ভারত একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় স্থলভূমি যা মরুভূমি থেকে শুরু করে ম্যানগ্রোভ বন পর্যন্ত অসংখ্য বৈচিত্র্যময় স্থলভাগের সাথে সম্পৃক্ত। এখানকার বন্যপ্রাণীর আকর্ষণ উপভোগ করতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ভারত ভ্রমণ করতে আসেন। বিষয়টা যখন ‘ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি’ তে চলে আসে তখন সেটা আর শুধুমাত্র বন্যপ্রাণীর ছবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি এখানে উঠে আসে তাদের নিজস্ব বাসস্থানের চিত্র যেখানে তারা খুঁজে পায় সামান্য নিরাপত্তা। আর একটি সুন্দর আলোকচিত্র তৈরির জন্য প্রয়োজন সময় উপযোগী পদক্ষেপ এবং নিখুঁত স্ন্যাপশট।

আমরা আপনাদেরকে ভারতের সেরা দশটি স্থানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব যা ‘ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি’র জন্য প্রসিদ্ধ।

কর্বেট ন্যাশনাল পার্ক

ভারতের উত্তরাখণ্ডে অবস্থিত এই পার্কটি বড় মাংসাশী স্তন্যপায়ীদের ছবির জন্য বিখ্যাত। পার্কের ভেতরে প্রবেশ করে নিজস্ব পরিবেশে বড় স্তন্যপায়ীগুলোকে দেখার জন্য জিপ সাফারি নির্বাচন করা হয়। এখানে পাঁচটি ভিন্ন অঞ্চল রয়েছে, যা বিভিন্ন প্রাণী ও পাখিতে ভরপুর। ঋতু অনুযায়ী এবং আপনার পছন্দের প্রাণীর ধরণ অনুযায়ী আপনি নির্দিষ্ট অঞ্চল বেছে নিতে পারবেন। হিমালয় পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত ছোট পাহাড়গুলোর দৃশ্য আপনার ফটোগ্রাফকে আরও সুন্দর করে তুলবে।

দাচিগাম ন্যাশনাল পার্ক

কাশ্মীরে অবস্থিত এই পার্ক সুন্দর ফটোগ্রাফের জন্য একটি আইকন। বন্যপ্রাণীর আলোকচিত্রের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হলো এখানকার কাশ্মির স্টেজ বা কাশ্মিরের স্তম্ভ।  হিমালয়ের কালো ভালুক, কস্তুরী হরিণ এবং অন্যান্য অপূর্ব সব প্রাণীকে চিত্রিত করার জন্য এটিই উপযুক্ত স্থান। আপনি যদি সকাল সকাল প্রথম এই পার্কের দিকে যান তবে আপনি অনেক সুন্দর এবং বিরল পাখির ছবি নিতে পারবেন। এমন কি আপনি এই অঞ্চলের খুব বিরল কীটপতঙ্গও খুঁজে পেতে পারেন।

দুধওয়া ন্যাশনাল পার্ক

এটি উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত একটি ইকোসিস্টেম পার্ক এবং ভারত-নেপাল সীমান্তে অবস্থিত। আপনি আলোকচিত্রের জন্য বিচিত্র সব প্রাণী খুঁজে পাবেন এখানে। এক শিংযুক্ত গণ্ডার থেকে শুরু করে  শূকর, হরিণ, মোটকথা আপনি এখানে প্রাণীদের একটি সন্নিবেশ খুঁজে পেতে পারেন। যদি আপনি বসন্ত বা শীতকালে যান, আপনি অনেক স্থানীয় বা মাইগ্রেশন পাখির ছবি নিতে পারবেন। পার্কে সারা বছর ধরে সুন্দর জলবায়ু বিরাজ করে যা স্বল্প আলোতে পশুদের আলোকচিত্র গ্রহণ সহজ করে তোলে।

হেমিস ন্যাশনাল পার্ক

লাদাখে অবস্থিত এই পার্কটিতে তুষার চিতাবাঘের ছবি তোলার জন্য হাজার হাজার পেশাদার  ফটোগ্রাফারদের ছুটে আসেন। এটি একটি হিংস্র প্রাণী এবং সবচেয়ে অভিজ্ঞ গাইডের সাহায্যে ফটোগ্রাফিকেরা এই স্থানটি নির্বাচন করেন। শুধু চিতাই নয়, দুর্লভ সব পাখি ও জংলি প্রাণীরও দেখা পাবেন এ পার্কে। পার্কটি সিন্ধু নদী ও জানস্কর নদীর সমন্বয়ে গঠিত। এই অঞ্চলটি পশু এবং উদ্ভিদে সমৃদ্ধ। আপনি এই অঞ্চলের অনেক আকর্ষণীয় প্রাণী এবং পাখির ছবি নিতে পারবেন।

 গ্রেট হিমালয়ান ন্যাশনাল পার্ক

এই পার্কটি বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রকারের জন্য হিমাচল প্রদেশের একটি প্রাথমিক পার্ক। আপনি এখনে ফোটোগ্রাফির জন্য অপরিহার্য সব উপাদান খুঁজে পেতে পারেন। এই পার্কটি বহিরাগত পশুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহশালা, যা হিমালয়ের বাস্তুসস্থার সহায়ক। আপনি অনেক উপত্যকা খুঁজে পেতে পারেন, যেখানে বহিরাগত উদ্ভিদ পরিবেশের সাথে গবাদি পশু সমৃদ্ধ। সময়মত নিখুঁত ছবি ক্লিক করার জন্য রয়েছে অনেক বিরল পরিবেশ।

রান্থামবোর ন্যাশনাল পার্ক

রাজস্থানের এই পার্কটিতে অনেকগুলি বিলাসবহুল ট্রেন ভ্রমণ এবং অসংখ্য ‘বন্যজীবন পরিদর্শন প্যাকেজ’ রয়েছে। আলোকচিত্রের জন্য সর্বাধিক প্রত্যাশিত প্রাণীটি হল শাবকদের সঙ্গে চমৎকার বেঙ্গল টাইগার। বিপজ্জনক মাংসাশী প্রাণীদের ছবি ধারণ করার জন্য এটা একটা উপযুক্ত পার্ক। পার্কের গভীরতম অংশে জীপ সাফারি করে বাঘের ছবি নেয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

গির ন্যাশনাল পার্ক

আপনি যদি ছবি তোলার জন্য বিরল মাংসাশী প্রাণীর সন্ধান করেন, তাহলে ভ্রমণ করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থানটি হলো গুজরাটের গির পার্কটি। এই পার্কটি সিংহে পরিপূর্ণ। আপনি এই পার্কটিতে ৩০০ টি বিভিন্ন আকর্ষণীয় পাখি সনাক্ত করতে পারেন এবং অসংখ্য চমৎকার পরিযায়ী পাখি এখানে দেখতে পাবেন। জলাভূমি কুমির এবং মাছের ছবি তোলার জন্য এটি বিখ্যাত।

তাদোবা ন্যাশনাল পার্ক

এই পার্কটি মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর অঞ্চলে অবস্থিত। এই পার্কটি প্রধানত বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য বিখ্যাত এবং এখানের প্রধান আকর্ষণ হলো বাঘ। আপনি নিশ্চিন্তে হাতিতে উঠে যথাসম্ভব মাংসাশী প্রাণীর কাছে যেতে পারেন। এই অঞ্চলের উদ্ভিদগুলো ছবি তোলার জন্য একটি সুন্দর দৃশ্যপট হিসেবে ভূমিকা রাখে। এখানে শুধুমাত্র একটি সমস্যা হলো কুয়াশাচ্ছন্ন জলবায়ুর অবস্থা। তাই ফটোগ্রাফারদেরকে একটি নিখুঁত ছবি তোলার জন্য সকালে ভ্রমণ করতে হয়।

সিমলিপাল ন্যাশনাল পার্ক

বন্যপ্রাণী ফোটোগ্রাফি শুধুমাত্র বিশাল স্তন্যপায়ী এবং হিংস্র প্রাণীই নয়। সেইসাথে ছোট ছোট প্রাণীর ছবি ধারণ করার বিষয়ও রয়েছে যা সহজে মিস হয়ে যায়। উড়িষ্যার সিমলিপাল পার্কে উড়ন্ত কাঠবিড়াল, নৃত্যরত ময়ূর, মিনাহ এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণীদের সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। তাছাড়া এখানে স্তন্যপায়ী বিশাল প্রাণী যেমন-হাতি, এন্টেলোপস, বাঘ এবং অন্যান্য প্রাণীদেরও দেখতে পাওয়া যায়।

এনামালাই বাঘ সংরক্ষণ কেন্দ্র

এটি তামিল নাড়ুতে অবস্থিত ছোট পাহাড়ি এলাকার পার্ক। এই পার্কের সেরা  উপাদান বাণিজ্যিক পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ের সঙ্গে জড়িত নয়। আপনি এখানে বন্যপ্রাণী যেমন- বন্য কুকুর, হরিণ, হাতি, বাঘ এবং অন্যান্য প্রাণী দেখতে পাবেন। এই পার্কের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো হলো নিশাচর প্রাণী, মারাত্মক কিং কোবরা, বিরল জঙ্গলের বিড়াল এবং অন্যান্য। আপনি এই পার্কের মধ্যে ২৫০ টিরও বেশি প্রজাতির পাখি খুঁজে পেতে পারেন।  

কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্ক

Eenadu Bangla HomeEenadu Bangla Home

এই পার্কটি ভারতের আসাম রাজ্যের গোলাঘাট ও নগাঁও জেলায় অবস্থিত। এখানে এক শিং ওয়ালা গন্ডারের দুই তৃতীয়াংশ বাস করে এবং বেঙ্গল টাইগারের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া এখানে প্রচুর হাতি, বন্য জল মহিষ, বারশৃঙ্গার, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সংরক্ষণ করা হয়। কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কে প্রায় ৩৫ ধরণের স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রজনন ও আবাসস্থল। এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে পরিণত হয়েছে।

blog.travelogyindia থেকে অনুদিত।