সচলায়তনের সাথে আমার পরিচয় সচল নিলয় নন্দীর মাধ্যমে। ব্লগ কি, অল্প অল্প বুঝতে শিখেছি তখন। সচলয়াতনকে খুব খুব ভালো লেগে গেল। বিশেষ করে এতগুলো সমমনা মানুষ যেখানে লিখছেন, তার প্রতি অন্যরকম একটা ভালোবাসা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। এর ভেতর থেকেও কিছু মানুষকে একেবারে আলাদা করে নিল মন। চরম উদাস, নজরুল ভাই, হিমুদা আরও কয়েকজন। কিন্তু হিংসে হলো একজনের ওপর। লোকটা এতকিছু পারে কী করে! আক্ষরিক অর্থেই পৃথিবীর পথে পথে ঘুরছেন আর লিখছেন। ঠিক পথে বসেই লেখা যাকে বলে। শুধু ভ্রমণ হলেও কথা ছিল। পাখি, জীব জগৎ, বই নিয়ে একের পর এক হৃদয়গ্রাহী লেখা বেরিয়ে আসছে তাঁর হাত থেকে। এমন মানুষকে হিংসে না করে পারা যায়। একেবারে ভালোবাসার হিংসে যাকে বলে। আক্ষরিক অর্থেই লোকটার প্রেমে পড়ে গেলাম। আর ভাবতাম, কবে তাঁর দেখা পাবো। সচলায়তনের প্রতিও প্রেমটা আরও গাঢ় হলো।

একদিন ভয়ে ভয়েই পোস্ট করে ফেললাম জামিল সিরিজের লেখা। পাবলিশ হলো। অন্যরকম এক শিহরণ খেলে গেল শরীর-মনে। নেশার মতো পেয়ে বসল সচলায়তন। একের পর এক কল্পবিজ্ঞান, গল্প, কিশোর গল্প, গোয়েন্দা গল্প পোস্ট করতে লাগলাম। পাঠকদেরও সাড়া পেতে শুরু করেছি। কিন্তু কীসের যেন একটা অতৃপ্তির অনুভূতি খুঁচিয়ে যাচ্ছিল বুকের ভেতরটায়। তারেক অণুর মতো বিশ্বভ্রমণের গল্প লেখার সাধ্য আমার নেই। কিন্তু তিনি প্রকৃতিপ্রেমী, জীবনানন্দপ্রেমী--প্রকৃতি নিয়ে একের পর এক মাস্টারপিস বেরিয়ে আসছে তাঁর হাত দিয়ে। আমিও তো লিখতে পারি বাংলার প্রকৃতি নিয়ে। কিন্তু আমার ক্যামেরা নেই। তবে কাজ চালানো গোছের একটা মোবাইল ফোন ছিল। বিভিন্ন সময় প্রকৃতির ছবি তুলেছি আপন খেয়ালে। সেসব ছবিকে উপকরণ করেই শুরু করলাম বাংলার তরু-লতা-গুল্ম সিরিজটা। সচলরা সেটা গ্রহণও করলেন। যদিও আমার লেখালেখির হাতেখড়ি ২০০৩ সালে রহস্যপত্রিকার মাধ্যমে, তবে সচলায়তনকেই মনে হলো নিজেকে বিকশিত করার সত্যিকারের মঞ্চ।

বলছিলাম তারেক অণু কথা। ২০১৩ সালের শেষ দিকে। আমি তখন সেবায় চাকরি করি। একদিন তারেক অণু এলেন কাজীদার সাথে দেখা করতে। আমার সাথেও দেখা হলো, কথা হলো, সত্যিকারের এক বন্ধুবৎসল মানুষের দেখা পেলাম। অনেকদিন থেকেই একটা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল। তারেক অণুর ভ্রমণ বিষয়ক লেখাগুলোর সঙ্কলন যদি করা যায়, তাহলে বাংলা ভ্রমণ সাহিত্যের সম্পদ হয়ে থাকবে সেটা। সেই চিন্তা থেকেই আমার বন্ধু ছায়াবীথির কর্ণধার জাহাঙ্গীর আলম সুজনকে বলেছিলাম সে কথা। তাঁর মনে ধরল প্রস্তাবটা। তিনি বললেন, অণুদার সাথে কথা বলতে। কিন্তু তখন পর্যন্ত অণুদার সাথে আমার কথপোকথন শুধু ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ। ফেসবুকে সে কথা তুললাম না। সেবায় যেদিন দেখা হলো, সেদিন তারেক অণুর সাথে ফোন নম্বর আদান-প্রদান হলো। তখনও তাঁকে কোনও আভাস দিইনি। এরপর ফোনে দিলাম প্রস্তাবটা। বই করার চিন্তা ভাবনা অণুদা তখনও সিরিয়াসলি করেননি। কারণ তাঁর ভয় ছিল, মেকাপ-গেটাপ যদি ঠিকমতো না হয়, তাহলে পাঠকের কাছ থেকে উল্টো প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। আমি তাঁকে আশ্বস্ত করলাম। সুজন ভাইয়ের কাজের প্রতি আমার আস্থা ছিল।

অণুদা তাঁর সেরা লেখাগুলো পাঠিয়ে দিলেন আমার কাছে। বইয়ের পরিধি অুনযায়ী বাছাই করতে। কঠিন কাজ। তাঁর সব লেখাই আমার কাছে সেরা মনে হয়। এর ভেতর থেকে বাছাই করতে গলদঘর্ম হয়ে গেলাম। তারপরও শেষ পর্যন্ত বাছাই হলো। তবে আমি একা নই। অণুদা নিজে, এনাম ভাইও শুনেছি সাহায্য করেছিলেন। তারপর যেটা হলো সেটা ইতিহাস। বইটি মুড়ি-মুড়কির মতো বিক্রি হতে শুরু করল ২০১৪-এর বইমেলায়। আমার মতে, গত বইমেলার সবচেয়ে আলোচিত বই ছিল পৃথিবীর পথে পথে। যদিও বইমেলা কেন্দ্রীক সুজন ভাইয়ের ব্যস্ততার কারণে বইয়ে বেশ কিছু ভুল-ত্রুটি রয়ে গিয়েছিল। বইমেলার পর সেগুলো সংশোধন করে সম্পূর্ণ পরিপাটি করে সাজানো হলো ‘পৃথিবীর পথে পথে’। এবারের বেইমেলায় সেই পরিপাটি বইটিই পাওয়া যাবে।

এ তো গেলো বই প্রকাশের পেছনের ইতিহাস। এবার দেখা যাক বইটির জন্য পাঠকদের মধ্যে কেন এমন উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছিল। বইটিকে ভাগ করা হয়েছিল সাতটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। প্রথম অংশের শিরোনাম ছিল “তুষার আর অগ্নির উপখ্যান”। এই পর্বে ছিল সাতটি কাহিনী--                                                                                                                                                                                                                                              

১. উত্তর মেরুর যাত্রী

২. মেরু ভালুকের দেশে

৩. ‍তিবত! তিব্বত!

৪. বিশ্বের উচ্চতম বেসক্যাম্প

৫. হিমালয়ের অন্নপূর্ণাায়

৬. আল্পস শিখরে

৭. ভিসুভিয়াসের জ্বলামুখ থেকে              

বইয়ের এই অংশটা পড়ছিলাম আর রোমাঞ্চিত হচ্ছিলাম। উত্তর মেরুর স্বপ্নের যাত্রী হওয়ার স্বাদ পাচ্ছিলাম যেন। মেরু বিন্দুটা যেন ধরা দিয়েছিল আমার হাতের নাগালে। বইয়ের সম্মোহনী জাদু একটানে নিয়ে গিয়েছিল তুষারাবৃত বিশ্বের উচ্চতম বেস ক্যাম্পে।আল্পস শিখরে দাঁড়িয়ে যেন গোটা ইউরোপকেই দখতে পাচ্ছিলাম। ভিসুভিয়াসের জ্বালামুখে দাঁড়িয়ে শুনতে পাচ্ছিলাম অগ্নিগিরির পেটের ভেতরের প্রচণ্ড বিস্ফোরণের তাণ্ডব, যে তাণ্ডবে দুহাজার বছর আগে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল পম্পেই নগরি। তারেক অণুর বর্ণনা থেকেই না হয় তুলে দিই খানিকটা--

ভিসুভিয়াসের কুখ্যাত জ্বালামুখ তখন আমাদের সামনে, কেবল একটি রেলিংয়ের ব্যবধান। এরপরেই ঢাল নেমে গেছে নানা ধরনের শিলাস্তর নিয়ে কেন্দ্র পর্যন্ত। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম জ্বালামুখের কন্দরেও সবুজের ছোঁয়া, একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতেই বেশ কিছু গাছ চির উন্নত মম শির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সগর্বে!....ছবি তোলার সময় প্রথমবারের মতো নিচের একপ্রান্তের ধোঁয়া চোখে এলো! সত্যিকারের আগ্নেয়গিরির ধোঁয়া! সেখানে ভূমির তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের বেশি। মাটি যেন ফুটছে টগবগ করে, কতটা উত্তপ্ত হলে শিলা থেকে ধোঁয়া বেরোতে পারে! উৎক্ষিপ্ত লাভা নয়, সোনারঙা নিভু নিভু পাথর নয়, সেই অল্প ধোঁয়ার উৎসেই যে কী রোমাঞ্চের সৃষ্টি করল মনে তা পুরোপুরিই অলেখ্য।

দ্বিতীয় পর্বের শিরোনাম ‘মানুষের গল্প জনপদের গল্প। এই পর্বে মোট নয়টি কাহিনী--                                                                                                     

১. দিয়েগোময় ব্যোকা, রঙিন স্যানতেলমো এবং ইকথিয়ান্ডরের নিবাস

২. নিশীথ সূর্যের দেশ

৩. রিওর বস্তি শহর ফাভেলা

৪. পবিত্র ক্রুশের পাহাড়

৫. আমার দেখা কিউবা

৬. রিওর যিশু দর্শনে

৭. ডারউইন তীর্থে

৮. কারাগারে মালি ম্যাণ্ডেলার পদক্ষেপ

৯. নাম না জানা ইনকা গ্রাম, লুকোচুরিররত শিশু এবং আমার মুচি বন্ধু

এই পর্বের শিরানামগুলোয় জানিয়ে দিচ্ছে নস্টালজিয়ার ছোঁয়া প্রতি পারতে পরতে। ম্যারাডোনা যেখানে খেলেছেন, ডারউন যেখানে নিবিষ্ট চিত্তে গবেষণা করেছেন, ম্যান্ডেলা যে জেলে মালির কাজ করেছেন, সেসব জায়গা আপনার বুকে শিহরণ তুলবে। কিন্তু নস্টালজীয়ার চরমে তুলে দেবে একটা নাম, বাস্তবের চরিত্র সে নয়, কল্পকাহিনীর পাতা থেকে উঠে আসা, নির্যাতিত মানুষের বিজয়ী প্রতিনিধি হয়ে সারা বিশ্বের কিশোর হৃদয়ে আড়োলন তুলেছে যে মৎসমানব, সেই ইখথিয়ান্ডরের নিবাস রিও ডি লা প্লাতার উপকূলে কী অনুভূতি হতে পারে আপনার, তারেক অণুর জবানীতেই তা শোনা যাক--

‘হাতে সময় আছে মিনিট পাঁচেক, বাস এসে ভোঁ দেবে, তার আগেই দেখা করতে হবে শৈশবের বন্ধুর সাথে, দৌড়ে রাস্তা পার হয়ে পুরনো বন্দরের রেলিং ঘেঁষে দাড়িয়ে দুইবার তার নাম ধরে হাঁক ছাড়লাম, সেখানকার লোকজন দেখি কেমন চোখে চমকে তাকাল, কারো কারো মুখ মৃদু হাসি! যে যা ইচ্ছে মনে করুক, বন্ধু তো আমার, তাকে ডাকার দায় তো আমারই! আবার হাঁক দিলাম।

প্রিয় বন্ধুর সাথে পরিচয় প্রায় দুই দশকের। কিন্তু মুখোমুখি কথা হয়নি কখনোই, কেবলই মনে মনে। ছবিতে যে ঘোলা জলের সাথে অপরিষ্কার বন্দর এলাকা দেখছেন তা আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের পুরনো বন্দর। রিও দে লা প্লাতা বা প্লেট নদীর তীরে। এখানেই হারিয়ে ছিল বন্ধু আমার, শুনেছি মাঝে মাঝে গভীর সমুদ্রের কোল থেকে উঠে আসে গুরুগম্ভীর শঙ্খধ্বনির মত আওয়াজ, সেই আমার বন্ধুর বেঁচে থাকার চিহ্ন, অস্তিত্বের প্রমাণ। কিন্তু সেই আওয়াজ সবার কানে পৌছায় না, সবাই পায় না, পায় কোটি কোটি মানুষ, যারা আমার বন্ধুর বন্ধু। তার নামটি ধরে শেষ বারের মত ডাকলাম সেই ঘোলা জলের দিকে তাকিয়ে- ইকথিয়ান্ডর ! ইকথিয়ান্ডর !’

বইয়ের তৃতীয় পর্বের শিরোনাম “পথের বাঁকে ইতিহাসে। এ পর্বেও নয়টা কাহিনী--                                                                                            

১. সূর্যনগরী পিসাক এবং ইনকাদের সমাধী ক্ষেত্র

২. ওয়্যানটাইটামবো, ইনকাদের প্রাচীন দুর্গনগরী

৩. ধ্বংসনগরী এরকোলানো

৪. অ্যাজটেক শহর তেওতেহুয়াকান, যেখানে মানুষ পরিণত হত ঈশ্বরে

৫. মাচু পিঁচু

৬. স্টোনহেঞ্জের মুখোমুখি

৭. পিসার হেলানো টাওয়ার

৮. পোপের দেশ ভ্যাটিকান সিটি

৮. ওয়াটার লুর যুদ্ধক্ষেত্রে

কাহিনীগুলোর শিরনোমেই বুঝতে পারছেন, লেখক শুধু নিছক ভ্রমণে আটকে থাকেননি, পুরোনোদিনের বিখ্যাত সব স্থানে ঘুরে ঘুরে সেসবের পরতে পরতে জড়ানো ইতিহাসকে মূর্ত করে তুলেছেন। এখান প্রতিটা কাহিনীই পাঠককে মুগ্ধ করবে। আমি শুধু মাঁচু-পিঁচু থেকে কয়েক লাইন তুলে দিলাম--

কবে থেকে শুরু হয় মাচু পিঁচুর সাথে এই সখ্য। সাল মনে পড়ে না। কিন্তু পড়ি তখন প্রাইমারি স্কুলে। বড়দের অদ্ভুতুড়ে জগতের মায়াবী আকর্ষণ নিয়ে হাতছানি দিত কিছু আজব জিনিস। তার মধ্যে একটি ছিল রহস্য পত্রিকা নামের এক আজব পত্রিকা যা সেবা প্রকাশনীর মাসিক মুখপত্র।.....সেখানে ছিল ভাঙাচোরা শহরের সাদা কালো ছবি, নিচে লেখা মাচু পিঁচু। 

.......এর মোহনীয় আকর্ষর্ণে জড়িয়ে যাবার পর থেকেই স্বপ্ন দেখেছি একদিন। কোনও এক দিন আন্দেজের এই পাহাড়ি শহরে যেতেই হবে আমাকে। 

সেই লম্বা যাত্রা শেষ হয়েছিল গতকাল সন্ধ্যায় ক্যালিয়ান্তাসের রেল স্টেশনে

বইয়ের চতুর্থ পর্বের শিরোনাম ‘অরণ্য আড়ালে’। এই পর্বে আছে ৫টি কাহিনী--                                                                                                

১. কারাকামুল, বৃষ্টি-অরণ্যের মাঝে পিরামিড শহুর

২. ইয়ূকাটানের অরণ্যে, পথ হারিয়ে শ্বপদের মুখোমুখি

৩. চিতোয়ানের গহীন বনে

৪. নিশাচর প্যাঁচার খোঁজে

৫. আফ্রিকার বুনো প্রান্তরে

বইয়ের পঞ্চমপর্বের শিরোনাম ‘জলে কার ছায়া’। ৪টি কাহিনী আছে এই পর্বে--

১. টিকটিকা হ্রদের ভাসমান দ্বীপে

২. কানিমা নামের নদী

৩. ম্যাক্সিকো উপসাগরে কচ্ছপ, পাখি, ডলফিনের খোঁজে

৪. ক্যারিবীয় সাগরতলে

বইয়ের ৬ষ্ঠ পর্বের শিরোনাম ‘সাহিত্যসাফারি’। এ পর্বের কাহিনী সংখ্য ৫--                                                                                              

১. শেক্সপিয়ার অ্যান্ড কোম্পানি কিলোমাটার জিরো, প্যারিস (বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত বইয়ের দোকান)

২. অ্যানা ফ্যাঙ্কের বধ্যভূমিতে

৩. হেমিংওয়ের কিউবা

৪. ফ্রাঙ্কফুটের বইমেলা

৫. বাঁশিওয়ালার হ্যামিলন

বইয়ের ৭ম পর্বের শিরোনাম ‘কলাকেলি’। ৬টি কাহিনী রয়েছে এই পর্বে--                                                                                                         

১. ফ্লোরেন্সের সকালে

২. অ্যাক্রোপোলিসের চূড়ায়

৩. হাজিয়া সোফিয়া মধ্যযুগের সপ্তাশ্চর্য

৪. লিওনার্দোর ভিঞ্চি গ্রামে

৫. ভ্যন গগ জাদুঘরে

৬. রবির বিদেশিনীর খোঁজে

এই পর্বের সবচেয়ে চমকপ্রদ কাহিনী ‘রবির বিদেশীনির’ খোঁজে। ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে...ওগো বিদেশিনী’--রবিঠাকুরের রহস্যময় গানগুলির একটি। এ নিয়ে বাংলা সাহিত্যে আলোচনাও কম হয়নি, যেমন হয়েছে জীবনবাবুর বনলাতকে খুঁজতে গিয়ে। কে এই বিদেশীনি? যে যাই বলুক, তারেক অণু সেই বিদেশিনীকে কল্পনা করেছেন ভিক্তোরিয়া ওকাম্পোরূপে। যদিও রবিঠাকুরের ওই গান রচিত হয়েছে, ওকাম্পোর সাথে দেখা হওয়ার ৩০ বছর আগেই। তুবও ওকাম্পোর সাথে রবিঠাকুরে বন্ধুত্ব তারেক অণুকে প্রলুব্ধ করেছে ওকাম্পোকেই সেই বিদেশিনীরূপে কল্পনা করতে।

তারেক অণুর ‘পৃথিবীর পথে পথে’ নিছক ভ্রমণ কাহিনী নয়। ভ্রমণের সাথে আবেগ, মানবতা, ইতিহাস, শিল্পকলা, সাহিত্য একাকার হয়ে বাংলা ভ্রমণ সাহিত্যের অন্যতম সম্পদ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার অপেক্ষায়। আমরা হয়তো জানব না, আজি হতে শত বর্ষ পরে অত্যাধুনিক পৃথিবীর কোনও পাঠক যখন পড়বে, তখন গায়ের রোমকূপে শিহরণ তুলে আবেগে থরথর করে কাঁপবে। এ আমার বিশ্বাস, ধারণা নয়।

একুশে বইমেলায় বইটি পাওয়া যাবে ছায়বীথির স্টলে। স্টল নং- ২২১। গায়ের দাম : ৫০০টাকা। আসল দাম : ৩৫০ টাকা।