারদিকে সবুজে ঘেরা এই জমিদার বাড়ি। জমিদার বাড়ির অবস্থান জানার জন্য স্থানীয়দের কাছে জিজ্ঞাসা করলে সদুত্তর নাও পেতে পারেন তবে উকিলের বাড়ি বললে সবাই চিনবে এবং আপনাকে সঠিক পথও দেখিয়ে দিবে।

জমিদার লক্ষন সাহার বাড়ি:জমিদার লক্ষন সাহার বাড়ি:

পাঁচআনি জমিদার বাড়ি

পুঠিয়া রাজবাড়ী বা পাঁচআনি জমিদারবাড়ী হচ্ছে মহারানী হেমন্তকুমারী দেবীর বাসভবন। বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের মধ্যে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী অন্যতম। ১৮৯৫ সালে মহারানী হেমন্তকুমারী দেবী আকর্ষনীয় ইন্দো ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতিতে আয়তাকার দ্বিতল বর্তমান রাজবাড়ীটি নির্মাণ করেন।

পাঁচআনি জমিদার বাড়িপাঁচআনি জমিদার বাড়ি

অপরূপ এ প্রাসাদটি ১৮৯৫ সালে মহারানী হেমন্ত কুমারী দেবী তাঁর শাশুড়ি মহারানী শরৎ সুন্দরী দেবীর সম্মানে নির্মাণ করান।

রাজশাহী জেলা সদর হতে ৩২ কিঃমিঃ উত্তর- পূর্বে নাটোর মহাসড়ক অভিমুখে পুঠিয়া অবস্থিত। বাসে করে দেশের যে কোন স্থান হতে পুঠিয়া আসা যায় এবং ট্রেনে করে নাটোর অথবা রাজশাহী নেমেও সড়কপথে সহজে আসা যায়।

 

বাংলাদেশের জমিদার বাড়ি (পর্ব ১)