আমাদের গ্রহে এককালে নানা জাতের হাতি থাকলেও এখন টিকে আছে মাত্র ২ জাতের- আফ্রিকান হাতি এবং এশিয় হাতি। আফ্রিকান হাতি প্রথম দেখেছিলাম ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার এক জাতীয় উদ্যানে
আর বুনো এশিয় হাতি প্রথম দেখলাম নেপালের চিতোয়ান বনে, পরে ভারতের কাজিরাঙায়, বাংলাদেশের নানা পাহাড়ি বনে। নিচের ছবিটি চুনতিতে তোলা।

বুনো এশিয় হাতিবুনো এশিয় হাতি

মানুষের লোভের শিকার হয়ে হয়ত ভবিষ্যৎ জগতে হাতি বলে কোন প্রাণীই থাকবে না।

হাতি দলবদ্ধ জন্তু। দলপতি হয় সবথেকে শক্তিশালী দাঁতাল। দলের কেন্দ্রে বাচ্চাদের ঘিরে থাকে মা-দিদিমারা। বাচ্চারা বড় হলে দলের বাইরের সারীতে স্থান নেয়। দলছুটও হতে থাকে। পরিণত দাঁতালরা নিজেদের দল গঠনের চেষ্টা করে। তরণ দাঁতালরা "মস্ত" হবার মরসুমে কানের সামনে অবস্থিত "মস্তগ্রন্থি"র অত্যধিক ক্ষরণে মত্ত বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং দলপতি বা অন্য দাঁতাল বা যেকোন শাসনকারীকে(যেমন মাহুত) আক্রমণ করে। তখন দলপতি লড়াই বা আত্মগোপনের চেষ্টা করতে পারে। গজদন্তহীন পুরুষ হাতিদের বলে মাকনা। এরা মাদী হাতিদের মধ্য লুকিয়ে থাকতে পারে, এবং দাঁতালদের অজ্ঞাতসারে বংশবিস্তার করতে পারে।

হাতির গর্ভকাল প্রাণীরাজ্যে দীর্ঘতম- প্রায় দুবছর (২২ মাস)। গল্পে একশ বছর বাঁচে বলা হলেও হাতিরা আসলে ৬০-৭০ বছরের বেশি বাঁচেনা। কারণ এদের জীবদ্দশায় ছয়বার (আমাদের মত দুবার নয়) কষদাঁত বের হয়, আবার চিবিয়ে চিবিয়ে ক্ষয়ে যায়- কষদাঁতের শেষ সেট ষষ্ঠম দশকে গজায়, যা ক্ষয়ে যাবার পর অনাহারে মৃত্যু অনিবার্য।