২ নভেম্বর। মেনদে । ১২৬২৫ ফুট
ঘুম থেকে উঠে সাতটার মধ্যে ব্যাগ নিয়ে আমরা ডাইনিং-এ চলে এলাম।  খাবার শেষে আমরা মাসালা চা পান করলাম।  এমন সময় একদল অট্রেলিয়ানদের সাথে আড্ডা হলো। তারা এভারেস্ট বেসক্যাম্প ঘুরে এসেছে।  নারী পুরুষ তরুণ ও বৃদ্ধের ১৫/১৬ জনের একটি দল। তাদের নেপালে এটাই প্রথম সফর। আজ তারা হেলিকাপ্টারে করে খুম্বু রিজন উপর থেকে দেখবে। 
সকাল নয়টার সময় আমরা নামচে বাজার থেকে মেনদের উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করলাম।  বাজারের ভেতর দিয়ে আস্তে আস্তে চলে এলাম হেলিপ্যাডের কাছে।  বাজারের উপরে হেলিপ্যাড।  এখানে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম। 
 

নামচে বাজারের উপরে হেলিপ্যাডের উপরে নামচে বাজারের উপরে হেলিপ্যাডের উপরে

    
আজ তেমন খাড়া চড়াই বা কঠিন পথ নাই।  আঁকাবাঁকা উচুনিচু পথ। বার্জ, রডেডনড্রন ও পাইন বনের ভেতর দিয়ে হেঁটে চলছি।  উঁচু উঁচু গাছের ফাঁক দিয়ে সুর্যের আলো শিল্পকর্ম করছে।  আলো ছায়ার খেলার ছলে হাঁটছি আজ।  ছবিও তুলছি।  এখন আবহাওয়া ভালো।  রোদও আছে।  

 আলো ছায়ার খেলার ছলে হাঁটছিআলো ছায়ার খেলার ছলে হাঁটছি

 

শতবর্ষী নারীশতবর্ষী নারী


হাঁটতে হাঁটতে দুপুরের খাবারের সময় হয়ে গেলো।  রাস্তার পাশে একটি ছোট রেস্টুরেন্ট দেখে খেতে বসলাম।  খাবার তৈরী হচ্ছে।  আমরা বসে বসে আড্ডা দিতে শুরু করলাম।  আজ রান্না ঘরে মুহিত ভাই আর ছায়াবিথী আপু।  রান্না শেষে আমরা খেতে বসলাম।  মুহিত ভাই ডিম ভাজি করেছেন আর ছায়াবিথী আপু ডাল রান্না করেছেন।  আর আমরা খাবার ধ্বংসের অপেক্ষায় দাঁতে শান দিচ্ছি। 
 
 খোলা আকাশের নিচে দুপুরের খাবার  
  
এখন সোজা খাড়া চড়াই।  পা টিপে টিপে কচ্ছপ গতিতে এগিয়ে চলছি।  হাঁপাতে হাঁপাতে বিকেল ৩টার সময় মেনদে এসে পৌছালাম।  আমাদের আসার আগেই ইয়াকে করে মালপত্র এখানে চলে এসেছে। শেরপারা আমাদের তাবু রেডি করে ফেলেছে। আজ থেকে আমাদের তাবুবাস শুরু।  চারটে তাবু।  আজ আমি আর বিপ্লব ভাই এক তাবুতে।  নূর ভাই ও শামীম ভাই এক তাবুতে।  রিনি আপু ও ছায়াবিথী আপু এক তাবুতে।  মুহিত ভাই এক তাবুতে।  আর শেরপা ও বাবুর্চি দু’জন ডাইনিং তাবুতে।  এখানে আমরা দু’রাত থাকবো।  এক্লেমাটাইজ (উচ্চতায় খাপ খাওয়ানো) হওয়ার জন্যই আমাদের এখানে দু’রাত থাকতে হবে।  প্রতিদিনের মতো আজো বিকেলের পর থেকে আবহাওয়া খারাপ হয়েছে।   চারপাশ মেঘে হোয়াইট আউট হয়ে গেছে।  খুব শীত পড়েছে।  তবু খুব ভালো লাগছে। সাদা মেঘে শুধু কমলা রঙের তাবুই দেখা যাচ্ছে।  চারপাশ সাদা। মনে হচ্ছে মেঘের উপরে আমরা ভাসছি।  এ এক স্বর্গীয় পরিবেশ।  খোলা আকাশের নিচে দুপুরের খাবার  

 এখান থেকেই আমাদের তাবু জীবন শুরু।    মেনদে এখান থেকেই আমাদের তাবু জীবন শুরু।   মেনদে


সবাই ডাইনিং তাবুর ভেতরে চলে এলাম।  গরম গরম স্যুপ, চকলেট চা, পপকর্ন ভাজি, দুধে ভেজানো কর্নফ্লেক্স সাথে আড্ডা যেন জমে ক্ষির।  শামীম ভাইর মাল্টি-পারফর্মেন্স আর ছায়াবিথী আপু ও ফৌজিয় আপুর দমফাটানো হাসি সন্ধ্যাটা আনন্দে ভরে গেলো।  
রাতের খাবার শেষ করে তাবুর ভেতরে চলে এলাম।  তারা সবাই আমাদের তাবুর ভেতরে এলেন।  কাল যেহেতু এখানেই থাকবো তাই একটু রাত করেই ঘুমালে সমস্যা নেই।  রাত ১০টা পর্যন্ত আমরা ওনো খেললাম আর মুহিত ভাইর এমপি-থ্রি তে গান শুনলাম।  আজ রাতে রিনি আপু ছ’বার জিতেছেন।  আগেই বলেছিলাম আমার মাথা ব্যাথা।  তা এখনো আছে। 

 

(চলবে)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (৫ম কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (৪র্থ কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (৩য় কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (২য় কিস্তি)

মাউন্ট কেয়াজো-রি শিখরে বাংলাদেশ (১ম কিস্তি)