বাংলাদেশের অন্যতম সব জমিদার বাড়ির গল্প নিয়ে সাজানো আমাদের এই আয়োজন।

মহেরা জমিদার বাড়ী

টাঙ্গাইলে ঘুরার মতন অনেক জায়গা আছে যা আপনি এক দিনে ঘুরে শেষ করতে পারবেন না। তবে তার মধ্যে মহেরা জমিদার বাড়ি সবচেয়ে সুন্দর। এটি তিনটি স্থাপনা নিয়ে তৈরি। বাড়ির ভেতরের দিকে বিশাল খাঁচায় বিভিন্ন রকম পাখি পালা হয়।

তিনটি স্থাপনার প্রতিটাতে অসাধারণ কারুকার্য করা। এসব কারুকার্য দেখলেই মন ভরে যাবে।

যেভাবে যাবেন

টাঙ্গাইলের জমিদার বাড়ি দেখতে হলে খুব সকালে বাসা থেকে বের হতে হবে। কারণ যেতে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা লাগবে। মহাখালী থেকে ‘ঝটিকা সার্ভিস’ নামে বাস ছারে। এছাড়া টাঙ্গাইল জাওয়ার আরো বেশ কিছু ভাল বাস আছে। মহেরা জমিদার বাড়ির বর্তমান নাম মহেরা পুলিশ ট্রেইনিং সেন্টার। ওখানে যেতে হলে নামতে হবে ‘নাটিয়া পাড়া’ বাস স্ট্যান্ড এ। সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মত। নেমে একটা অটো রিকশা নিয়ে যেতে হবে। রিক্সায় করে সরাসরি মহেরা জমিদার বাড়িতে যাওয়া যাবে। ভাড়া ২০-৩০ টাকা। জমিদার বাড়ি ঢুকতে টিকেট কিনতে হবে,জন প্রতি ২০টাকা

মহেরা জমিদার বাড়ীমহেরা জমিদার বাড়ী

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

ঢাকার আশে পাশে এক দিনে কোথাও থেকে ঘুরে আসার প্লান থাকলে ঘুরে আসতে পারেন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি , মানিকগঞ্জ থেকে ।

খরচ খুব বেশী হলে ২৫০ টাকা মাত্র ।

যেভাবে যাবেনঃ

গাবতলী থেকে এস বি লিংকে বালিয়াটি পর্যন্ত ভাড়া ৮০ টাকা এর পর বালিয়াটি থেকে জমিদার বাডি মিনিট তিনেক হাটা পথ অথবা গাবতলী থেকে সাটুরিয়া পর্যন্ত ভাড়া ৭৫ টাকা , ওখান থেকে জমিদার বাড়ি ১০ টাকা অটো ।

কি কি খাবেনঃ জমিদার বাড়ির আশে পাশে অনেক খাবারের দোকান আছে , তাই খাবার নিয়ে কোন সমস্যা হবে না ।

প্রবেশ ফিঃ ২০ টাকা, সার্কভুক্ত দর্শনার্থী-১০০ টাকা, বিদেশি দর্শনার্থী- ২০০ টাকা। 

পরিদর্শন সময়সূচি :
গ্রীষ্মকাল : সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত
বিরতি : দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত
শীতকাল : সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত
বিরতি : দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত
শক্রবার : দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতি
বন্ধ : রবিবার পূর্ণদিবস ও সোমবার অর্ধদিবসসহ সরকারি ছুটির দিন। ঈদের পরের দিন এই প্রাসাদ বন্ধ থাকে।

কিছু সতর্কতাঃ ফেরার সময় আপনাকে সাটুরিয়া আসতে হবে । এখান থেকে ঢাকা আসার লাস্ট বাসটা সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে ছাড়ে ।

বালিয়াটি জমিদার বাড়িবালিয়াটি জমিদার বাড়ি

দেলদুয়ার জমিদারবাড়ি

দেলদুয়ার বাজারে পৌছে দুপুরের খাবার খেয়ে নিবেন। তারপরে হেটে জমিদারবাড়ির দিকে চলে যান। সময় লাগবে ৫ মিনিট। অন্যান্য জমিদারবাড়ির তুলনায় অনেক ছোট হলেও সৌন্দর্যের কোন কমতি নেই। এখানে বেশি সময় অপচয় করার দরকার নেই। ফটোসেশন আর ঘুরে দেখতে ২০-২৫ মিনিটই যথেষ্ট। সেখান থেকে বেড়িয়ে আবার যাত্রা শুরু। লক্ষ্য এবার পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি। সময় লাগবে ৪০-৬০ মিনিট। 

দেলদুয়ার জমিদারবাড়িদেলদুয়ার জমিদারবাড়ি

পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি

পাকুটিয়া জমিদারবাড়িটার কয়েকটা ভবন। কোনটা কি ভবন বোঝা মুশকিল। এই ভবনগুলি অনেক পুরাতন। তাই সিড়ি বেয়ে ওঠার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন। এখানে কিছু ভবনে মানুষ এখনো বাস করে। তবে পরিত্যক্ত ভবনের ভিতর-উপর সব ঘুরে দেখতে পারবেন। এখানে আধাঘণ্টা ঘুরে ফটোসেশন শেষ করে গাড়িতে চরে বসুন। এবারের গন্তব্য বিরুলিয়া।

পাকুটিয়া জমিদারবাড়িপাকুটিয়া জমিদারবাড়ি

বিরুলিয়া জমিদার বাড়ি

তুরাগ নদীর পাড়ে ছোট্ট গ্রাম বিরুলিয়া। ঢাকা থেকে খুব কাছেই এই গ্রামটির অবস্থান। ইতিহাসের সাক্ষী কিংবা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে গেলেও বিরুলিয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও জমিদার বাড়ি লোকচক্ষুর অন্তরালেই রয়ে গেছে।

বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়বে ছড়ানো ছিটানো কালের সাক্ষী এখনও দাঁড়িয়ে আছে জীর্ণ শরীর নিয়ে। আছে একটি মন্দিরও।

বিরুলিয়া জমিদার বাড়ি

গ্রামের মাঝে নদীর তীর ঘেঁষে বাড়িটি জমিদার রজনীকান্ত ঘোষের। সেখানে এখন বাস করছেন রজনীকান্ত ঘোষের বংশধররা।
স্থানীয় অধিবাসী এবং জমিদারের উত্তরসূরিদের কাছ থেকে জানা গেলো, সেই সময়ের জমিদার নলিনী মোহন সাহার কাছ থেকে রজনীকান্ত ঘোষ ৮৯৬০ টাকা ৪ আনি দিয়ে বাড়িটি কেনেন।
পুরানো ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় জমিদার রজনীকান্ত ঘোষের কয়েকটি বাড়ি থাকলেও এখন প্রায় সবগুলোই অন্যদের দখলে।বিরুলিয়া জমিদার বাড়ি

যেতে চাইলেঃ

বিরুলিয়া যাওয়ার কয়েকটি রুট আছে।
রুট ১ঃ মিরপুর ১ থেকে আলিফ কিংবা মোহনা বাসে উঠে সরাসরি বিরুলিয়া ব্রিজ। তারপর স্থানীয় কাউকে জিজ্ঞেস করে বিরুলিয়া গ্রাম ও জমিদারবাড়ি।
রুট ১ঃ আব্দুল্লাহপুর/বাইপাইল/আশুলিয়া থেকে প্রথমে বেরিবাধ আসতে হবে। তারপরে মিরপুর ১ গামী যেকোন গাড়িতে উঠে বিরুলিয়া ব্রিজ।
রুট ৩ঃ সাভার বাসস্ট্যান্ড এ অন্ধমার্কেটের সামনে থেকে লেগুনাউ সরাসরি বিরুলিয়া ব্রিজ।
যে রুটেই যান, ২০০-৩০০ টাকার মধ্যে দুপুরের খাবার সহ ঘুরে আসতে পারবেন।

চলবে...