সাপ একটি সরিসৃপ প্রাণী। এরা খুবই বিষাক্ত হয়ে থাকে। সাপ বিষধরদের জন্য বিখ্যাত হলেও সাপ প্রকৃতপক্ষে মানুষ শিকার করে না এবং সাপকে কোনো কারণে উত্তেজিত করা না হলে বা সাপ আঘাতগ্রস্থ না হলে তারা মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে। কিছু মারাত্মক বিষধর সাপের বিষ মানুষের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুকি বা মৃত্যুর কারণ ঘটায়।অনেক সময় সাপের বিষ মানুষের উপকারে আসে।যা বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া সকল মহাদেশেই সাপের উপস্থিতি দেখা যায়। আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত সাপের তালিকা সংগ্রহ করেছি এবং আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

মালায়ান সাপ

dailyforest.comdailyforest.com

এই সাপটি ‘ব্লু ক্রাইট’ নামেও পরিচিত। এটি অন্য ক্রাইট সাপের মতো রাতের বেলা বের হয় এবং অন্ধকারে আক্রমণ করতেই বেশি পছন্দ করে। এই সাপ নিজেদের প্রজাতিকে খেয়ে ফেলে। এই সাপ দক্ষিণ এশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়াতে দেখতে পাওয়া যায়। এই সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যুর হার ৮৫ শতাংশ। এই সাপের বিষ একবার শরীরের ভিতরে ঢুকলে শরীর সুস্থ হতে অনেক সময় লেগে যায় এবং এই সাপের ছোবলে মাত্র অর্ধেক মানুষ বেঁচে আছে।

র‍্যাটল সাপ

dailyforest.comdailyforest.com

উত্তর আমেরিকায় র‍্যাটল সম্ভবত সবচেয়ে কুখ্যাত সাপ। সাধারণত এটি দক্ষিণ-পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখা যায়। এদের লেজের দিকে ঝুনঝুনি সদৃশ বিশেষ অঙ্গ থাকে যার সাহায্যে তারা শব্দ করতে পারে। শরীরে দুই-তৃতীয়াংশ লাফিয়ে আক্রমণ করে থাকে। এই সাপের বিষ টিস্যু নষ্ট করে ফেলে রক্ত জমাট বেঁধে যায় ফলে এর সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। এই সাপে কামড়ানোর পর শ্বাসকষ্ট, প্যারালাইসিস, বমি, রক্ত বমি, চেতনাহীন হয়ে পড়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

ফিলিপাইন কোবরা

dailyforest.comdailyforest.com

এটি দেখতে সুন্দর এবং আন্তরিকের মতো, যেন একটি বিশ্বস্ত চেহারা। কিন্তু আপনি বোকা বনে যাবেন না, ফিলিপাইন কোবরা সবচেয়ে মারাত্মক কোবরার মধ্যে একটি। এমনকি এটি তার বিষ দশ ফুট পর্যন্ত নির্গত করতে পারে। বিশেষ করে হলুদ এবং কালো ফিলিপাইন কোবরা ছোবল দিলে চিকিৎসা না করালে কয়েক মিনিটের মধ্যে হৃৎপিণ্ড এবং শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে।

অ্যানাকোন্ডা

dailyforest.comdailyforest.com

অ্যানাকোন্ডা হচ্ছে এমন একটি সাপ যা বিষাক্ত জীবাণুর তুলনায় অন্যান্য গুণাবলীর নির্ভর করে প্রথম তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ এই সাপটি ঠিকই বিষহীন কিন্তু তবুও অনেক মানুষ এবং বড় বড় প্রাণীকে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে আস্তে আস্তে পুরো শরীরটাই গিলে ফেলতে পারে।

বুমস্ল্যাং

dailyforest.comdailyforest.com

বুমস্ল্যাং খুবই বিষাক্ত এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখতে পাওয়া যায়। এটি খুব দ্রুত গাছ আরোহণ করতে পারে। এই সাপের ঈগলের মতো দৃষ্টিশক্তি আছে। এই সাপের ছোবলে মৃত্যুও হতে পারে।

পেরনের সামুদ্রিক সাপ

dailyforest.comdailyforest.com

পেরনের সামুদ্রিক সাপ সাগরের প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ, সিয়ামের উপসাগর এবং তাইওয়ানের প্রণালী এবং অন্যান্য এরকম এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়। অন্যান্য সামুদ্রিক সাপের মতো তারা একটি মারাত্মক বিষ তৈরি করে। এটিই একমাত্র সামুদ্রিক সাপ যার মাথার উপর কাঁটা থাকে।

মরুভূমির শৃঙ্গাকার সাপ

dailyforest.comdailyforest.com

এই সাপটি দেখতে খুবই কুৎসিত। এটি খুব বড় একটি সাপ, এটি মধ্যপ্রাচ্যে এবং উত্তর আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে পাওয়া যায়। এরা খুবই ভয়ানক এবং বিষাক্ত হয়ে থাকে। চিকিৎসা না করালে এই সাপের বিষে মৃত্যুও হতে পারে।

ইস্টার্ন ব্রাউন সাপ

dailyforest.comdailyforest.com

এই সাপটি দেখত হয়তো বিশেষ কিছু নাও হতে পারে কিন্তু এটি আপনাকে মেরে ফেলতেও পারে। তাই কোথাও দাঁড়ানোর আগে বা বসার আগে আপনার অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। ভূমিতে বসবাসকারী সবচেয়ে বিষাক্ত সাপের মধ্যে এটিও একটি। ব্রাউন সাপের মধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় বাদামী সাপই বেশি বিষধর। এটি অস্ট্রেলিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। এরা যেমন দ্রুত চলাফেরা করতে পারে তেমনি উপযুক্ত পরিবেশে হরহামেশাই আক্রমণ করে বসতে পারে। এরা শুধু চলমান মানুষ বা বস্তুকেই আক্রমণ করে। আর এর বিষ এতটাই বিপজ্জনক যে, এর এক ছোবল একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট। 

বেলচের সামুদ্রিক সাপ

dailyforest.comdailyforest.com

পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত এ সাপটি খুবই ভদ্র স্বভাবের। এটি সাধারনত কাউকে কামড়ায় না। তবে বার বার একে বিরক্ত করলে এটি কামড় দিতে পারে। এ সাপটি নিয়ে বেশি ভয়ের কারনও নেই কারন এটি কাউকে কামড়ালেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিষ ডুকায় না। তবে কারো ভাগ্য খারাপ হলে এর বিষাক্ত ছোবলে ১৫মিনিটের কম সময়েই তার মৃত্যু ঘটতে পারে। মাত্র কয়েক মিলিগ্রাম বেলচেরির বিষ ১০০০ এর বেশি লোক বা ২৫ লক্ষ ইদুরকে মারার জন্য যথেষ্ট্য।

ব্ল্যাক টাইগার সাপ

dailyforest.comdailyforest.com

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক কিছু প্রাণীর আবাসস্থল। এদেশটি বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক সাপেরও আবাসস্থল। ব্ল্যাক টাইগার সাপ অবিশ্বাস্যভাবে বিপজ্জনক। এই সাপ ছোবল দেবার পর চিকিৎসা না করালে ত্রিশ মিনিটের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে। সৌভাগ্যক্রমে ব্ল্যাক টাইগার সাপ সাধারণত মানুষকে ভয় পায়। যদি এটি একবার আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যায় তাহলে ভয়ের কিছু নেই।

বিষধর সাপ দংশনের লক্ষণঃ

বমি, মাথাঘোরা, কামড়ানোর স্থানে ফোলা, রক্তচাপ কমে যাওয়া, চোখে ডাবল দেখা, ঘাড়ের মাংসপেশী অবশ হয়ে ঘাড় পেছনের দিকে হেলে পড়া। 

বিষধর সাপ দংশনে করণীয়ঃ

 হাত বা পায়ে কামড় দিলে হাতের পেছনের দিকে কাঠ বা বাঁশের চটা বা শক্ত জাতীয় কিছু জিনিস রেখে শাড়ির পাড় বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে স্প্লিন্ট তৈরি করে বেঁধে দিতে হবে।

আক্রান্ত জায়গা কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দিতে হবে। লক্ষ রাখবেন বেশি টাইট করে বাঁধা যাবে না। বাঁধলে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয়ে গ্যাংগ্রিন হতে পারে। বিষ শিরা দিয়ে নয়, লসিকাগ্রন্থি দিয়ে শরীরে ছড়ায়।

আক্রান্ত জায়গায় কাচা ডিম, চুন, গোবর কিছুই লাগাবেন না। এতে সেল্যুলাইটিস বা ইনফেকশন হয়ে রোগীর জীবনহানি ঘটতে পারে।

সাপে কাটা রোগীকে ওঝা-বৈদ্য বা কবিরাজ না দেখিয়ে বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেয়ার আগে আক্রান্ত জায়গা নাড়াচাড়া করা যাবে না।  

বিষাক্ত সাপের কামড় থেকে রক্ষা পেতে করণীয়ঃ

বড় ঝোপ, ঘাস, পাথর বা বড় গাছের পাশে ঘুমানো উচিৎ নয়। কারণ এসব জায়গায় সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে।

স্লিপিং ব্যাগ অন্ধকারে না রেখে বাতাসযুক্ত খোলা জায়গায় রাখা উচিৎ। মশারি শক্তভাবে বেঁধে ব্যাগের নিচে চাপা দিয়ে রাখতে হবে।

অন্ধকার জায়গা, পাথরের ফাঁকা জায়গা বা গাছের ছিদ্র পরীক্ষা না করে হাত দেওয়া উচিৎ নয়।

নিচের দিকে লক্ষ্য না করে কোন বড় ঝোপ বা ঘাসের মধ্য দিয়ে হাঁটা উচিৎ নয়।

ফেলে রাখা কোন গাছের অপর পাশে নজর না দিয়ে পা রাখা উচিৎ নয়। কারণ   অপর পাশে ছায়ায় কোন সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে।

বিষাক্ত নয় এটা নিশ্চিত না হয়ে কোন সাপ ধরা উচিৎ নয়।

কখনো কোন বিষাক্ত সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে কোন নড়াচড়া বা শব্দ করা উচিৎ নয় এবং এটিকে তার পথে চলে যেতে কোন বাঁধা দেয়া উচিৎ নয়।

সবসময় বনেজঙ্গলে ঘুরার সময় শক্ত এবং উচু বুট পরা উচিৎ যা সাপের কামড় হতে আপনাকে রক্ষা করবে।

কোথাও বেড়াতে গেলে আগে ঐ এলাকায় হাসপাতাল কোথায় তা জেনে রাখা উচিৎ।

দ্য ব্রোফ্যাশনাল এবং ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।

পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত সাপ (পর্ব-১)