৮-৯ নভেম্বর
কিভাবে যেনো এক ঘুমেই রাতটা কেটে গেলো। টেরই পেলাম না। সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠে গরম গরম চায়ের ধোয়া উঠা মগে ঠোঁট ছুঁয়ে শরীরটাকে সতেজ করে নিলাম। হাইক্যাম্প ভেঙে আটটার দিকে আমরা বেসক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। 
প্রথমের সেই পাথুরে খাড়া চড়াই নেমে এলাম গ্লেসিয়ারের মধ্যে। আবহাওয়া ভালো। রোদও আছে। মাঝ পথে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম। আজ খাবারের মধ্যে শুধুই চকলেট। চকলেট চুষতে চুষতে হেঁটে চলছি। শরীরের ভারসাম্যও অনেকটা নিয়ন্ত্রনের বাইরে। তাই হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। 
দুই শেরপা আমাদের আগেই নেমে গেছে। তাদের কাছে বিজয় ও আমাদের নামার খবর পেয়ে বিথী ও রিনি আনন্দে আত্মহারা। তারা আমাদের জন্য গরম পানি নিয়ে এগিয়ে এসেছে। পথেই সবাই আনন্দে লাফালাফি করলাম। 

কেয়াজো-রি বিজয় করে বেসক্যাম্পে কেয়াজো-রি বিজয় করে বেসক্যাম্পে 

জয়ের আনন্দে আকাশে ভাসছে লেখক
বেসক্যাম্পে বাবুর্চি বুসন আমাদের জন্য ভাত, আলু ভর্তা, মুরগির মাংস, ডাল রান্না করে রেখেছে। প্রায় তিনদিন চা, স্যুপ ছাড়া তেমন কিছু খাওয়া হয়নি। তাবুর বাইরে রোদের মধ্যেই আমরা বসে পড়লাম। কিচেন বয় আমাদের প্লেটে করে খাবার এনে দিলো। খাবার খেলাম পেট পুরে। খাওয়া যেনো শেষ হতে চায় না।  
যেসব পোশাক ও আরোহণের জিনিস উপরে ব্যবহার করেছি সেগুলো ব্যাগ থেকে বের করে রোদে শুকালাম। বেসক্যাম্পে খুব তারাতারি রোদ চলে যায় কারণ চারপাশেই উঁচু উঁচু পাহাড়। আবার জিনিসপত্রগুলো গুছিয়ে ব্যাগে ভরে ফেললাম। কাল সকালেই আমরা নিচে নেমে যাবো। তাই আজই সবকিছু গুছিয়ে ফেললাম। সামিটের গল্প করেই বিকেলটা কেটে গেলো। জয়ের আনন্দে আকাশে ভাসছে লেখক

জয়ের পর বেসক্যাম্পে এভারেস্ট জয়ী দলনেতা এমএ মুহিতের সাথে লেখকজয়ের পর বেসক্যাম্পে এভারেস্ট জয়ী দলনেতা এমএ মুহিতের সাথে লেখক

জয়ের আনন্দে বেসক্যাম্পে হাস্যজ্জল বিকেলজয়ের আনন্দে বেসক্যাম্পে হাস্যজ্জল বিকেল

বিজয় আনন্দ, বেসক্যাম্পবিজয় আনন্দ, বেসক্যাম্প

রাতের খাবার শেষ করে আমাদের তাবুর ভেতরে এসে আমরা ওনো খেললাম। রাত দশটার পর সবাই ঘুমাতে যার যার তাবুর ভেতরে চলে যায়। বিপ্লব ভাই ঘুমিয়ে পড়লেন। শুধু আমিই জেগে আছি। তাবুর পাশ দিয়ে বয়ে চলা বরফ গলা পানির শব্দ শুনছি। ছোট্ট সেই নোট বুকে লিখছি স্লিপিং ব্যাগের ভেতর থেকে হেডলাইটের আলোতে। 
নয় তারিখ সকালে খাবার খেয়ে বেসক্যাম্প ভেঙে ফেলা হলো। মালপত্র ইয়াকের করে মেনদের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। আমরাও সকাল আটটার দিকে নিচে নামা শুরু করলাম। 
দুপুর ২টার দিকে আমরা মেনদে নেমে এলাম। এখানে এসে মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক পেলাম। মুহিত ভাই বাংলাদেশে ইনাম স্যারকে ফোনে আমাদের বিজয়ের খবরটা দেন। সামিটের দুই দিন পর দেশের মানুষ আমাদের জয়ের কথা জানলো। 
আজকের রাতটা মেনদেতে এই অভিযানের শেষ তাবুবাস আমাদের। প্রতিদিনের মতো গল্প করে, গান শুনে আর ওনো খেলে বিকেলটা কেটে গেলো। 

(চলবে)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (১২তম কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (১১তম কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (১০ম কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (৯ম কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (৮ম কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (৭ম কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (৬ষ্ঠ কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (৫ম কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (৪র্থ কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (৩য় কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (২য় কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (১ম কিস্তি)