পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বৃষ্টি-অরণ্য আমাজন বন। বলা হয়ে থাকে এই জঙ্গলের এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে এখনো মানুষের পায়ের ছাপ পড়েনি। এই বন আয়তনে যেমন বিশাল তেমনি ঘন লতাপাতা ও গাছপালায় ঢাকা। এই জন্য সূর্যের আলো এই বনে ঠিকমত প্রবেশ করতে পারে না। এই বন নিজে যতটা বিচিত্র তার থেকে বিচিত্র এর গাছপালা ও এই বনে বাস করা প্রাণীগুলো। আজ আমরা আপনাদের জানাবো আমাজন বনের কিছু বিস্ময়কর ও মারাত্মক প্রাণী সম্পর্কে। এই প্রাণীগুলোর গঠন যেমন বৈচিত্র্যময় তেমনি কাজকর্মও ভিন্নধর্মী।

চলুন জেনে আসি আমাজন বনের বিস্ময়কর কিছু প্রাণী সম্পর্কে।

১। স্বচ্ছ ব্যাঙ।

 

আমাজন বনের খুবই আকর্ষণীয় একটি প্রাণী হল এই স্বচ্ছ ব্যাঙ। একে গ্লাস ফ্রগও বলা হয়। এই ব্যাঙের শরীর ও দেহাবরণ কাঁচের মত স্বচ্ছ এবং এর মধ্যদিয়ে এই ব্যাঙের আভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো স্পষ্ট দেখা যায়। আপনি এই ব্যাঙকে উল্টে ধরলে তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া থেকে শুরু করে ফুসফুসের কার্যপ্রণালী স্পষ্ট প্রত্যক্ষ করতে পারবেন।

২। জেসাস গিরগিটি।

 

এই প্রাণীটি আমাজন বনের সবথেকে বিস্ময়কর একটি প্রাণী। এই গিরগিটির অদ্ভুত একটি ক্ষমতা আছে। আর তা হল এই গিরগিটি পানির উপর দিয়ে দৌড়াতে পারে। বিস্ময়কর হলেও সত্য এর এই ক্ষমতার পেছনে লুকিয়ে আছে এর দেহের ওজন, পায়ের পাতার বিস্তার ও গতি। এই প্রাণী ছাড়া আমাজন বনের প্রাণীতালিকা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

৩। মাটা মাটা কাছিম।

 

আমাজন বনের আরেকটি বিস্ময়কর প্রাণী হল এই মাটা মাটা কাছিম। এই কাছিমের মাথাটা খুবই অদ্ভুত অনেকটা শুকনো পাতার মত। আর এদের খোলসটাও এবড়ো থেবড়ো পাথরের মত। এরা বেশিরভাগ সময় পানির নিচে থাকে তাই এই গঠন তাদের ছদ্মবেশ হিসেবে কাজ করে। এরা এভাবে লুকিয়ে থেকে ছোট মাছ কিংবা পোকামাকড় শিকার করে।

৪। বাদাম মাথার পোকা।

 

এই পোকাকে দেখলে মনে হয় ভিন্নগ্রহের কোন জীব। এই পোকার মাথাটা অদ্ভুতরকমের। যেটা দেখতে অনেকটা বাদামের মত। তাই একে পিনাটহেড বাগ বলা হয়।

৫। মাকড়সা বাঁদর।

 

খুব মজাদার প্রাণী এই মাকড়সা বাঁদর। এদের ইংরেজিতে বলা হয় স্পাইডার মাঙ্কি। এদের এই অদ্ভুত নামের কারণ হচ্ছে এদের অনেকটা পাঁচ পায়ের মাকড়সা বলে মনে হয়। এদের লেজ পঞ্চম পা হিসেবে কাজ করে। এমনকি এরা লেজদিয়ে ডাল ধরে ঝুলে থাকতে পারে অনায়াসে। এবং এই অসাধারণ লেজ তাদের গাছে গাছে দাপিয়ে বেড়ানোর অসাধারণ ক্ষমতা দিয়েছে।

৬। হানি বেয়ার।

 

এদেরকে হানি বেয়ার বলা হলেও এরা র‍্যাকুন প্রজাতির। এদের পুরো শরীর সোনালী লোমে ঢাকা থাকে। মধু চুরি করতে ওস্তাদ এই প্রাণী অনেকটা বাঁদরের মতই গাছে গাছে ঝুলে বেড়ায়। তাছাড়া এরা বেজায় সাহসী ও এদের মারাত্মক কামড় কোন প্রাণী খেতে চায় না।

৭। ক্যাপিবারা।

 

বলুন তো, ইঁদুর প্রজাতির সবথেকে বড় প্রাণী কি? এই ক্যাপিবারা। এদের ওজন ১৫০ পাউন্ডের বেশি হয় এবং এরা ১৩৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। অ্যানাকোন্ডার খুব প্রিয় শিকার এই ক্যাপিবেরা। এই তৃণভোজী প্রাণী জলে স্থলে দুই জায়গাতেই বাস করে।

৮। সাইক্লোসা মাকড়সা।

 

এই মাকরসা খুবই বুদ্ধিমান। এই অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার মাকড়সার নকল করার ক্ষমতা আপনাকে অবাক করে দিবে। এই মাকড়সা মরা পোকা ও লতাপাতা দিয়ে নকল অবয়ব গঠন করতে পারে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, শত্রুদের দূরে রাখতে তারা তাদের আকারের তুলনায় বড় কোন মাকড়সার অবয়ব বানিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।

৯। গ্রেট পোটো।

 

আমাজন বনের এই ছদ্মবেশী পাখি গাছের সাথে মিশে যেতে পারে। এমনকি এদের বাচ্চারাও খুব সুন্দরভাবে গাছের ডালকে নকল করতে পারে। এদের প্রায় সাতটি প্রজাতি রয়েছে।

১০। গোলাপি ডলফিন।

 

আমাজন নদীর অন্যতম প্রাণী এই ডানপিটে গোলাপি ডলফিন। আমাজন নদীর পানি ভীষণ ঘোলাটে। কিন্তু এই ডলফিনরা রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করে যেখানে খুশি ছুটে বেড়াতে পারে ও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে পারে। অন্যান্য ডলফিন থেকে এদের ভিন্নতার কারণ এদের গোলাপি রঙ। তাছাড়া অন্য ডলফিনদের তুলনায় এরা বেশি বুদ্ধিমান হয়ে থাকে।