আমরা বিপজ্জনক প্রাণী বলতে বুঝি বাঘ, সিংহ কিংবা সাপকে। কিন্তু এমন অনেক প্রাণী আছে যারা আকারে ছোট হলেও বিপজ্জনক প্রাণীর তালিকায় এদের স্থান শীর্ষে। আজকের আমাদের আয়োজন পৃথিবীর সবথেকে বিপজ্জনক ১০ টি প্রাণী নিয়ে।

১। বক্স জেলিফিস।

 

জেলিফিসের অনেক ধরনের প্রজাতি রয়েছে যাদের অনেকগুলোই মারাত্মক বিপজ্জক। কিন্তু সবচেয়ে বিপজ্জনক হল বক্স জেলিফিস। এবং শুধু জেলিফিসের মধ্যে নয় বরং পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণী এটি। এদের লম্বা লম্বা শুঁড়গুলোতে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাঁটা থাকে যেগুলো খুবই বিষাক্ত। এই কাঁটা ফুটে গেলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। সমুদ্রের পানিতে প্রায় অদৃশ্য প্রাণী দ্বারা প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়।

২। কোন শামুক।

 

এই শামুকের অপর নাম সিগারেট শামুক। কারণ এই শামুকের বিষ দ্বারা কেউ আক্রান্ত হলে একটা সিগারেট শেষ করতে যে সময় লাগে ঠিক ততটুকু সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যায়। এই শামুকের খোলসের ভেতরে সুঁইয়ের মত একটা কাঁটা লুকানো থাকে। এটা কেউ ভুল করে হাতে তুলে নিলে সে কাঁটাটি বের করে দেয়। ওই কাঁটা ফুটে গেলে সাথে সাথে দেহে বিষ ছড়িয়ে পড়ে।

৩। ব্ল্যাক মাম্বা সাপ।

 

পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত সাপ হচ্ছে ব্ল্যাক মাম্বা। এই সাপের মুখের ভেতর এবং গায়ের রঙ কালো হয়। এরা প্রচুর দ্রুত ছুটতে পারে। তাই এদের ঘাঁটানো কখনোই ভালো হবে না। এই সাপ খুব দ্রুত গতিতে ছোবল দেয় এবং অনেক পরিমাণে বিষ ঢেলে দেয়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির বাঁচার সম্ভাবনা খুব কম থাকে।

৪। বন্য মহিষ।

 

আফ্রিকার কেপ মহিষ বিপজ্জনক প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম। এর মারাত্মক বিষ না থাকতে পারে কিন্তু যদি এই প্রাণী আক্রমণ করে বসে তাহলে শিঙ দিয়ে এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয়। আফ্রিকার সিংহও এই প্রাণীকে এড়িয়ে চলে। এই প্রাণী ভয় পেয়ে গেলে এবং নিজের বাচ্চাকে রক্ষা করতে হলে একদম মরিয়া হয়ে উঠে এবং সামনে কি আছে কে আছে কিছুই দেখে না।

৫। সিয়াফু পিঁপড়া।

 

এই পিঁপড়াকে ড্রাইভার পিঁপড়াও বলা হয়। এই পিঁপড়ারা দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায় এবং এক একটা দলে প্রায় ৫ কোটি পিঁপড়া থাকে। এরা সবকিছু সম্মিলিতভাবে করে তাই মনে হই সবাই মিলে একটা বিশাল এককে পরিণত হয়েছে। কেউ যদি এদের উপর পা দিয়ে বসে তাহলে সবাই মিলে একসাথে আক্রমণ করে বসে। এদের চোয়াল মাংস কেটে ফেলতে পারে এমনকি পুরো মানুষকে খেয়ে সাবাড় করে দিতে পারে।

৬। ডেথস্টকার বিচ্ছু।

 

বিচ্ছুদের মধ্যে সবথেকে মারাত্মক এই বিচ্ছু। প্রতিবছর বিচ্ছু দ্বারা আক্রান্ত ৪ ভাগের ৩ ভাগ মানুষ এই বিচ্ছুর মাধ্যমে আক্রান্ত হয়। এই বিচ্ছু দ্বারা বাচ্চারা বেশি আক্রান্ত হয় এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় বাচ্চারা বেশি মারা যায়।

৭। পাফার মাছ।

 

খুব সুন্দর দেখতে হলেও এই প্রাণী মারাত্মক বিষাক্ত। শত্রু দেখলে এই মাছ কাঁটা বের করে দেয়। এই কাঁটায় থাকে মারাত্মক বিষ। যে দেহে প্রবেশ করলে তা মানুষকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে ফেলে এবং ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে না পেরে মারা যায়।

৮। হায়েনা।

 

হায়েনা খুবই ধূর্ত শিকারি। এরা যদি একবার মানুষের মাংসের স্বাদ পায় তবে খাবারের অভাব হলে এরা মানুষের উপর হামলা করে বসে। হায়েনারা সবচেয়ে মারাত্মক হয় যখন এরা দলবেঁধে থাকে।

৯। স্টোন মাছ।

 

এই মাছ অনেকটা পাথরের মত দেখতে। এর পিঠের উপর পাখানা দিয়ে ঢাকা একটা কাঁটা থাকে। কেউ ভুলবশত এদের উপর পা রাখলে সেই কাঁটা ঢুকে যায়। এই কাঁটার মাধ্যমে মারাত্মক বিষ শরীরে প্রবেশ করে। এই বিষ প্রাণঘাতী হতে পারে।

১০। মানুষ।  

 

মানুষের মারাত্মক বিষ নেই, ধারালো শিং, নখ কিংবা দাঁত নেই। কিন্তু মানুষ পৃথিবীর সবথেকে বিপজ্জনক প্রাণীগুলোর একটি। কারণ মানুষ বহুদিনের বিবর্তনে তার হাতকে ব্যবহারের নানা কৌশল আবিষ্কার করেছে। প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞান মানুষকে করে তুলেছে সবথেকে বিপজ্জনক। নতুন আবিষ্কার প্রযুক্তি ও অস্ত্র কিভাবে পৃথিবীতে তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে সবাই জানে। তাই ইতিহাস দেখলে সহজেই বলা যায় পৃথিবীর সবথেকে মারাত্মক বিপজ্জনক প্রাণী এই মানুষ।  

সূত্র- conservationinstitute.org