ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত বাংলাদেশের একমাত্র স্থান এবং পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন, আমাদের অহংকার, আমাদের সুন্দরবন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবস্থিত প্রায় ১০ হাজার বঃকিঃমিঃ আয়তনের এই বনভূমি যা বাংলাদেশ অংশে ৬০১৭ বঃকিঃমিঃ।

চিত্রা হরিণচিত্রা হরিণ

এখানে সুন্দরী গাছ ছাড়াও দেখতে পারবেন গোলপাতা, গেওয়া, গরান সহ অনেক ধরণের বৃক্ষ। আর প্রাণীর মধ্যে আছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর কুমীর, বিভিন্ন ধরনের পাখি ও সাপ সহ বিভিন্ন ধরনের জীবজন্তু। তবে আপনি বাঘ মামার সাক্ষাৎ পাবেন না। অসংখ্য হরিণ ও বানর দেখা মিলবে যত্রতত্র। আর ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকলে কুমীরের সাথে দেখা হইলেও হইতে পারে।

গোলপাতাগোলপাতা

অসাধারণ সৌন্দর্যের এই বনভূমি তাই দেশ বিদেশের প্রকৃতি প্রেমিকদের কাছে সব সময়ই পছন্দের শীর্ষে। তবে সুন্দর বন ভ্রমণের একটি বড় অসুবিধা হচ্ছে অন্য জায়গার মত হুটহাট করে কয়েকজন মিলে যাওয়া যায় না। কারণ এই বন ঘুরতে হলে প্রয়োজন কমপক্ষে ৩ দিন। আর এই কয়দিন আপনাকে নৌকা বা লঞ্চে খাওয়া ও রাত্রি যাপন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

মদনটাঁকমদনটাঁক

সুন্দরবনের প্রচলিত ট্যুরগুলো সাধারণত ৩ দিন ও ২ রাতের হয় এবং সেটা হয় খুলনা দিয়ে। আর খরচ লাগে জন প্রতি ৭০০০/- থেকে ১০,০০০/- টাকা। কিন্তু সবার পক্ষে এত টাকা খরচ করা অনেক সময়ই সম্ভব হয় না। তাই যাদের সময় ও অর্থ দুটোরই অভাব তাদের জন্য এই লেখা। এই ট্যুরটা কম সময়ের হলেও সুন্দরবনের প্রকৃত রুপ ও সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

শ্বাসমূলশ্বাসমূল

এই পথের বিশেষ বৈশিষ্ট হলোঃ

১। ছোট খাল দিয়ে গহীন বনের ভিতর দিয়ে যেতে হয়। যা সাধারণত অন্যান্য পথে পাবেন না।

২। এই পথে যে পয়েন্ট যাওয়া হয়, সেটা হলো কলাগাছী। এইখানে অনেক বন্য হরিণ দেখতে পাওয়া যায় এবং নিজ হাতে হরিণগুলোকে আদরও করতে পারবেন।

কাঠের তৈরী ট্রেইলকাঠের তৈরী ট্রেইল

৩। এইখানে যে কাঠের তৈরী ট্রেইল আছে সেটিও সুন্দর এবং এই ট্রেইলে অসংখ্য বান্দর ও এদের বাদরামীও দেখতে পারবেন।

৪। এখানে একটি ওয়াচ টাওয়ার আছে। যেখান থেকে বন দেখতে পারবেন।

খলপেটুয়া নদীতে চিংড়ী পোনা সংগ্রহখলপেটুয়া নদীতে চিংড়ী পোনা সংগ্রহ

৫। এখানে হরিণ ও বানরের পাশাপাশি বিভিন্ন পাখী দেখা যায়। যেমন বক, মাছরাঙ্গা, মদনটাঁক।

৬। এখানে খলপেটুয়া নদীতে ছোট ছোট নৌকা নিয়ে জেলেদের চিংড়ী পোনা সংগ্রহও দেখতে অসাধারণ লাগে।

নদীর ধারে বন্য হরিণনদীর ধারে বন্য হরিণ

যেভাবে যাবেনঃ

যেভাবেই যান প্রথমে যেতে হবে সাতক্ষীরা। সেখান থেকে শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ। সাতক্ষীরা থেকে দুরত্ব ৬৫ কিঃমিঃ। তবে রাস্তা খারাপ। এখান থেকেই বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে, ফি দিয়ে নৌকা ভাড়া করে যেতে হবে। নৌকা ভাড়া ২০০০/- থেকে ২২০০/- টাকা যাওয়া আসা। সাতক্ষীরা > মুন্সীগঞ্জ > কলাগাছী।

ওয়াচ টাওয়ারওয়াচ টাওয়ার

বিঃদ্রঃ

যারা এখানে রাত কাটাতে চান তাদের জন্য এখানে ( মুন্সীগঞ্জে) আছে সুশীলনের গেষ্ট হাউজ (০১৭২০৫১০১৯৯, ০১৯১২৮৪৮৮৪০)। আর যারা আরো বেশী দেখতে চান অথবা অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় তারা ইচ্ছা করলে ২ রাত ও ৩ দিন হাতে সময় নিয়ে ঘুরতে যেতে পারেন মাদারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, হিরন পয়েন্ট, লালকাঁকড়া অধ্যুষিত বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড, পুটনীর আইল্যান্ড সহ অনেক জায়গায়। সাথে উপভোগ করতে পারবেন বনভূমিতে রাত কাটানোর রোমাঞ্চকর মূহুর্ত এবং অর্জন করতে পারবেন নদী থেকে মাছ ধরে খাওয়ার এক বিরল অভিজ্ঞতা। আর এই ট্যুরের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন সাতক্ষিরার সন্তান তমজীদ মল্লিক (০১৭১২-৫৭৪৩৩৮) এর সাথে।